আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

চীনা অনুপ্রবেশের ব্যাপারে মোদির দাবি কি নাকচ করে দিলো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা?

NEWS ANALYSIA-ENG-04-09-2020

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুনে দাবি করেছিলেন যে, “কেউ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেনি, কেউ সেখানে নেই, আমাদের পোস্টও কেউ দখল করেনি”। মাসের মাঝামাঝি গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সাথে ভয়াবহ সঙ্ঘর্ষের পরে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে ভারতেরই একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত কথা বলেছে বলে দ্য হিন্দু চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। নাম প্রকাশ না করে এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তারা বলেছে যে, “এলএসির ভারতীয় অংশের প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনারা”।

এটা সবারই জানা যে, ভারতীয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ খানিকটা সরকারের প্রভাবের অধীনে কাজ করে। সে কারণে এটা কৌতুহলের ব্যাপার যে, দেশের ‘ডিপ স্টেটের’ (স্থায়ী সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, এবং কূটনৈতিক আমলাতন্ত্র) এক সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন। এই ব্যক্তি সম্ভবত ‘বখে যাননি’ এবং সম্ভবত তিনি এই তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশ করার জন্য তার উর্ধ্বতনদের কাছ থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন। এতে যে কেউ বিস্মিত হতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে কেন এ ভাবে মোদিকে বিব্রত করছে। 

সবচেয়ে প্রথমে যেটা মনে হবে, সেটা হলো তারা মোদির উপর চাপ দিয়ে চীনের বিরুদ্ধে আরও শক্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে চায়। এলএসি এলাকায় এখন যে অচলাবস্থা চলছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটা স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। এটা দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের স্বার্থকে এগিয়ে নেবে। 

দ্বিতীয় যে বিষয়টি মাথায় আসবে, সেটা হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হয়তো এ ধরণের নীতির পক্ষে সমর্থন গড়ার ব্যাপারে এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ‘ডিপ স্টেট’ সেটা বাস্তবায়নের জন্য তাদের কোন চাপ দিচ্ছে না। এই ব্যাখ্যার মধ্যে এটা ধরে নেয়া হয়েছে যে, সরকার জনগণকে বোকা মনে করে যারা ভুলেই গেছে যে মোদি আগে কি বলেছিলেন। এটাও একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে। 

উদ্দেশ্য যেটাই হোক, যে ফল তারা পেতে চাচ্ছেন, সেটা হলো জনগণকে জাতীয়তাবাদী মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ করা যাতে চীনের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী সামরিক নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা সমর্থন দেয়। অবশ্যই ‘দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের’ যুক্তিতে ‘রক্ষণাত্মক’ তৎপরতার ছদ্মবেশে এটা পরিচালনা করা হবে। এটা কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয় যে, পাংলোং লেকের খবর প্রকাশের পরপরই এই খবরটি প্রকাশিত হলো। এতো বোঝা যাচ্ছে যে, জনগণের মধ্য ‘ধারণা নির্মাণের’ পেছনে যারা আসল পরিকল্পনাকারী, তারা এই দুটিকে একসাথে তুলে ধরতে চাচ্ছে। 

সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই রিপোর্ট পড়ার পরে ধারণা হবে যে, ভারত ‘রক্ষণাত্মক’ জায়গা থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যদিও চীন এর উল্টাটা দাবি করেছে। চীনের গ্লোবাল টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতীয় বিবৃতিতে ‘আগাম’ পদক্ষেপ নেয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় যে, ভারতীয় সেনারা প্রথমে এটা শুরু করেছে”। সেটাই ঘটনার সম্ভাব্য যৌক্তিক ব্যাখ্যা, যদিও ভারত সেটা স্বীকার করতে অনীহা জানিয়েছে। 

চীনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের বিষয় স্বীকার করলে ভারত হয়তো আমেরিকার প্রশংসা পাবে। আধা-বছর আগে ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় থেকে দুই দেশ ‘সমন্বিত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদার’ হয়েছে। কিন্তু ভারত স্বীকার করলে সেটা একইসাথে বেইজিংয়ের অবস্থানকেও জোরালো করবে যে, পাকিস্তান, নেপাল, কাশ্মীরের মতো তারাও ভারতের আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদী মানসিকতার শিকার। নয়াদিল্লী সেটা করতে পারে না, কারণ এতে তাদের কোমল শক্তি হ্রাস পাবে, আর সে কারণেই তারা দাবি করছে যে, চীন এলএসিতে আগে তাদের জায়গা দখল করেছে। 

অন্যভাবে বললে, ভারত বিশ্বকে এটা বোঝাতে চায় যে, ‘আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষার নামে’ তারা চীনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে নেমেছে। তারা আশা করছে যে, তাদের নতুন ‘পেশিবহুল’ নীতির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তারা এই কাজটা করবে, কিন্তু সরাসরি সেটা বলবে না। তবে, চীনের প্রভাব শক্তি এখন অনেক বেশি এবং ভারতের আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদ প্রকাশ করে দেয়ার সক্ষমতা তাদের যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে, যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের অবস্থানকে আরও সংহত করবে।