আমরা লাইভে English সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

২২ অক্টোবর কাশ্মীরে হামলা 'কালো দিবস' হিসেবে পালিত

1243151 (1)

নিরীহ কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীর ওপর পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন উপজাতি বাহিনী কাবিলিসের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর কোড ‘অপারেশন গুলমার্গ’ নামক হামলা চালানো হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং উদারমনা এনজিওগুলো চলতি বছরের ২২-২৫ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। 

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পুরো এশিয়া উপমহাদেশে সহিংসতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই ঘৃণ্য নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল পাকিস্তান। 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা পরিচালিত 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক গণহত্যার কোডের সমান্তরালে তৈরি হয়েছিল এই আয়োজন। 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের কথা মনে পড়ছে চিত্র প্রদর্শনীতে যাওয়া দর্শনার্থীদের। 

২২ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে ৪০ হাজারের বেশি কাশ্মীরি মুসলমান, শিখ ও হিন্দু বর্বর পাক সেনাদের হাতে নিহত হয়েছিল। ১০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং দুই হাজার নারীকে জোর করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি ও ২১শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলার ছবি এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ছবি শাহবাগ মোড়ের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে  প্রদর্শনীতে রাখা হয়। 

১৯৪৭ সালের ২২শে অক্টোবর কাশ্মীরের পশতুন উপজাতির ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অভিযানের প্রায় ২৫টি বিভক্ত ছবি সম্প্রতি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছিল দর্শনার্থীদের জন্য।

কাশ্মীরের অসহায় নাগরিকদের ওপর ২২ অক্টোবর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রায় দুই হাজার উপজাতীয় মিলিশিয়া নৃশংস নির্যাতন করার জন্য কাশ্মীরে পাঠানো হয়। এ জন্য দিনটি সারা বিশ্বে ‘কৃষ্ণ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

১৯৪৭ সালের উপজাতিদের ওপর আক্রমণ রাতারাতি ঘটেনি, এটি পাকিস্তানের কৌশলগত পরিকল্পনা। হানাদার বাহিনী দ্বারা বড় আকারের নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও তাদের সম্পদ লুট করা হয়েছিল, এমনকি হাসপাতালগুলোকেও রেহাই দেওয়া হয়নি।

আক্রমণকারীরা কাশ্মীরিদের দ্বারাও প্রতিহত হয়েছিল; তারা শ্রীনগর বিমানবন্দর দখল করার জন্য পাকিস্তানি আক্রমণকারীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

এই ধ্বংসযজ্ঞের পটভূমিতে, জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংহ ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং পাকিস্তান ও তার শক্তিশালী আক্রমণকারীদের দ্বারা লুণ্ঠিত হওয়ার জন্য তার রাজ্যকে বাঁচাতে ভারতের সঙ্গে একাত্মতার জন্য সন্ধি স্বাক্ষর করেছিলেন। 

যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সুরক্ষিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরকে। ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম পদাতিক বাহিনী শ্রীনগর বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল এবং কাশ্মীরকে হানাদারদের থেকে মুক্ত করার যুদ্ধ শুরু করেছিল।