আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

জাতিসংঘে মানবাধিকার ইস্যুতে জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান

NEWS ANALYSIS-ENG-30-09-2020 (1)

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা করেছেন। সাধারণ পরিষদে দ্বিতীয়বারের মতো দেয়া বক্তৃতায় মানি লন্ডারিং, পরিবেশ বিপর্যয়, তার সরকারের কোভিড-১৯ মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন খান। তবে, বক্তৃতার বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য, এবং তার দেশ কোন পথে হাঁটতে চায়, সে বিষয়গুলো। 

পরিস্কারভাবে তিনি বলেছেন যে, তার দেশের মনোযোগ জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু, আফগান পরিস্থিতি, এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাতের দিকে রয়েছে। খান তার বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের ভেতরে ও বাইরে পরিস্কার বার্তা দিয়েছেন যে, সঙ্ঘাত নিরসন ও অর্থনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে তার সরকার। খানের বক্তৃতার তিনটি প্রধান দিক নিম্নরূপ:

প্রথমত, অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আগ্রাসন দ্বিগুণ করতে চায় পাকিস্তান। শুধু কাশ্মীরকেন্দ্রিক নয় বরং, ভারতের মধ্যে সংখ্যালঘু ও মুসলিমদের সাথে আচরণ নিয়েও নয়াদিল্লীর কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। ভারত কিভাবে বর্বরতা দিয়ে স্বাধীনতা হরণ করছে, সেটি উল্লেখ করে ভারতের সামরিক বাহিনী যেভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও মারাত্মক মানবতাবিরোধী অপরাধ চালাচ্ছে, সে ব্যাপারে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

ভারত কিভাবে কাশ্মীরের জনমিতিক চেহারা বদলে ফেলার চেষ্টা করছে, সেটার প্রতিও জাতিসংঘের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাকে লঙ্ঘন করে কাশ্মীরীদের পরিচয় মুছে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

দ্বিতীয়ত, আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে খানের মন্তব্যে বোঝা যায় পাকিস্তান এই শান্তি আলোচনার একটা সফল পরিণতি আশা করে। সে জন্যে পাকিস্তান সব পক্ষের প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে বিশ্বকে এটাও জানিয়ে দেন যে, পাকিস্তান এখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে খান বলেন যে, আফগান নেতাদেরকে অবশ্যই ঐতিহাসিক এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে, যাতে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যায়”।

সেই সাথে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়াকে অবশ্যই আফগান-নেতৃত্বাধীন ও আফগান-কর্তৃত্বাধীন হতে হবে, এবং বাইরের প্রভাব ও হস্তক্ষেপমুক্ত হতে হবে। আফগানদের পেছনে সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি এই অভিযোগ নাকচ করে দেন যে, ইসলামাবাদ তালেবানদের সমর্থন দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তানের নেতাদেরকে অবশ্যই এই সমালোচনা কাটিয়ে উঠতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করেন যে, চক্রান্তকারীরা শান্তি প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু তাদেরকে কোন অবস্থাতেই আফগানিস্তান ও এ অঞ্চলের কর্তৃত্ব নিতে দেয়া যাবে না। 

তৃতীয়ত, ফিলিস্তিন ইস্যুতে খান তার দেশের অবস্থান আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি আরব-ইসরাইলি যে সম্পর্ক পুনস্থাপন শুরু হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠে যে, পাকিস্তান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার পথে হাঁটবে কি না। খান যদিও সুনির্দিষ্টভাবে বহুবার বলেছেন যে, ফিলিস্তিনি ইস্যুর একটা ন্যায্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ তেল আবিবকে স্বীকৃতি দেবে না, তারপরও বিষয়টি বিশ্বের দরবারে আরেকবার পুনরাবৃত্তি করার গুরুত্ব রয়েছে। 

খান জোর দিয়ে বলেন যে, বহু দশকের পুরনো বিবাদের একটা ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধানই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নে যেখানে ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল, সেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কথা বলাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভেতরের এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে এর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। 

এভাবেই প্রধানমন্ত্রী খান তার বক্তৃতার মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়েছেন যে, ভারত এখনও তাদের প্রধান উদ্বেগ ও প্রতিপক্ষ রয়ে গেছে, যারা এ অঞ্চলের শান্তি আর স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করছে। তাছাড়া, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয়ের ব্যাপারেও মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। 

সবশেষে, পাকিস্তান ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ইসরাইলের স্বীকৃতি দেয়ার ধারণাকে সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।