আমরা লাইভে English বুধবার, মার্চ ০৩, ২০২১

বাংলাদেশের ভূকৌশলগত স্বাধীনতা থাকতে হবে

20190830_maj_gen_muniruzza_01
মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান

মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে চীন-ভারতের দ্বৈরথসহ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও সামরিক প্রবণতা, বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানসহ নানা বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান

চীন-ভারতের সীমান্ত বিরোধের পরপরই এই দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় বইছে।

ভারতের সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিশাল সীমান্ত। চীনকেও বলা যায় নিকটের প্রতিবেশী। দুই দেশের কোনোটির দিকে না ঝুঁকেই আমাদেরকে তাদের সঙ্গে সমদূরত্বের কূটনীতি চালিয়ে যেতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এ ছাড়া অন্য কোনো পন্থা নেই।

অনেকে বলছেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশসহ তিন দেশই তাদের জাতীয় স্বার্থে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই’ এগিয়ে নিচ্ছে?

চীন ও ভারতের মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ছিল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে যা একটা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এসেছিল। সেটার রেশ বেশ কিছুকাল ধরে তারা একটা সম্মত অবস্থানে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে সেই ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক দ্বন্দ্বগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। তবে এটা কোনো একটা স্থায়ী সংঘাতের দিকে যাবে বলে আমি মনে করি না। কারণ, তারা উভয়ে জানে, বিশ্বের দুটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেদের স্বার্থের কারণেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘোচাতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হলেও আমরা আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করছি।

এই অঞ্চল এবং তার বাইরের কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবের ঢাকা সফর নিয়ে ‘দূরত্বের’ খবর ছাপছে। কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

গণমাধ্যম সর্বত্রই কিছু চাঞ্চল্যকর খবর ছাপানোর চেষ্টা করে। এটা গণমাধ্যমের অন্যতম আগ্রহ এবং সেটা কোনো ভুল বলে আমি মনে করি না। কিন্তু উভয় দেশের মধ্যে চলমান বাস্তবসম্মত কূটনীতি, যা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে করা হয়, সেখানে কোনো পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি না। জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে ভারত ও চীনের সঙ্গে সমদূরত্বের কূটনীতিতে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়ে চলছে।

সেখানে বড় বড় অগ্রগতির মধ্যে কিছু ছোটখাটো টানাপোড়েনের বিষয় টেনে আনা এই মুহূর্তে সমীচীন হবে বলে আমি মনে করছি না। কিছু টানাপোড়েন যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্বাভাবিক। তাই দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তন এসে গেছে, তা আমরা আমাদের বিশ্লেষণে দেখতে পাই না। একদিকে না ঝুঁকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করছি এবং সেভাবেই কাজ করা উচিত। কোনো ধরনের চাঞ্চল্যকর খবরের ভিত্তিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কারণ এখনো তৈরি হয়নি।

হিন্দুস্তান টাইমস তার সম্পাদকীয়তে বলল, ভুল নীতির কারণে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হারাতে চলেছে ভারত। ভুলগুলো কী?

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নানামুখী চাপ তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তি সম্পাদন করতে না পারা, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার মতো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত। তবে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাময়িক কিছু চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তিস্তার হিস্যা না পাওয়ায় বাংলাদেশে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে পরিবেশগত সংকট অন্যতম। এর নিরসনে ভারতের উদ্যোগহীনতার কারণে তাদের দিকে না তাকিয়ে থেকে বাংলাদেশ তার অন্যান্য বন্ধুর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতেই পারে। যেমন চীন তিস্তায় একটা বড় ধরনের প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে কথা বলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়ায় চীনের প্রস্তাবে বাংলাদেশ উৎসাহিত। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হবে।

কেউ বলছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশই প্রস্তাব দিয়েছিল।

আমার জানামতে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস চীনকে দেয়নি। আমরা অনেকে আশা করছি যে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনকে একটা ইতিবাচক সম্মতি দেওয়া হতে পারে। আর এটা ঘটলে তাতে অন্য দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।

জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে। এই ক্ষমতা বাংলাদেশ সংরক্ষণ করে। পানি ভাগাভাগি, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ করার মতো সমস্যাগুলো আলোচনার টেবিলে রাখতে হবে।

বিগত নির্বাচন সমর্থনসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের জড়ানোর খবরও দিয়েছে গণমাধ্যম।

চীনের দিক থেকে এ রকম কোনো অভিমত রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা দেখতে পাইনি। অবশ্য বড় বড় দেশ তাদের যে প্রভাববলয় থাকে, সেটাকে কাজের মাধ্যমে আরও বড় করার চেষ্টা করে। ভারত ও চীনের এ রকম চেষ্টা আমরা অতীতে দেখতে পেয়েছি।

সাম্প্রতিক রাজনীতিতে?

বাংলাদেশে চীনের এমন চেষ্টার নিদর্শন আমরা কিছুটা দেখতে পেয়েছি। তবে এটা আমরা কখনো আশা করব না যে কোনো বন্ধুরাষ্ট্র আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে।

চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নতুন ব্লক, কোয়াড (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত) হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য করণীয় কী?

কোয়াড একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির আওতায় এর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। নৌ মহড়া করছে। ইদানীং ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডকেও যুক্ত করতে চাইছে তারা। আমাদের উচিত হবে এ ধরনের কোনো সামরিক বা নিরাপত্তাগত ব্লকের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া। তবে কোয়াড কী করছে, তা আমাদের পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

চীনসহ পরাশক্তিগুলো ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সমুদ্রে খুব সক্রিয়। একটি সমুদ্র শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ কি তার যথাযথ ভূমিকা রাখছে?

আমি মনে করি, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবেষ্টিত রাষ্ট্র। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর যে কৌশলগত বা ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, সেটা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, কোয়াডের সমুদ্রমুখী সক্রিয়তা, দক্ষিণ চীন সমুদ্রে উত্তরোত্তর উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, এমনকি সংঘাতের বাস্তব আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মর্যাদা খুবই স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী?

সব দিক সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করে আমাদের সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে আমরা জানি, যখনই কোনো পরাশক্তির বিকাশ ঘটে, তখন সাধারণত সেটা সমুদ্রের ওপর ভিত্তি করে ঘটে। চীন ও ভারত এই দুই উদীয়মান পরাশক্তির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত মহাসাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশকে খুবই সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমরা যাতে কোনো দেশ বা ব্লকের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে পড়ি। ভারত মহাসাগর যেন পরাশক্তির দ্বন্দ্বের লীলাক্ষেত্রে পরিণত না হয়। তাই বাংলাদেশকে অবশ্যই মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

ট্রাম্প হেরে গেলে ডেমোক্র্যাটরা এলে এই অঞ্চলের মার্কিন কৌশলগত নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে?

বড় পরিবর্তন আসবে না। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশলগত দূরত্ব, যেটা একটা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র পার হয়ে আরও ওপরের দিকে যাচ্ছে, সেটা তেমন বদলে যাবে না। ভারতের সঙ্গেও যা আছে, তা–ই থাকবে। তবে দক্ষিণ এশীয় ক্ষুদ্র দেশগুলো, যার মধ্যে বাংলাদেশও আছে, তাদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে এত দিনকার ঔদাসীন্য ছিল, তার অবসান ঘটবে। এখানে একটা নতুন উপলব্ধিতে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কাছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর টেলিফোন তারই অংশ বলে আমি মনে করি। মালদ্বীপের সঙ্গে একটা নিরাপত্তাগত চুক্তিও করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অঞ্চলের একটা নতুন করে সম্পর্ক (এনগেজমেন্টস) হতে যাচ্ছে। যদি ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়, তাহলে এর ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।

অনেকে বলছেন, ভারতের চোখ দিয়ে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে (ভারতের প্রতিবেশীদের) দেখার ভুল নীতি থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমি যেটা বলছিলাম, এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর যে কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে, সেটা নতুন করে উপলব্ধিতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দেখছে, ভারতের সঙ্গে এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বর্তমানে কিছুটা হলেও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক অপরিবর্তিত রেখে ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়বে।

অনেকে বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের অনুকূলে কিছুটা হলেও তার অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। অবশিষ্ট বিশ্ব কি ভুলতে বসেছে?

আপনার সঙ্গে দ্বিমত করে বলব যে ভারতের অবস্থানগত পরিবর্তন আমরা এখনো দেখতে পাইনি; বরং বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু ভারত তাদের সেনাবাহিনীর অনুকূলে অবস্থান নিয়েছে। মিয়ানমারকে তারা সম্প্রতি সাবমেরিন দিয়েছে। এখন তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

সম্প্রতি ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয়েছে, সেই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তারা বাংলাদেশের অনুকূলে একটা উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা আমরা দেখিনি।

কিন্তু চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের আরও ভালো সম্পর্ক থাকলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন আরও উদাসীন। সে জন্য আমরা খুব উতলা হই না?

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে ঠিকই, কিন্তু চীনের কাছে মিয়ানমারের যে কৌশলগত গুরুত্ব, তার মূল্য আমাদের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে অনেক বেশি। দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তসহ মিয়ানমারে চীনের নানা কৌশলগত স্বার্থ জড়িত, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে তারা বড় একটা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সেটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিরাপত্তা পরিষদে চীন তাদের পক্ষে ভেটো দেয়।

বাংলাদেশের করণীয় কী হতে পারে?

আমাদের উচিত হবে ভারত ও চীনকে নতুন করে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই দুটি দেশই শুধু নয়, সার্ক-আসিয়ানসহ এই অঞ্চলের কোনো দেশই এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এটা আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, সেটা আমি সঠিকভাবে বলতে পারছি না।

তাহলে কি উৎসাহিত হয়েই মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে?

প্রথমেই বলতে চাই, বাংলাদেশ বন্ধুহীন নয়। প্রায় সব দেশের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের কাজ হলো, সবাইকে এটা বোঝানো যে এই সমস্যা বাংলাদেশের একার নয়। এটা প্রলম্বিত হলে সবার জন্যই সংকট তৈরি হবে। তবে প্রতিসাম্যের যে ভূমিকাটা, সেটা সম্পূর্ণভাবে সব পক্ষকে জানিয়ে রাখতে হবে। আমরা কোনোভাবেই আশা করব না, এখানে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যেটার মাধ্যমে ছোট আকারে হলেও কোনো সংঘাত আসতে পারে।

কার কাছ থেকে করোনার টিকা নেবে বাংলাদেশ?

প্রথমেই বলব, আমরা কোনো সংকীর্ণ টিকা রাজনীতিতে ঢুকতে চাই না। টিকা পেতে যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে যাব। ইদানীং দেখছি টিকা রাজনীতি, টিকা কূটনীতি বিস্তার লাভ করেছে। টিকাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে খুবই সংকীর্ণ রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরাশক্তিগুলো দেখছে। বাংলাদেশে চীনা টিকার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে জন্য তৃতীয়বারের মতো নেওয়া উদ্যোগও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জেনেছি। চীনকে এই সুযোগ দ্রুত দেওয়া উচিত। কারণ, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে টিকা আবিষ্কৃত হলে কম মূল্যে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের দেবে।

অক্সফোর্ডের টিকা ভারতের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রিটিশ সরকার ও অক্সফোর্ডের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে এর সঙ্গে আমরা অবশ্যই যুক্ত হতে পারি। তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে নয়।

আপনাকে ধন্যবাদ।

 ধন্যবাদ।