আমরা লাইভে English সোমবার, আগস্ট ০২, ২০২১

সুইজারল্যান্ডে চলছে বাইডেন-পুতিন ঐতিহাসিক বৈঠক

278954_Anim-06

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার স্থানীয় সময় বেলা একটায় ভিলা লা গ্রেঞ্জে এই বৈঠক শুরু হয়। বিবিসি জানিয়েছে, এই বৈঠক ৫ ঘন্টা চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শেষ হয়েছে বৈঠকের প্রথম রাউন্ড। এই রাউন্ডে দুই নেতা একাকি আলোচনা করেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। বৈঠকের প্রথমেই রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ছবি তোলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। প্রথম রাউন্ডে বাইডেন ও পুতিন আধা ঘন্টা আলোচনা করেছেন।

এর আগে বুধবার ঐতিহাসিক এই বৈঠকের জন্য জেনেভায় পৌঁছান জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিন। উভয়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পার্মেলিন। দুই নেতাকে 'ফলপ্রসূ সংলাপের' শুভকামনা জানান তিনি। জেনেভাতে নেমেই শীর্ষ সম্মেলনের আগে 'বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া'র জন্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুতিন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কে অনেকগুলো বিষয় জমে আছে। এ কারণেই এমন সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকের প্রয়োজন। আমি আশা করি, আমাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে। এদিকে বাইডেন বলেন, তার প্রশাসন দুই দেশের ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ নিয়েই কাজ করতে চায়।

বৈঠকের শুরুতেই দেখা যায়, পুতিন ও বাইডেন এগিয়ে এসে হাত মেলাচ্ছেন। বাইডেন প্রথম হাত বাড়িয়ে দেন, এরপর পুতিন এসে তার সঙ্গে হাত মেলান। বৈঠকে দেরি করে আসার জন্য বিশেষ নাম রয়েছে পুতিনের। যদিও বাইডেনের সঙ্গে সম্মেলনে ঠিক সময়েই পৌঁছান তিনি। বৈঠকের আগে আলোচনায় এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি টুইট। তিনি বাইডেনের সঙ্গেই রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি টুইটে মানবাধিকার নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, বাইডেন-পুতিন বৈঠকে সবথেকে গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে যেসব বিষয় তারমধ্যে মানবাধিকার অন্যতম। ব্লিনকেনের টুইট সেই ধারণাকেই আরো স্পষ্ট করলো। 

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক এখন একদম তলানিতে রয়েছে। এমন অবস্থাতেই নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসলেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও কদিন আগেই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি অবনতি দেখছে। গত মার্চেই এক সাক্ষাৎকারে পুতিনকে খুনি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন বাইডেন। তারপরেও এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে উভয় শিবিরকেই। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগেই ধারণা দেয়া হয়েছিল যে, এই বৈঠকে র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর আগ্রাসন, রাশিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনসহ আরো বেশ কিছু ইস্যুতে কথা বলবেন বাইডেন ও পুতিন।