আমরা লাইভে English রবিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২১

ক্ষমতাসীন দলের তীব্র অন্তর্কোন্দলের মধ্যে আগামী সপ্তাহে নেপাল যাচ্ছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

REPORT-3-ENG-21-11-2020-Nepal

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার দুজন শীর্ষ নেতার নেপাল সফরের পর এবং কাঠমাণ্ডু আসছেন চীনের এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। 

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গে চলতি মাসের শেষ দিকে নেপাল সফরে আসবেন। নেপাল আর চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৬৫তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, “সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি কাঠমাণ্ডু আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে”।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যদিও রিপাবলিকাকে বলেছেন যে, তারা এই সফরের আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও পাননি। তবে রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে ২৯ নভেম্বর এই সফর হতে পারে। সূত্র আরও দাবি করেছে যে, ফেঙ্গের সফরের জন্য প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। তার মন্ত্রণালয় বিদেশী সামরিক বাহিনীর সাথে বিনিময় ও সহযোগিতার ব্যাপারে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন ও পিপলস লিবারেশান আর্মির পক্ষ হয়ে লিঁয়াজো করে থাকে। 

চীনা মন্ত্রী ফেঙ্গে সেখানকার একজন স্টেট কাউন্সিলর এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠও বটে। এমন সময় তিনি নেপাল সফরে আসছেন, যেখানে ২৬ নভেম্বর প্রথমবারের মতো কাঠমাণ্ডু আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। নেপাল-চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও ফেঙ্গে নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। 

এর আগে, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে এবং গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যাণ্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র’) প্রধান সামান্ত গোয়েল নেপাল সফর করেন। গোয়েল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি হিসেবে এবং সেনাপ্রধান নারাভানে নেপাল সেনাবাহিনীর অনারারি জেনারেল পদবি নিতে নেপাল এসেছিলেন। 

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে কারণ এমন সময় তিনি এই সফরে আসছেন, যখন ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তীব্র অন্তর্কোন্দল চলছে। রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মতে, নেপালে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হাউ ইয়ানকি এনসিপি দলের ঐক্য ধরে রাখতে দলটির নেতাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করে যাচ্ছেন। 

মন্ত্রী ফেঙ্গের সফর এমন সময় হচ্ছে যখন এই অঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে মিলে যৌথ সামরিক মহড়ায় আয়োজন করছে, যেটা তারা করছে ‘চীনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য’। তাছাড়া ভারত আর চীনের মধ্যে সীমান্তেও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং লাদাখ সীমান্তে এক সঙ্ঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহতও হয়েছে। 

নেপালের পররাষ্ট্র নীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেঙ্গের সফরটি কোন রুটিন সফর নয় এবং এটাকে গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী রমেশ নাথ পান্ডে বলেছেন, “ভারত আর চীনের সাথে নেপালের সম্পর্কের সম্প্রতি অবনতি হয়েছে। নেপালে চীনের স্বার্থ আর তৎপরতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গেছে, অন্যদিকে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রে এখানে কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরির চেষ্টা করছে”।