আমরা লাইভে English বুধবার, মার্চ ০৩, ২০২১

পাকিস্তানের নতুন রাজনৈতিক ম্যাপ: একটি মাস্টার স্ট্রোক?

INTERVIEW-ENG-10-08-2020

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ হাসান আলম শাদ তার বিষয়ে ব্যাপক লেখালেখি করেন। তিনি দি হেগে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্টের দফতরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি গ্লোবাল ভিলেজ স্পেসের সম্পাদক নাজমা মিনহাজ এই হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে গ্রাজুয়েট হওয়া আইন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। তার লক্ষ্য ছিলো আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের নতুন রাজনৈতিক ম্যাপ প্রকাশের বিষয়টিকে বোঝা। সাক্ষাতকার:

পাকিস্তানের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রের তাৎপর্য কি?

আইনি প্রসঙ্গে আলোচনার আগে এর রাজনৈতিক মাত্রটি বোঝা দরকার। গত এক বছর ধরে পাকিস্তান ও ভারতের কাছ থেকে বক্তব্য আসছে। ভারত ক্রমেই একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র হয়ে উফছে। সেখানে মুসলমানদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। অযোধ্যায় আসলে হিন্দু রাষ্ট্রের পত্তন করা হয়েছে। 

অন্যদিকে পাকিস্তান তার রাক্ষসদের হত্যা করতে ব্যস্ত ছিলো। রাষ্ট্রটি অনেক অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, অনেক বেশি বহুত্ববাদী সমাজ হয়েছে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর রাজনৈতিক মাত্রা আছে। যেমন কারতারপুর করিডোর খুলে দেয়া। কিন্তু ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে অবাক করে দেয়। 

গত ৭০ বছর যেন আমরা তন্দ্রায় ছিলাম। আমরা বুঝতে পারলাম যে আমরা অলস বসেছিলাম। বিশ্বের কাছে বিকানোর মতো সুসঙ্গত কোন ধারণা আমাদের কাছে ছিলো না। ভারত আমাদেরকে বেকায়দা অবস্থায় ফেলে দেয়।

গত এক বছরে আমরা বুঝতে পারি আমাদের এই বয়ানের লড়াইটিকে ভারতের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এটা আমরা গত বছর সফলভাবে করতে পেরেছি।

তাহলে, ম্যাপটি কি যুদ্ধের বয়ান ভারত ও আন্তজর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার অংশ?

গত বছর পাকিস্তান বিশ্বের কারছে কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এ ব্যাপারে তারা খুবই সোচ্চার ছিলো। আমি একে বলবো কার্টোগ্রাফিক মাস্টারস্ট্রোক, এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না।

প্রথম পাকিস্তান পুরো জম্মু-কাশ্মীরকে বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়েছে। এখন সে পুরো জম্মু-কাশ্মীর ও গিলগিট বাল্টিস্তানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়েছে। বিশ্বের কাছে পাকিস্তান পরিচ্ছন্ন থেকেছে। ভারত যা করেছে সেদিকে পাকিস্তান পা বাড়ায়নি। পাকিস্তান দেখিয়েছে ভারতের দখল করা অবৈধ ভূখণ্ড আসলে তার অংশ।