আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২১

ডিজিটাল বিপ্লবের পথে পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষ

SAM SPECIAL 2020-07-25 065826

গণদারিদ্র ও মহামারী উভয়টিই জীবনের বাস্তবতা। একইসাথে কোটি কোটি লোকের জীবন এর সঙ্গে সম্পর্কিত। একই কথা প্রযোজ্য ত্রাণ সহায়তার ক্ষেত্রেও। একই সময় শনাক্ত লাখ লাখ লোককে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। পাকিস্তানের মতো দেশে ২০ কোটির বেশি লোককে এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজতে হয়েছে। অতীতে এটি অসম্ভব কাজ বলে চিহ্নিত হয়েছিল। এই মাত্র কয়েক বছর আগে বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামে (বিআইএসপি) সেকেলে পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করে এতে নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য পার্লামেন্ট সদস্যদের বলা হয়। পরে বিআইএসপি ডাটাবেজ থেকে ৮,২০,১৬৫ জনের নাম প্রত্যাহার করা হয় তাদের জীবনমান ‘গরিব’ লোকের নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের ঊর্ধ্বে তারা বসবাস করায়। 

বিআইএসপি স্মার্ট কার্ড দিয়ে তালিকায় থাকা লোকজন তাদের টাকা তুলতে পারত। বায়োমেট্রিক চেকের মাধ্যমে বিআইএসপি কর্মসূচির অধীনে থাকা যথার্থ লোককে শনাক্তকরণে এনএডিআরএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারগুলোকে ফোন ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়। সুবিধাভোগকারীদেরকে এনএডিআরএ কাউন্টারে একটি সিম ও সেলফোন দেয়া হয় নগদ মঞ্জুরি পাওয়ার জন্য। এসএমএস ও বৈধ এনআইসি কপি প্রদর্শনের পর সুবিধাভোগকারীরা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ফ্রাঞ্চাইজি থেকে নগদ মঞ্জুরি লাভ করেন। এই পদ্ধতিতে মোট ২৭ মিলিয়নের বেশি পরিবার ও চার মিলিয়নের বেশি বিআইএসপি ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। বিআইএসপি স্মার্ট কার্ড, মোবাইল, ডেবিট কার্ড, মানি অর্ডারের মাধ্যমে সহজে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

Lift-SAM Special-Bangla-25 July 2020

নতুন পিটিআই সরকার গত বছর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকে তাদের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করে। আর এই লক্ষ্যে তারা এহসাস কর্মসূচি প্রচলন করে। ২০১৭ সালের সর্বশেষ আদমশুমারির ফলাফল এখনো প্রকাশ না করায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্ধারণ করা চ্যালেঞ্জের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আবার পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১৮-১৯ এখনো প্রকাশিত হয়নি। আদমশুমারি ও লেবার ফোর্স সার্ভের প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এনএডিআরএ তথ্য হালনাদাগ করা হবে।

পাকিস্তানে যখন করোনাভাইরাস হানা দেয়, লকডাউনে কোটি কোটি লোকের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ইহসাস ইমাজেন্সি ক্যাশ কর্মসূচি চালু হয় দিনমজুদের জন্য। ক্ষুধায় যাতে কষ্ট পেতে না হয়, তারা যাতে খাবার কিনে খেতে পারে, সেজন্য তাদেরকে এই সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১২ মিলিয়ন পরিবারকে পরিবারপিছু ১২ হাজার রুপি করে দিতে ১৪৪ বিলিয়ন রুপির বাজেট নির্ধারণ করা হয়। এই টাকা কিভাবে বণ্টন করা হবে, তাও ছিল একটি প্রশ্ন। 

এখানেও প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বিশাল এক চ্যালেঞ্জকে দারুণ এক সুযোগে পরিণত করেছে প্রযুক্তি। 

যেসব পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে, তার একটি হলো আসান মোবাইল অ্যাকাউন্ট (এএমএ)। এতে সুবিধাভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির সহায়তায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান। 

মোবাইল ফোনকে অর্থ হস্তান্তর, বিল পেমেন্ট ও ক্রয় পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করার সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে আজ প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি লোকের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যত ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আমাদের লোকদের জন্য এখন কেবল ডিজিটাল বিপ্লবের জন্য দরজা খুলে দিতে হবে।

 

লেখক: প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক