আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

ভারতের তিব্বত কার্ডকে কেন ভয় পাওয়া উচিত নয় চীনের

ISSUE-2-ENG-19-08-2020-China
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি শুক্রবার তিব্বত সফর করেছেন। পূর্ব লাদাখে অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে ভারত আর আর চীনের মধ্যে যখন উত্তেজনা চলছে, তখন এই সফরে গেলেন ওয়াং ইয়ি। চলতি মাসের শুরুর দিকে দুই দেশের অচলাবস্থা ১০০ দিন পার করেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তিব্বত সফরকালে ওয়াং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে তিব্বতের অগ্রগতি বিশেষ করে ভারতের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তিব্বতের অর্জনের প্রশংসা করেছেন। 

২০০৩ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে সিকিমকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বদলে তিব্বতকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। তবে ১৫ জুনের সঙ্ঘর্ষের পর থেকে নয়াদিল্লীর অনেকেই মত দিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকায় এবং এর বাইরে চীনের আগ্রাসী তৎপরতার জবাবে ভারতের তিব্বত কার্ড খেলা উচিত। 

২০১০ সাল থেকে নয়াদিল্লী এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন দিয়েছে এই শর্তে যাতে বেইজিং এক ভারত নীতিকে সমর্থন দেয়। এর অর্থ হলো অরুণাচল প্রদেশ (একইসাথে জম্মু ও কাশ্মীর, ও লাদাখকে) ভারতের অংশ হিসেবে যাতে স্বীকৃতি দেয়া হয়। 

আরও পড়ুনঃ চীনের মোকাবেলায় ভারত কি তাইওয়ান আর তিব্বত কার্ড খেলবে?

তখন থেকেই দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিব্বতের বিষয়টি কখনও সেভাবে আসেনি। ২০১৪ সালে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ওয়াংকে বলেছিলেন: “মি. মিনিস্টার, আমরা এক চীন নীতিকে সমর্থন করি। আশা করি আপনারাও এক ভারত নীতিকে সমর্থন করবেন”।

মোদি সরকারেরও তিব্বত নীতি পুনর্বিবেচনার তেমন সম্ভাবনা নেই। যেমন দালাই লামাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশী রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এই ধরনের পদক্ষেপকে ২০০৩ সালের চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে বেইজিং। 

সেটা করলে সিকিমকে ভারতের অংশ হিসেবে চীন আর মানবে না – বা, পুরো জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখতে বিতর্কিত এলাকা ঘোষণা দেবে তারা। মনে রাখা দরকার যে, চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বতের’ অংশ মনে করে। গত বছর চীনে ৩০,০০০ বিশ্ব মানচিত্র ধ্বংস করেছে, যেগুলো রফতানির জন্য তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু অরুণাচলকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়নি। 

আরও পড়ুনঃ সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারতকে বার্তা দিতে তিব্বত সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত এখনও উদ্বিগ্ন রয়েছে কারণ চীন তাদের আগের নিয়মে চলছে না। ৫ মে সীমান্তের যে দুটি জায়গায় মৃদু সঙ্ঘাত হয়েছিল, তার একটি হলো সিকিম-তিব্বত সীমান্তের নাকু লা এলাকায়। নয়াদিল্লীর হিসেবে এই জায়গাটি নিয়ে কাগজে কলমে কোন সিদ্ধান্ত না হলেও, চিন্তার জায়গায় এর সমাধান হয়ে গিয়েছিল। এর বাইরে, গিলগিট-বালটিস্তানে চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ভারত এ অঞ্চলকে নিজেদের দাবি করে, কিন্তু সেটা রয়েছে পাকিস্তানের অধীনে। এখন সেখানে চীন থাকায়, এ অঞ্চলে ভারত নিজের দখলে নেয়ার চেষ্টা করতে পারবে না, এবং চীন সেখানে জড়িত হবেই।

এছাড়া দুই দেশেরই ভয় রয়েছে যে, উভয়েই তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধে নামতে পারে। চীনের এ কথা মনে আছে যে, ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের পর ভারত তিব্বতের বিদ্রোহীদের নিয়ে গেরিলা বাহিনী গঠন করেছিল। 

আসলে, কূটনৈতিক বার্তা দেয়ার বাইরে ভারতের জন্য তিব্বত কার্ডের আলাদা কোন গুরুত্ব নেই। তাছাড়া, ভারত-চীনের ইতিহাস থেকে দেখা যায় দুই দেশের সীমান্ত এলাকা কিভাবে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হিসেবে কাজ করেছে। দুই দেশই এটা বোঝে। সেই কারণে ওয়াংয়ের তিব্বত সফরের মতো বিষয় নিয়ে এ ধরনের আলোচনা হয়তো হবে, কিন্তু সেটা আসলে সাময়িক।