আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলার নথি জমা দিয়েছে গাম্বিয়া

ISSUE-2-ENG-24-10-2020-Rohingya

দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে শুক্রবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলায় ৫০০ পাতার স্মারক এবং ৫০০০ পাতার বেশি সহায়ক তথ্যাদি সম্বলিত নথিপত্র জমা দিয়েছে গাম্বিয়া। মিয়ানমার সরকার কিভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে, এই নথিতে তার স্বপক্ষে যুক্তি প্রমাণ তুলে ধরেছে গাম্বিয়া। 

মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস বলেছে, মিয়ানমার সরকারের উচিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) আদেশ মেনে অবিলম্বে চলমান গণহত্যা ঠেকানোর এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেয়া। 

ফর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ বলেছে, “রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার পথে আজ আরেক ধাপ অগ্রগতি হলো”।

“আইসিজে’র মতো আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ মেকানিজমগুলো গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে রোহিঙ্গা আর মিয়ানমারের অন্যান্য জনগোষ্ঠির উপর বর্বরতা এখনও চলছেই”।

২০১৯ সালের নভেম্বরে গাম্বিয়া আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও নির্যাতন ঠেকাতে ব্যার্থতার জন্য তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। 

গাম্বিয়া আজ যে স্মারক উপস্থাপন করেছে, তার বিপরীতে মিয়ানমার সরকারকে তিন মাসের মধ্যে আইসিজেতে গাম্বিয়ার গণহত্যার অভিযোগের ব্যাপারে পাল্টা স্মারক উপস্থাপন করতে হবে। 

মামলার প্রক্রিয়া চলাকালে স্মারক আর পাল্টা স্মারকের বিষয়টি গোপন রাখা হবে এবং এটা প্রকাশিত হবে না। বেশ কয়েক বছর এই মামলার প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

রাখাইন রাজ্যে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে, যেখানে তারা চলমান গণহত্যার মুখে পড়েছে। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজে সর্বসম্মতিক্রমে আইনি পদক্ষেপগুলোর কথা জানিয়েছে। যেগুলো পূরণের জন্য মিয়ানমার সরকারকে গণহত্যার সব ধরণের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, মানসিক ক্ষতি বা শারীরিক ক্ষতি সাধন, এবং গণহত্যা কনভেনশানে উল্লেখিত অন্যান্য কর্মকান্ড। 

এজন্য সরকারকে একইসাথে গণহত্যার তথ্যপ্রমাণগুলোও সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতি ছয় মাস পরপর কাজের অগ্রগতির বিষয়টি আদালতে জানাতে হবে। 

আদালতের নির্দেশনা জারির পরেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে তাদের নির্যাতন ও বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে। 

সরকার ১২৫.০০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ২০টির বেশি ক্যাম্পে আটকে রেখেছে। 

আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যে তাদের গ্রামগুলোতে আটকা পড়ে আছে। 

কর্তৃপক্ষ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের চলাফেরা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে। 

২২ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি থমাস অ্যাণ্ড্রু রোহিঙ্গাদের গ্রাম – খান দা পারার স্যাটেলাটাইট ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক বাহিনীর নিধন অভিযানের আগের অবস্থা এবং পরের ধ্বংসপ্রাপ্ত ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। 

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যেখানে একসময় রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ছিল, সেখানে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, গণহত্যার তথ্য প্রমাণাদি সরকার ধ্বংস করে দিচ্ছে। 

থমাস অ্যান্ড্রুস বলেন, “বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে যারা আটকা পড়ে আছেন, তাদের জন্য ন্যায় বিচার কোথায়, যেখানে তাদের ভিটেমাটির উপর সেই একই সামরিক বাহিনীর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে?”

আদালতের আদেশে মিয়ানমার সরকারের প্রতি বাধ্যতামূলক কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

মিয়ানমার যদি সেগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আইসিজে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

মামলায় গাম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে আন্তর্জাতিক আইনি ফার্ম ফোলেই হোয়াগ এলএলপি।