আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

কাশ্মীর: ‘বিকলাঙ্গ, অন্ধ, হত্যা করতে পেলেট বন্দুক ব্যবহার করছে ভারতীয় বাহিনী’

ISSUE-4-ENG-05-09-2020-Kashmir

অধিকৃত কাশ্মীরে জনসমাবেশ দমনের হাতিয়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক রীতি লঙ্ঘন করে ভারতীয় বাহিনী পেলেট বন্দুক ব্যবহারের মাধ্যমে অঙ্গহানি, অন্ধ ও মানুষ হত্যা করছে। শুক্রবার বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ কথা বলেছে। 

 এইচআরডব্লিউ-এর দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতীয় সেনারা বার বার কাশ্মীরে পেলেট বন্দুক ব্যবহার করছে, যা বিক্ষোভকারী ও পথচারীদের দেহে বেদনদায়ক, গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই অস্ত্র নির্বিচারে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষত সৃষ্টি করছে এবং এটা আন্তর্জাতিক মান ও আইন যেমন বল প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বিষয়ক জাতিসংঘের মৌলিক নীতিমালার লঙ্ঘন।

গত সপ্তাহে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মহররমের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে পেলেট বন্দুক ব্যবহার করার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতি দেয় এইচআরডব্লিউ। ওই ঘটনায় অন্তত ছয় জন গুরুতর আহত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভারতীয় নেতাদের যারা দাবি করছেন যে তাদের নীতি কাশ্মীরীদের জীবন উন্নত করছে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে জনগণের অঙ্গহানী, অন্ধ ও নিহত হওয়াকে উপেক্ষা করতে পারেন না।

এইচআরডব্লিউ বলে, ভারতীয় বাহিনী এক দশক আগে এই বন্দুক ব্যবহার শুরু করার পর থেকে এর গুলিতে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে, অন্ধ হয়ে গেছে।

এইচআরডব্লিউ বলে, আন্তর্জাতিক আইনে এমনকি সহিংস বিক্ষোভকারীদের উপরও এমন বলপ্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে যা নির্বিচারে বা অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি করে।

ইন্ডিয়াস্পেন্ড-এর সূত্র উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ বলে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেলেট ১৩৯ কাশ্মীরীকে অন্ধ করেছে।

কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি জানান, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেলেটে ৬,২০০ জন আহত হয়েছে, এদের মধ্যে ৭৬২ জনের চোখের ক্ষতি হয়েছে।  

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত সরকারকে জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে পেলেট গানের মাধ্যমে ধাতব টুকরা ছোঁড়া বন্ধ করতে হবে।

বিতর্কিত অঞ্চল

হিমালয়ান রাজ্য কাশ্মীর আংশিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে। দুই দেশই এর পূর্ণ মালিকানা দাবি করে। এর সামান্য একটি অংশ চীনও নিয়ন্ত্রণ করছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে তার দুটি কাশ্মীর নিয়ে: ১৯৪৮ ও ১৯৬৫ সালে। 

ভারতীয় শাসন থেকে মুক্তি পেতে কিছু কাশ্মীরী গ্রুপ জম্মু ও কাশ্মীরে সশস্ত্র আন্দোলন করে যাচ্ছে।

বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে দেখা যায়, ১৯৮৯ সাল থেকে সেখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।