আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিরোধ: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য মাথাব্যথা

276618_Abul-3

সম্প্রতি সম্ভাব্য জোটের অংশীদার বাংলাদেশকে কোয়াডে যোগ না দেয়া নিয়ে সতর্ক করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি বলেছেন, ওই জোটে যোগ দেয়ার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, কোয়াড জোট গঠন করা হয়েছে দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে চীনের সম্প্রসারণকে কাউন্টার দিতে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্যের  কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। এটাকে তিনি অহংকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ, কোয়াড এখনও বাংলাদেশ সরকার পর্যন্ত অগ্রসর হয়নি। উপরন্তু তিনি বলেন, এতে যোগ দেয়া বা না দেয়া একেবারেই বাংলাদেশের সার্বভৌম বিষয়। চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন ‘হস্তক্ষেপে’ চরম হতাশা প্রকাশ করেন মোমেন। তিনি ওই বিবৃতিতে আগ্রাসী এবং নিন্দনীয় বলে বর্ণনা করেন।

মন্ত্রীর মতে, জোট নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বাইরের প্রভাব বা চাপ থেকে সুষমভাবে তা মুক্ত।

কোয়াড সম্পর্কে চীনের সতর্কতার জবাবে বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আমলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। তাদের মতে, একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার সার্বভৌম অধিকার আছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। পক্ষান্তরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, কোয়াডের ছদ্মবেশে একটি গ্রুপ আঞ্চলিক দেশগুলো ও চীনের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করছে। কোয়াডকে এমন একটি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেন চুনিং, যা চীনের উত্থানের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং তারা আধিপত্যবাদী চর্চা করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে পরবর্তী এক সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন এবং ওই মন্তব্য ছিল একান্তই তার ব্যক্তিগত অভিমত। কিন্তু তা ভুলভাবে তুলে ধরেছে মিডিয়া। তার এই মত চীন সরকারের অবস্থান নয়।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীন। তাদের ওই মন্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ সরকার চাঁচাছোলা জবাব দিয়েছে বলে বর্ণনা করেছে ভারতের গণমাধ্যম। এমনকি ডেইলি স্টারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির পয়েন্ট আউট করেছেন যে, চীনা কূটনীতিকের নিছক পরামর্শকে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যেমনটা স্থানীয় মিডিয়া ও ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তারা ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যদিও এই বিষয়টিকে কূটনৈতিক ভুল পদক্ষেপ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া যায়, তবু বিরোধীদের পক্ষ থেকে আরো কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এর একটি অন্তর্মুখী পর্যালোচনার দাবি রাখে। প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তায় অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের কাছ থেকে সুবিধার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় বাংলাদেশ। জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দৃশ্যত চীনা নেতারা প্রথমে অর্থনৈতিক আগ্রহের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন। এরপর তারা নিরাপত্তার বিষয়ে দৃষ্টি দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো অর্থনৈতিক কর্মকা- ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার আগেই নিরাপত্তা ও কৌশলগত সুবিধার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। অন্যদিকে বিদেশী শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির চর্চার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে। এক্ষেত্রে অনেক সময় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে- এ ধরণের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অনুপস্থিতিতে সঙ্কটের সময় বাংলাদেশের সহায়তায় আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক কোনো শক্তি স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবে কিনা?

দৃশ্যত দক্ষিণ এশিয়া/ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা শত্রুতার মধ্যে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ। বিশেষত, এই প্রতিযোগিতা বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের চেয়েও বেশি বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাবের একটি বলয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কৌশলগত এই প্রতিযোগিতায় নৌশক্তিগুলো যদি বঙ্গোপসাগরে দৃশ্যমান অনুপ্রবেশ ঘটে তাহলে বড় সংঘাত বেধে যাওয়ার সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করতে পারেন না দূরদর্শী নীতিনির্ধারক ও কৌশল বিশ্লেষকরাও। প্রতিবেশী মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বঙ্গোপসাগরে বিরোধী নৌশক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর ফলে এমন সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

এভাবেই পাশের বাড়ির অশান্ত অবস্থা ছড়িয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের ভূখ-ে। যেমনটা উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনও বলেছেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় কক্সবাজারে কমপক্ষে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অস্থিতিশীলতার উৎস হয়ে উঠতে পারে।

গত ২৭ শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি। এ সময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ওয়েই ফেঙ্গহি। একই সঙ্গে বহিঃশক্তির জোট ও আধিপত্য বিস্তারকে ব্যর্থ করে দেয়ার যৌথ প্রচেষ্টার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

চীনের কৌশলগত কি আগ্রহ রয়েছে? দ্য ডিপ্লোম্যাটে তুনির মুখার্জী যুক্তি তুলে ধরেছেন, ভারত মহাসাগর ও একে ঘিরে থাকা জলপথ চীনের শিপিং লাইনের জন্য প্রধান হয়ে উঠেছে। এই জলসীমায় চীন সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা প্রয়োজন। চীন কিন্তু ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক সমর্থন বাস্তবায়নের একটি এজেন্ডা তৈরি করেছে। যা পরে সামরিক কাজে লাগানো হতে পারে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশল নিয়ে বিবিসিতে আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে বড় অংকের সহায়তার মাধ্যমে বেইজিং বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নের সঙ্গে এমন অন্য কোনো বিষয়ের যোগসূত্র থাকার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। তবে শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দর অন্য কথা বলে।

চীনের কৌশলগত সুবিধার কাঙ্খিত অবস্থানে যেহেতু বঙ্গোপসাগর অবস্থিত, তাই চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যাপক বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশের বিষয় একেবারে উড়িয়ে দেয় যায় না। এর আগে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে বেইজিং। এর মধ্য দিয়ে তারা বঙ্গোপসাগরে তাদের পা রাখার স্থান চায়। ২০১৪ সালের মার্চে বেইজিং সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। এর আগেই দিল্লির আপত্তি সরকারকে ‘কনভিন্সড’ করে। এবং প্রধানমন্ত্রী ওই সফরের সময় সোনাদিয়ার ওই প্রকল্প বাতিল করেন। এতে চীনের নেতাদের মধ্যে বড় রকম অসন্তোষ দেখা দেয়।

২০১৪ সালের মার্চে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর শিপিং চাহিদা মেটাতে এবং চীনের বাণিজ্যিক ও নৌযানগুলোর বঙ্গোপসাগরের সুবিধা পাওয়ার জন্য পতেঙ্গা বন্দরকে আঞ্চলিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। 

সিনো-বাংলাদেশের সহযোগিতার মাধ্যমে বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পরবর্তীতে মেগা-অবকাঠামো এবং বিদ্যুত প্রকল্পে অর্থায়নের পথ করে দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ। চীন এখন ঋণগ্রহীতা দেশের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো অবস্থায় রয়েছে। ঋণদাতারা ঋণগ্রহীতাদের আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে প্রভাবিত করতে পারে। তাই চুক্তির অধীনে বন্দর উন্নয়নকে বাণিজ্যিক সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি বিদেশী সরকারের কাছ থেকে ১০০ ঋণ চুক্তির পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে এআইডিডিএটিএ’র গবেষণায়। এর শিরোনাম ‘হাউ চায়না লেন্ডস’। সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতির সম্পর্ক কি তার শর্তগুলো বর্ণনা করা হয়েছে এতে। উন্নত দেশগুলো ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর আচরণকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে অনেক সময় বৈদেশিক ঋণকে ব্যবহার করে। বিশ্বে সবচেয়ে বড় ঋণদাতা হিসেবে,  ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে চীন অধিকতর কঠোর শর্তাবলী গ্রহণ করেছে।

চীনের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং ভারত মহাসাগরের জলভাগে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলায় পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে চীন। এক্ষেত্রে ভারতের ঘরের পিছনেই কর্মকা- পরিচালনা করতে গিয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে চীনকে। তাদেরকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোটের অংশীদারদের ( যেমন কোয়াড) বিরুদ্ধেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোয়াড্রিলেটারেল ডিফেন্স ডায়ালগ থেকে চীন বিরোধী আত্মরক্ষার উপায় নিয়ে যে আয়োজন তা থেকে দৃশ্যত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কৌশল বেরিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পর্ককে শক্তিশালীকরণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক জোরদার করার জন্য চীনবিরোধী একটি গণতান্ত্রিক জোট গঠন করতে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে এ অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ভারত, মালদ্বীপ এবং মালাবারের সঙ্গে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে কোয়াডের যে ধারণা তা হলো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের কৌশলগত সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে চর্চা বা অনুশীলন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতের সমন্বয়ে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন হলো কোয়াড্রিলেটারেল সিকিউরিটি ডায়ালগ (কোয়াড)। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শৃংখলা, অবাধ ও উন্মুক্তকরণের নিয়ম সৃষ্টি করা।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মিত্রের মন জয় করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার মধ্যে এবং ভারত মহাসাগরে আস্তে আস্তে কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে, এসব বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চোখে গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে উভয় দেশের মধ্যে সামরিক দিক দিয়ে একটি সমীকরণে ফেলা যায়। এ সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর জোট গঠন দৃশ্যত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহির একটি কৌশলগত অবস্থান হতে পারে। এ দুটি দেশের মধ্যে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। ২০১৬ সালে ঢাকা সফরের সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেই চুক্তিকে আধুনিকায়ন করে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে পরিণত করেন। এর মধ্য দিয়ে সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আস্থা গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারও চীন। ২০২১ সালে দ্বিমুখী বাণিজ্য ১৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে ধরা হচ্ছে। দেশের প্রতিরক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি পণ্য কেনা হয় চীনা (এর পরিমাণ শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ)। ২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত দুই দশকে মোট পণ্য কেনা হয়েছে ২৮৫ কোটি ডলারের। চীনের কাছ থেকে দুটি মিং শ্রেণির সাবমেরিন কিনেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

বিআরআই তহবিল বিদ্যুত উন্নয়ন, পরিবহন এবং অবকাঠামো খাতে ২৪০০ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যখন সব ঋণ, অনুদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের হিসাব করা হয় তখন তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২০০ কোটি ডলার। দেশে ঊর্ধ্বমুখী যে প্রবৃদ্ধির ধারা তা রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিআরআই তহবিল।