আমরা লাইভে English রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

নতুন আফগান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তালেবানের যুগ্ম-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদার

Mullah Baradar_1

তালেবানের যুগ্ম-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদার নতুন আফগান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে শুক্রবার দলটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

তিনটি সূত্রের তথ্যমতে, তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান, বারাদারের সঙ্গে এই সরকারের উচ্চ পদে আরও যোগ দেবেন তালেবান প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব, এবং শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই।

'শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যেই কাবুলে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে নতুন সরকারের ঘোষণা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে,' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান কর্মকর্তা বলেন রয়টার্সকে।

এর আগে, গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখল করে।

২০ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফেরা কে এই মোল্লা বারাদার

এর আগে, ২০ বছরের নির্বাসন শেষে গত ১৭ আগস্ট আফগানিস্তানে ফিরেন মোল্লা বারাদার। সেদিন কান্দাহার প্রত্যাবর্তনে তার সহকর্মীরা তাকে বীরের মর্যাদা দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।

৫৩ বছর বয়সী বারাদার তালেবান সংগঠিত হওয়ার সময় সাবেক প্রধান কমান্ডার মোল্লা মোহম্মদ ওমরের অধীনে ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন।

নিষিদ্ধ আলেম হিসেবে প্যারিসে ১৪ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনি যেভাবে ইরানে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, মোল্লা বারাদার অনেকটা সেভাবেই আফগানিস্তান প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৬৮ সালে উজুরগানে জন্ম নেওয়া বারাদার বেড়ে ওঠেন তালেবান আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি কান্দাহার শহরে। ১৯৮০'এর দশকে তিনি দেশটির তৎকালীন দল মুজাহেদিনদের সঙ্গে সোভিয়েত অভিযানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেন এবং ১৯৮৯ সালে সোয়েত সেনা প্রত্যাহার পর্যন্ত যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীকালে, আফগানিস্তানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ এবং এর মাঝেই বারাদার তার সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে কান্দাহারে একটি ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

সেই স্কুলকে কেন্দ্র করেই তারা দুইজন তালেবান আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম হন। তালেবান আন্দোলন এমন একটি আদর্শে বিশ্বাসী যা, কট্টরপন্থী রক্ষণশীলতাকে গ্রহণ করে, ইসলামি আমিরাত তৈরির জন্য সংগ্রাম শুরু করেছিলো।

১৯৯৬ সালে পাকিস্তান সিক্রেট সার্ভিসের আর্থিক সহায়তায় তালেবান বাহিনী রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেও আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে, ২০০১ সালের মার্কিন সামরিক অভিযানে উৎখাত হয়।

এ সময় বারাদার আত্মগোপনে চলে গেলেও নির্বাসনে থেকেই তালেবান নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২০১০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস আইএসআই-এর যৌথ অভিযানে পাকিস্তানের করাচি শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর ৮ বছর পর, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে কাতারে তালেবানদের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির শর্ত ছিল বারাদার শান্তি আনয়নে কাজ করবেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং বিনিময়ে মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ত্যাগ করবে, এমন শর্তে বারাদার তালেবানের পক্ষে চুক্তি সই করেন তিনি।

দোহা চুক্তির সময় ট্রাম্প প্রশাসন আমলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তালেবানের প্রতি রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সেই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বারাদারের সঙ্গে ছবিও তুলেন।

তবে, সেই দোহা চুক্তিটি তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি ঘোষণা হিসেবে প্রচার করা হলেও তা যে তালেবানদের একটি কৌশল ছিল, এখন সেটাই প্রমাণিত।

মোল্লা ইয়াকুব: তালেবান প্রতিষ্ঠাতার পুত্র

তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের পুত্র মোল্লা ইয়াকুব। তিনি গোষ্ঠীটির শক্তিশালী সামরিক কমিশনের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে বিদ্রোহীদের কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত ফিল্ড কমান্ডারদের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধায়ক হন ইয়াকুব।

প্রতিষ্ঠাতার পুত্র হিসেবে ত্রিশ বছর বয়সী ইয়াকুব সংগঠনটির মাঝে সবার কাছে বিশেষ মর্যাদার পাত্র। ধারণা করা হয়, তালেবানের সাম্প্রতিক অভিযানে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন।

শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই: তালেবানের দোহা অফিসের প্রধান

৫৮ বছর বয়সী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাইও ১৯৯৪ সালেই তালেবানে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান এবং ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করার সময় এই গোষ্ঠীর সাবেক উপমন্ত্রী ছিলেন।