আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

আমেরিকান বন্দুক কিনলেই সীমান্তে সুবিধা করতে পারবেন না ভারত: চীনা বিশেষজ্ঞ

REPORT-2-ENG-30-09-2020-China

ভারত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে ৩১০ মিলিয়ন ডলারের (২,২৯০ কোটি রুপি) রাইফেল কেনার পরিকল্পনা করেছে তাতে চীনের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনায় তাদের কোন লাভ হবে না। তাছাড়া সম্প্রতি তারা যেসব সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে তাদের কুটিলতাও প্রকাশ পেয়ে গেছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলছেন।

অজ্ঞাত পরিচয় ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার ডেক্কান ক্রনিকলের এক রিপোর্টে বলা হয়, চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে পাহারার কাজে নিয়োজিত সেনাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭২,০০০ সিগ সুয়ের অ্যাসল্ট রাইফেল কেনা অনুমোদন করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। 

সেই ২০১৭ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী রাইফেল, হালকা মেশিনগান ও কারবাইন কিনে তাদের পুরনো ও বাতিল পদাতিক অস্ত্রগুলো বাতিল করে দিতে চাইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চীনা সামকির বিশেষজ্ঞ মঙ্গলবার গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ভারতের নিজস্ব তৈরি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ আইএনএসএএস রাইফেল পরিবর্তনের জন্য আমেরিকান রাইফেল কেনার সিদ্ধান্ত আবারো ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতির দুর্বলতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের নিম্নমান তুলে ধরেছে।

ভারত আরো হাজার হাজার একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এগুলো রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। 

সারা দুনিয়া থেকে রাইফেল সংগ্রহের কারণে ভারতকে বহু ধরনের কমপ্যাটিবিলিটি ও লজিস্টিক সহায়তা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এটা সেনাবাহিনীর জন্য গুরুতর বোঝা বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। 

ওই সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেন, রাইফেলের মতো পতাদিক অস্ত্র বদল করলেও চীন ও ভারতের মধ্যে শক্তির ভারসাম্যে তেমন হেরফের হবে না। এতে বড়জোর ভারতের কিছু অসুবিধা দূর হতে পারে।

সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সামরিক কমান্ডার পর্যায়ে সর্বশেষ দফা বৈঠকের পরও ভারত সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। 

ভারত এসব কেনাকাটা ছাড়াও সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণ করছে বলে জানা গেছে।

এর জবাবে মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ভারতের অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ইউনিয়ন টেরিটরি লাদাখকে চীন স্বীকার করে না। সামরিক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণেরও বিরোধিতা করে।

ওয়াং বলেন, ভারত ও চীনের সর্বশেষ ঐক্যমত অনুযায়ী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় কোন পক্ষই সীমান্ত এলাকায় এমন কোন পদক্ষেপ নেবে না যা পরিস্থিতিকে জটিল করবে।

কিন্তু ভারত ও জাপান শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আরব সাগরে যৌথ নৌমহড়া চালিয়েছে, ভারত ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে তৈরি পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন পৃথিবী-২ ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় এবং নির্দয় শীতকালে অন্তত চার মাসের জন্য সীমান্তে যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখতে সেখানে অস্ত্র, জ্বালানি, খাদ্য ও শীতের রসদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় লজিস্টিক অপারেশন বলে মিডিয়া উল্লেখ করেছে।

চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছে যে এসব তৎপরতা থেকেই বুঝা যায় আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বদলে ভারত কুটিল পথে চলার চেষ্টা করছে।