আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, মে ০৬, ২০২১

ভারত-চীনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, বিরোধের চেয়ে ‘অভিন্ন স্বার্থ’ বহুগুণ বেশি: চীনা দূত

REPORT-4-ENG-15-10-2020-China (1)

ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত সান ওয়েদং বলেছেন যে ভারত ও চীনের মতো দুটি বড় দেশের মধ্যে মতভেদ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের ‘অভিন্ন স্বার্থ’ এত বেশি যে তা বিরোধকে বহু পেছনে ঠেলে দেয়।

তিনি বলেন, মতভেদকে বিরোধে পরিণত হতে দেয়া যাবে না। দূত আবারো সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। 

কয়েক দিন আগে চীন ও ভারতের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে আলোচনা ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে এই বক্তব্য পাওয়া গেলো।

‘মতভেদ থাকাটাই স্বাভাবিক’

১৯৩৮ সালে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সময় চীনকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে সেদেশে যাওয়া ভারতীয় চিকিৎসক দ্বারকনাথ কুতনিসের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্যকালে দূত এসব কথা বলেন। 

গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি সংঘর্ষের পর থেকে লাদাখের পূর্বাঞ্চলে উত্তেজনা চলছে। 

সান বলেন, ৭০ বছরেরও বেশি সময় আগে চীন ও ভারত তাদের জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতা আন্দোলনে পরস্পরকে সমর্থন ও সহায়তা করেছিলো। তাদের মধ্যে তখন থেকেই গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এখন দুই দেশের সামনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন হাসিল ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে। চীন-ভারত বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনার জন্য আমাদেরকে যেকোন সময়ের চেয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি ও সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। 

সীমান্তে অচলাবস্থা অব্যাহতচীনকে

সীমান্ত সম্পর্কে জটিলতা বিষয়ে সান বলেন যে দুই সভ্যতা চীন ও ভারতের মধ্যে বিনিময় ও পরস্পর থেকে শিক্ষা গ্রহণের কাজটি দুই হাজার বছরের বেশি সময় থেকে হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতভেদ ও মতপাথ্যর্কের চেয়ে তাদের অভিন্ন স্বার্থ বহুগুণ বেশি। আমি বিশ্বাস করি উভয়পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে, কঠিন পরিস্থিতি উৎরে যাওয়া এবং সামনে এগিয়ে যেতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনার মতো প্রজ্ঞা ও সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

প্রকৃত নিয়্ন্ত্রণ রেখায় দ্রুত সেনা সরিয়ে নেয়ার কাজে কোন অগ্রগতি না দেখে ভারতের চায়না স্টাডি গ্রুপ দুই দেশের মধ্যে ৫ মাস ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য সামরিক আলোচনাগুলো ব্যাপকভাবে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।