আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে

ISSUE-3-ENG-31-10-2020-India

তিন সপ্তাহ ধরে পাঞ্জাবের কৃষকরা রংবেরঙের পাগড়ি পড়ে ধান ও গমক্ষেতের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইনের উপর ক্যাম্প বসিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা চা বানিয়ে, চাপাতি বানিয়ে, কার্ড খেলে, বা শুধুই গড়াগড়ি করে সময় কাটিয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের এই অবস্থানের ফলে রাজ্যের ২০০০ কিলোমিটারের রেল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। সেপ্টেম্বরে ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট খামার সংস্কারের বেশ কিছু বিল পাস করে। রাজ্যের আইনসভা সেই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার পর ২১ অক্টোবর রেল রুখো আন্দোলন বন্ধ হয়। কিন্তু ট্রেন এখনও চলছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের রেল মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক আটকে রেখেছে। ফলে পাঞ্জাবের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লা যেতে পারছে না, বাইসাইকেল কারখানার কাঁচামাল বা খামারগুলোর জন্য সার সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। 

এই যাতায়াত বন্ধ রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নিরাপত্তার কথা বলেছে। ২৮ অক্টোবর এটাকে খানিকটা শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু ইস্যুতে কেন্দ্রীয় রাজধানীর সাথে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং আটটি ইউনিয়ন অঞ্চলের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শুধু পাঞ্জাব নয়, আরও অনেক রাজ্যই সন্দেহ করছে যে, অন্যান্য শক্তি এখানে সক্রিয় থাকতে পারে। পাঞ্জাবের সরকার রয়েছে কংগ্রেসের হাতে, যারা বিজেপির প্রধানতম শত্রু, যে বিজেপি কেন্দ্রে এবং ১৭টি রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে। মোদি নির্বাচনী প্রচারণায় যেমন কট্টর জাতীয়তাবাদ, অনলাইন ট্রোলিংকে ব্যবহার করেছেন, তেমনি নির্বাচনের পর ভিন্নমতের রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তারা। পাঞ্জাবি সরকার খামার পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর কেন্দ্র ঘোষণা দিয়েছে যে, গ্রামীন উন্নয়নের জন্য বার্ষিক যে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার দেয় কেন্দ্র, সেটা আর দেয়া হবে না। 

কাগজে কলমে রাজ্য পরিচালনার দায় দায়িত্ব বিভিন্ন পর্যাযের সরকার কাঠামোর মধ্যে ভাগাভাগি করা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একের উপর অন্যের সুস্পষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে। খামারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে রাজ্যের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু বাস্তবে বিশেষ করে পাঞ্জাব সেচের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিনিয়োগ থেকে যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। সে কারণে এখানকার কৃষকরা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকের চেয়ে খামার পুনর্গঠনের প্রতি কম প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কংগ্রেসও এই ক্ষোভটাকে আনন্দের সাথে কাজে লাগাচ্ছে। 

আগের দশকগুলোতে রাজ্য কখনও উসকানি দিলে কেন্দ্রীয় সরকার মাঝে মাঝেই সাংবিধানিক কোন না কোন ধারা চাপিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকারগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট করেছে এবং সাময়িকভাবে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করেছে। সাধারণত নির্বাচনের ফল নিয়ে বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই ধরণের পদক্ষেপ নিতো সরকার, যে মাত্রাটা আস্তে আস্তে কমে এসেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায়, সঙ্ঘাতটা এখন আবার বেড়ে গেছে। কর থেকে নিয়ে রাজ্যের শাসন কাঠামোয় হস্তক্ষেপের ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেছে। 

রাজ্যের সাবেক অর্থমন্ত্রী হাসিব দ্রাবু – যিনি বিজেপির সাথে একসময় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে ‘কেন্দ্র আর রাজ্যের সম্পর্ক এতটা নিচে আগে কখনও নামেনি। কেন্দ্রীয় সরকার এর আগে কখনই এতটা দমনমূলক, নির্লজ্জ ব্যবহার করেনি”। তার রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর এখন আর নেই। রাজ্যের অধিকারকে নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করে গত বছর সাবেক এই রাজ্যটির উপর সরাসরি কেন্দ্রের শাসন জারি করেন মি. মোদি। রাজ্যকে দুই ভাগ করে, সেগুলোকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে নামিয়ে আনেন তিনি এবং কয়েক ডজন স্থানীয় রাজনীতিবিদদের গৃহবন্দি করেন। ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার আরও বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেয়। একতরফাভাবে রাজ্যের এক ডজন স্থানীয় আইনকে বাতিল করে আরও ২৬টিতে পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় সরকার।