আমরা লাইভে English বুধবার, মার্চ ০৩, ২০২১

‘নাৎসি যুগ ফিরে আসছে ভারতে’: প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসিমি

INTERVIEW-ENG-04-05-2020

আরব আমিরাতের রাজকুমারী, হেন্দ আল কাসিমি, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত নারী। কারণ তিনি সামাজিক গণমাধ্যমে ভারতীয় উদ্যোক্তা সৌরভ উপাধ্যায়ের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। সারজাহর রাজপরিবারের সন্তান আল কাসিমি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে উপাধ্যায়ের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্য আরব আমিরাতে সাদরে গ্রহণ করা হবে না। ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান শত্রুতা সম্পর্কে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় একটি পত্রিকায় নিবন্ধও লিখেছেন। বিষয়টি এখন ভারত ও আরব আমিরাতের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। এই রাজকুমারি বলেন যে ভারতে নাৎসি যুগ ফিরে আসছে, যা সারা বিশ্বে ভারতীয়দের জন্য ক্ষতিকর হবে। দি উইকের সঙ্গে তার সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি সবর হলেন কেন?

উত্তর: ভারতে যা হচ্ছে সেটা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটা চলছে। এখনতো ঘৃণা ছড়ানো কণ্ঠগুলো আরো জোরালে হয়েছে এবং আমরা এখন দেখছি তারা মুসলমান, খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নেমে গেছে। শুধু হিন্দুরা হিরো, আর বাকিরা অচ্ছুত - এমন ভারতের বিলোপ চেয়েছিলেন গান্ধী। হঠাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে যেন নাৎসি যুগ ফিরে আসছে।

আমি স্বীকার করছি যে ইসলামের নামে এমন কিছু কাজ করা হচ্ছে যেগুলো ইসলামিক নয়। মুসলিম পণ্ডিতরা সেগুলো অনুমোদন করেন না। কোন উপাসনালয় ভাঙ্গার অনুমতি ইসলাম দেয়নি, এমনকি যুদ্ধের সময়ও। কোন পুরহিতকে আঘাত করা যাবে না। নারী ও শিশুকেও আঘাত করা যাবে না। বৃক্ষ ও ফসলের হানি করতেও বারণ করা হয়েছে… আমি বিশেষভাবে মোগলদের কথা বলছি। সবার মনে রাখতে হবে মোগলরা ছিলো চেঙ্গিস খানের বংশধর, নবী মুহাম্মদ (সা:)-এর নয়। এখন ৭০০ বছর পর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। কারণ এটা হয়েছে চোখের বদলে চোখ নেয়ার মতো করে। এটা না হয় মানলাম হিন্দু মন্দিরের উপর বানানো হয়েছে যুক্তিতে। কিন্তু মুসলমাদের কেন বয়কট করা হবে সেটা আমার বুঝে আসছে না।

আরও পড়ুনঃ যদি বলি হিন্দুরা আরব আমিরাতে আসতে পারবে না, তবে কেমন হবে: প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসিমি

অনেক হিন্দু মনে করেন মুসলমানরা নাকি হিন্দু ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছে। কিন্তু ভারত থেকে হিন্দু ধর্মকে কেউ যেমন মুছে ফেলতে পারবে না তেমনি ইসলামকেও ভারত থেকে মুছে ফেলা যাবে না। সেখানে হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে ইসলামের।

প্রশ্ন: সামাজিক গণমাধ্যমের প্রচারণা কি ভারত-আমিরাত সম্পর্কের ক্ষতি করছে?

উত্তর: ভারতে যা হচ্ছে এবং মুসলমানদের  সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে আরব আমিরাতের মানুষ সচেতন। এই ক্ষতি বন্ধ করা হবে বলে তারা অপেক্ষা করছে। আমি শুনেছি ভারতে আটক কেন্দ্র বানানো হচ্ছে। চীনে ১.৮ মিলিয়ন ইউঘুর মুসলমানকে নাকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ভারতেও এমনটি হওয়া উদ্বেগজনক। ভারতও আরব আমিরাতের মতো একটি মানব মিলন কেন্দ্র। আমরা ভারতের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হই।

আমিরাতে ভারতীয়দের সবসময় স্বাগত জানানো হয়েছে কারণ তাদেরকে আমরা কখনো শত্রু ভাবিনি। ভারত ও আরব আমিরাতের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্ব রয়েছে। আমি আশা করি ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ইসলামোফোবিয়ার অবসান হবে এবং দেশটি অনেক বেশি মাত্রায় বহুজাতিক ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাবে।

প্রশ্ন: ভারত সরকার কি যথেষ্ঠ করছে না? 

উত্তর: দু:খের বিষয় ভারত সরকার যথেষ্ঠ কিছু করছে না। আমি খুবই হতাশ। তারা মনে করে বিষয়টি উপেক্ষা করলেই সব কিছু চলে যাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সচেনতা বাড়ছে। শুধু আরব বিশ্বেই নয়… ইন্দোনেশিয়াতে সবচেয়ে বেশি মুসলমান রয়েছে। তোমরা কি মনো করো পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুসলমানরা চুপ করে থাকবে? এর ফল শুধু ভারতের হিন্দুরাই ভোগ করবে না, এর ডোমিনো ইফেক্টও হবে।

আরও পড়ুনঃ আরবরা কেন ভারতের ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন

প্রশ্ন: ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে।

উত্তর: অবশ্যই ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। নেতারা চুপ করে থাকলেও জনগণ কি চুপ থাকবে? থাকবে না। আমি ইউরোপ আমেরিকার হিন্দুদের নিয়েও আশঙ্কা করছি। তাদেরকে নব্য নাৎসি হিসেবে দেখা হতে পারে।

প্রশ্ন: আরব আমিরাতে হিন্দুদের উপর আঘাত আসতে পারে?

উত্তর: আরব আমিরাত খুবই সহনশীল দেশ। কিন্তু এখন হিন্দুদের ব্যাপার অবিশ্বস তৈরি হয়েছে। আগে এমনটা ছিলো না। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া ঘোষণা এবং পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ভারতীয়রা কঠোর পরিশ্রমী। আমি তাদেরকে নাৎসী তকমা দিতে চাইনা। ভারত একমাত্র দেশ যে কিনা কোন দেশ অধিকার করেনি। অথচ তিব্বত অধিকার করেছে চীন।

প্রশ্ন: আপনি কি বিজেপি বা সংঘ পরিবারকে দায়ি করবেন?

উত্তর: আমি ভারতীয় রাজনীতির ব্যাপারে তেমন জানি না। আমি যখন টুইটারে কথা বলি তখন আমাকে তাবলিগি জামাতের পক্ষ নেয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা কারা সেটাও আমি জানি না। আমি শুধু জানি তারা মুসলমান। উপাধ্যায়ের মতো যেসব লোক আমার ধর্ম, আমার নবী, আমার দেশ, আমার জীবিকা ও আমার জাতিগত বিষয়ের উপর হামলা করছে আমি শুধু তাদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। ভারতে শিগগিরই মুসলিম বিরোধী মনোভাবের অবসান ঘটবে, সেই আশা আমি করি। পরিস্থিতি সংশোধন করা যাবে, আমি আমি নিশ্চিত।

আপনি কি কোন আশা দেখছেন?

উত্তর: অবশ্যই, কারণ এটা ভারত।