আমরা লাইভে English বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

ভারতের সাথে উত্তেজনার মধ্যে তিব্বতে অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা চীনের

ISSUE-2-ENG-05-09-2020-China

তিব্বতে এক ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি অর্থ ব্যায়ে নতুন ও আগে ঘোষিত অবকাঠামো নির্মানের পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। 

প্রত্যন্ত দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের অনুন্নত এলাকায় উন্নয়নের গতি বাড়ানোর জন্য বেইজিং যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে বোঝা যায় ভারতের সাথে সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ফ্রন্টলাইনের নিরাপত্তা জোরদারের ইচ্ছা রয়েছে চীনের। 

গত সপ্তাহে তিব্বতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আয়োজিত কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফ্রন্টলাইন সেনাদের অর্জনের প্রশংসা করেন। তবে ওই অঞ্চলে আরও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। 

তিনি বলেন, সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়েসহ বেশ কিছু বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও সরকারী ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ করা হবে। সিনহুয়া বার্তা সংস্থায় এ খবর জানানো হয়েছে। 

নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উচ্চ সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়ে লিঙ্ক, নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে রেললাইন স্থাপন – যেটা এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে, এবং তিব্বত স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে নতুন শুকনো বন্দর গড়ে তোলা। 

সূত্ররা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, কারণ তারা এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত নন। 

এটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি যে, পরিকল্পিত ব্যায়ের মধ্যে কতটুকু নতুন এবং কতটুকু আগে গৃহিত প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট। 

এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও চীনের স্টেট কাউন্সিলের তথ্য অফিস এবং তিব্বতের আঞ্চলিক সরকার তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য করেনি। 

দুটি সূত্র জানিয়েছে, সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়ের সবচেয়ে জটিল অংশটির নির্মাণ সামনের সপ্তাহগুলোতে শুরু হবে। এই লিঙ্কের মাধ্যমে চেংদুর সাথে লাসা যুক্ত হবে। 

বেইজিং একই সাথে তিব্বত-নেপাল রেলওয়ে লিঙ্কের কাজও এগিয়ে নিতে চায়। এই রেললাইনের মাধ্যমে কাঠমাণ্ডুর সাথে তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শিগাতসে যুক্ত হবে। ২০১৮ সালে নেপাল আর চীনের মধ্যে যে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়, তার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। তবে প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনও তেমন হয়নি। 

নেপালের অবস্থান চীন আর ভারতের মাঝখানে এবং নয়াদিল্লী নেপালকে তাদের স্বাভাবিক মিত্র মনে করে। তবে চীন সহায়তা এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে নেপালে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। 

জুনে চীন-ভারত সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা প্রশমনের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে তিব্বতের সাথে যোগাযোগ দ্রুততর করার জন্য বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে আসছে। এখন তারা বিদ্যমান রেলের উন্নয়ন করে এবং সেটা আরও সম্প্রসারিত করে চীনের অন্যান্য অংশের সাথেও সেখানে যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায়। 

গত মাসে, চীন ঘোষণা দেয় যে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিদ্যমান নেটওয়ার্কের এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ বাড়ানো হবে। 

দুটো সূত্র জানিয়েছে, তিব্বতের ব্যাপারে যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, সেখানে রেলওয়ের পাশাপাশি হাইওয়ে, সড়ক ও আকর্ষণীয় স্থানগুলোর উন্নয়নেরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

বেইজিং ১৯৫০ সালে তিব্বতে সেনা পাঠায় এবং সেখানে এখনও চীনা সেনাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে, যেখানে সবসময় অস্থিরতার আশঙ্কা ছিল। 

তিব্বতের ব্যাপারে সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে চীন বলে এসেছে যে, প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য সেখানে চীনের যাওয়া প্রয়োজন ছিল। চীন তিব্বতের সংস্কৃতি ও ধর্মকে শ্রদ্ধা করে বলেও জানিয়েছে চীন।