আমরা লাইভে English বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

আন্ত:আফগান আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা ‘গুরুত্বপূর্ণ’: বিশেষজ্ঞ

ISSUE-2-ENG-16-09-2020-Afg

আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সমঝোতা আনতে এবং কয়েক দশকের যুদ্ধের ইতি টানার উদ্দেশ্যে তালেবানদের আন্ত:আফগান আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা এ মত জানিয়েছেন। 

শনিবার দোহাতে এই মাইলফলক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-তালেবান চুক্তি হয়। 

আলোচনায় স্থায়ী অস্ত্রবিরতি, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির মতো কঠিন ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। 

পেশোয়ার-ভিত্তিক আফগান বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনাএল মাহমুদ শাহ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, “তালেবানদের কাবুল সরকার আর অন্যান্য পক্ষের সাথে আলোচনায় বসানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানে নিরবে কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে”।

শাহ বলেন, “তালেবানদের সাথে অন্যদের সরাসরি আলোচনার ভিত্তি তৈরির জন্য বহু মাস ধরে সমঝোতা চলেছে”। তিনি আরও বলেন যে, “ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন ছাড়া আন্ত:আফগান আলোচনা সম্ভবই হতো না”।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান ওয়াশিংটন আর তালেবানদের মধ্যে দুর্লভ আলোচনারও ব্যবস্থা করেছিল। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতাতেই ফেব্রুয়ারিতে দোহা চুক্তি হয়। 

‘তালেবানদের আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে পাকিস্তান’

আন্ত:আফগান শান্তি আলোচনা শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই তালেবানের ডেপুটি প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তালেবান প্রতিনিধি দল আলোচনা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ইসলামাবাদ সফর করে। অনেকেই মনে করেন এই সফর ছিল আলোচনায় বসতে তালেবানদের ইচ্ছার প্রকাশ। এর আগে দীর্ঘদিন তারা আফগান সরকারের সাথে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে এসেছে। 

শাহ বলেন, “বহুল প্রতীক্ষিত আন্ত:আফগান সংলাপের রাস্তা পরিস্কার করার জন্য এই সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের চিন্তা পরিস্কার করার ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, কারণ পাকিস্তান তাদেরকে পুরো আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে”।

তিনি অবশ্য এই ধারণা নাকচ করে দেন যে, আলোচনায় আনার জন্য তালেবানদের উপর জোর জবরদস্তি করেছে পাকিস্তান। 

তিনি বলেন, “যারা এই ধরণের কথাবার্তা বলছেন, তারা আসলে আফগানদের মনোভাব ও ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। তাদের উপর জোর করা যায় না, কিন্তু তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে বোঝানো যায়। পাকিস্তান সেটাই করেছে”।

তালেবানরা ছাড়াও মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদও গত দুই বছরে ইসলামাবাদে প্রায় এক ডজন সফর করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি হয়েছে বিগত পাঁচ মাসে, যেটার মাধ্যমে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের গুরুত্বটা বোঝা যায়। বিষয়টা এমনই গুরুত্বপূর্ণ যে, দোহাতে আলোচনা শুরুর পরদিনই রোববার ইসলামাবাদে আসেন খলিলজাদ। 

ইসলামাবাদ-ভিত্তিক আফগান বিশেষজ্ঞ তাহির খানের মতে, গত বছরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, তালেবানদের আলোচনায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে পারে পাকিস্তান। 

আলোচনা ‘পাহাড়ি পথের মতো’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন চলমান আন্ত:আফগান আলোচনাটা একটা ‘জটিল’ প্রক্রিয়া কিন্তু এখানে ‘সফল’ হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই। 

শাহ বলেন, “আলোচনার ফল কি হবে বলাটা খুবই কঠিন। এটা একটা পাহাড়ি দুর্গম পথের মতো”।

তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে সাফল্যের সম্ভাবনাটা খুবই কম মনে হচ্ছে আমার। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে আমি পুরো সমর্থন করি, কারণ এর কোন বিকল্প নেই”।

“আফগানদের ইতিহাস বলে যে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে তারা সাধারণত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের সবসময় পুনরাবৃত্তি হয় না”। 

শাহের সাথে খানিকটা একমত পোষণ করে খান বলেন যে, “সন্দেহ নেই যে, এই পথটা কঠিন। কিন্তু তালেবানসহ অন্যদের এখানে সফল হওয়ার ছাড়া কোন উপায় নেই”।

“তালেবানরা দীর্ঘদিন ধরে কাবুল সরকারের সাথে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনার টেবিলে বসেছে। এতে বোঝা যায় যে, আশার ব্যাপারে তারা অনেক সিরিয়াস”।

খান অবশ্য দুই পক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দুই পক্ষই, বিশেষ করে তালেবানরা, আলোচনায় কঠিন শর্ত নিয়ে হাজির হতে পারে। 

“প্রাথমিক বৈঠকের ফল ইতিবাচক ও আশাপ্রদ। কিন্তু যখন ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে, তখনই আসল পরীক্ষাটা হয়ে যাবে”।