আমরা লাইভে English বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

‘গো ব্যাক মোদি’ স্লোগানে উত্তাল কলকাতা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ফের গর্জে উঠল কলকাতা। লাখো কণ্ঠে স্লোগান উঠল ‘গো ব্যাক মোদি, গো ব্যাক মোদি’। প্রতিবাদী বাক্য ‘মোদি, গো ব্যাক’ লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে শহরজুড়ে বিক্ষোভে শামিল ছাত্র-যুব থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধা।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও নাগরিক তালিকার (এনআরসি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যেই শনিবার মোদির কলকাতা সফরের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে পুরো রাজ্যবাসী।

অন্যদিকে কলকাতার রাজভবনে মোদির সঙ্গে কয়েক মিনিটের বৈঠকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের আবেদন জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তবে মোদি ওই বৈঠক নিয়ে কোনো কথা বলেননি। যদিও আগের দিন শনিবার রাত থেকেই গোটা দেশে নয়া নাগরিক আইন কার্যকর হয়েছে।

মাত্র এক মাস আগে ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে এক প্রকার চুপিচুপিই পাস হয় বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। আইনে শুধু মুসলিমদের বাদ দিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে দেশটিতে গিয়ে বসবাসরত অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইনটিকে তাই মুসলিমবিরোধী হিসেবেই দেখছেন অধিকারকর্মীরা। সেই সঙ্গে আইনটির বাতিলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির রাজ্যে রাজ্যে শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।

এসব বিক্ষোভকেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। সরকার ও পুলিশের ব্যাপক দমন-পীড়ন সত্ত্বেও প্রায় এক মাস ধরে অব্যাহত রয়েছে বিক্ষোভ

‘পশ্চিমবঙ্গে কোনোভাবেই সিএএ-এনআরসি করতে দেয়া হবে না’- এমন শক্ত অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই এই বিক্ষোভে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মমতা।

শনিবার মোদির আগমনে আরেকবার গর্জে উঠল সেই বিক্ষোভ। কোনো প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতাজুড়ে এমন বিক্ষোভের নজির নেই।

মোদির এ সফরকে ঘিরে বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, দেশজুড়ে টুইটার ট্রেন্ডিং হয়ে যায় #গোব্যাকমোদিফ্রমবেঙ্গল।

গত কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভের আগাম প্রস্তুতি ছিল প্রকাশ্যেই। ফলে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শুক্রবারই বাতিল করে দিয়েছিল এসপিজি।

বিকেল ৪টার কিছু আগে মোদির বিমান নামে কলকাতা বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের বাইরে তখন বিক্ষোভের ঢল। জাতীয় পতাকা, কালো বেলুন, কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাম-কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। ‘মোদি গো ব্যাক’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ওই চত্বর।

ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মিছিল এসে কলকাতার ফুসফুস ধর্মতলায় বিশাল আকার নেয়।

কালো বেলুনে ছেয়ে যায় ধর্মতলার আকাশ। একদিকে যখন মোদি কলকাতায় এসে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠক করছেন, তখন এনআরসি, সিএএ, এনআরপি থেকে আজাদি চাইছে কলকাতা।

সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিক্ষোভ দেখান ধর্মতলা চত্বরে। কেউ প্রতিবাদ জানান পথনাটিকার মাধ্যমে, কেউ প্রতিবাদ জানান বিরোধিতার স্লোগান তুলে।

বিক্ষোভ চলে যাদবপুর, কলেজ স্ট্রিট, গোলপার্ক, ধর্মতলা, হাতিবাগান, রাজারহাটসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই বিক্ষোভের আবহেই বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রেসকোর্সে পৌঁছান মোদি।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে সে কারণে রেসকোর্সেও ছিল কড়া নিরাপত্তা। মোদি সেখানে আসার আগে থেকেই রেসকোর্সের অদূরেই জমায়েত হয়েছিল বিক্ষোভকারীরা।

মোদির কপ্টার নামতেই ফের ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের রব ওঠে। কালো পতাকা দেখান বিক্ষোভকারীরা। এদিনও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি চড়াও হয়।

রেসকোর্স থেকে মোদির কনভয় রাজভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মমতা। তাদের দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ (মাত্র ১৫ মিনিট) বৈঠক হয়।

রাজভবন থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো।’ মমতা আরও বলেন, সিএএ, এনপিআর এবং এনআরসির বিরুদ্ধে আমরা।

মানুষে মানুষে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা। আমরা চাই, সিএএ এবং এনআরসি বাতিল করুন।’ দু’দিনের কলকাতা সফরে এসেছেন মোদি।

কলকাতা বন্দরের দেড়শ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে মিলেনিয়াম পার্কে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। জলপথে যাবেন বেলুড় মঠেও। কলকাতায় পা রাখার আগেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মোদি টুইট করেন, ‘আমি আনন্দিত এবং উৎসাহিত যে আজ এবং আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে কাটাব।’