আমরা লাইভে English বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলো সু চির দল

REPORT-4-ENG-03-09-2020-Myanmar

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) মঙ্গলবার প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে যে, তারা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন যাতে সামরিক বাহিনীর প্রথম দায়িত্ব হয় নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া এবং যাতে তারা দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের নীতিকে সমুন্নত রাখে। 

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে জড়িয়ে আছে। বিক্ষিপ্তভাবে অভ্যুত্থান করেছে তারা এবং পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করেছে। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে এবং ১৯৬২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সামরিক সরকার হিসেবে দেশ শাসন করেছে তারা। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যাণ্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি দেশ শাসন করে। 

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এনএলডি সরকার যদিও এখন ক্ষমতায়, তবে পার্লামেন্টে এখনও সামরিক বাহিনীর ২৫ শতাংশ আসন রয়েছে এবং তিনটি মন্ত্রীর পদও তাদের জন্য সংরক্ষিত: প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্ত অ্যাফেয়ার্স। সামরিক বাহিনীর তৈরি সংবিধানে তাদেরকে এই সুবিধা দেয়া হয়েছে। 

তাছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যংকসহ বিভিন্ন ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে সিদ্ধহস্ত বলেও পরিচিত। 

এনএলডি আর সামরিক বাহিনীর মধ্যে গত চার বছরে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা চলে আসছে। সামরিক বাহিনী একই সাথে পার্লামেন্টে এনএলডির বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনের প্রচেষ্টাকেও ব্যাহত করেছে। 

সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে যে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এনএলডি সামরিক বাহিনী আর সাধারণ মানুষের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। 

ইশতেহারে ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ বিষয়ে দাউ অং সান সু চি’র এনএলডি বলেছে যে, তারা সশস্ত্র বাহিনী বা তাতমাদাওকে একটা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন যাতে মানুষ তাদের উপর নির্ভর করতে পারে। 

রাষ্ট্রের সুরক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়ে এতে আধুনিক স্ট্যান্ডার্ডের যুদ্ধ সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যে বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হবে। 

এনএলডি চেয়ারপার্সন দাউ অং সান সু চি এক বার্তায় জনগণের উদ্দেশে বলেন যে, জাতীয় সমঝোতার বিষয়টি সবসময় তার দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। 

তিনি বলেন, তার দল অহিংস নীতির প্রতি পূর্ণ অনুগত, যাতে এখানে কোন দমনমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা আবার ফিরে না আসে এবং যাতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

সু চি এক বার্তায় বলেন “গণতন্ত্রের পথে আমাদের যাত্রা এখনও শেষ হয়নি”। দলের প্রতি জনগণকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।