আমরা লাইভে English শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

গুলিবিদ্ধ জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, অবস্থা গুরুতর

shinzo_abe_0

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। ঘটনার পরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিনজো আবে।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। তবে তার কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনাটি ঘটেছে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের নারা শহরে। ঘটনায় অভিযুক্ত এক বন্দুকধারীকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ।

নারা শহরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন শিনজো আবে। সেই সময় তার ওপর গুলি চলে বলে জানা গিয়েছে। জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে এই খবর নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, নিজের দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন শিনজো।

জাপানের সময় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে এনএইচকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর শিনজে আবের শরীর থেকে রক্তপাত হচ্ছিল।

টোকিওর সাবেক মেয়র ওইচি মাসুজো এক টুইট বার্তায় বলেছেন, শিনজো আবে বর্তমানে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট অবস্থায় আছেন।

জাপানে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট বলতে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু নিশ্চিত করার আগের অবস্থাকে বোঝানো হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা এনএইচকে রিপোর্টার জানান, শিনজো আবের বক্তৃতা চলাকালীন পরপর দুটো জোরে আওয়াজ শুনতে পান তিনি। আওয়াজটা গুলি চালানোর মতো ছিল। এরপরই নাকি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবে।

রবিবার জাপানের উচ্চকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই উপলক্ষে শুক্রবার প্রচারে গিয়েছিলেন শিনজো আবে। সেখানেই এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশটির সরকার বলছে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা এই বিষয়ে কথা বলবেন।

শিনজো আবে জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ২০২০ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগ করলেও জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিতে তার বড় প্রভাব রয়েছে। এই দলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে।

শিনজো আবে ধনাঢ্য রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন। তার বাবা ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া তার এক দাদা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

জাপানে বন্দুক হামলা খুবই বিরল ঘটনা। কারণ, সেখানে অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ। এছাড়া জাপানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনাও খুব একটা দেখা যায় না।

২০০৭ সালে নাগাসাকি শহরের মেয়র ইচো ইতোকে গুলি করে হত্যা করেছিল আততায়ীরা। তারও আগে ১৯৬০ সালে জাপানের সোশালিস্ট পার্টির প্রধানকে বক্তব্য দেবার সময় গুলি করে হত্যা করে ডানপন্থীরা।