আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

বিপদে ভারতের সেনাবাহিনী: সিকিউবি কারবাইন কেনার টেন্ডার বাতিল

NEWS ANALYSIS-ENG-01-10-2020

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সেনাবাহিনীর জন্য ৯৩,৮৯৫টি ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (সিকিউবি) কারবাইন আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, যেটা ভারতীয় সেনাবাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতাকে আরও পঙ্গু করে দেবে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দরকারি এই সিস্টেম ছাড়াই কাজ চালিয়ে আসছে সেনাবাহিনী। 

প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমারের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রকিউরমেন্ট বোর্ড (ডিপিবি) চলতি মাসের শুরুর দিকে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশান কাউন্সিলকে (ডিএসি) জানিয়েছে যে, তারা ৫.৫৬মিমি*৪৫মিমি সিকিউবি কারবাইনের ক্রয়ের টেন্ডার বাতিল করতে চায়। সংযুক্ত আরব আমীরাতের কারাসেল ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে ১১০ মিলিয়ন ডলারে এগুলো কেনার কথা ছিল। 

কারাসেলের কাছ থেকে সিএ ৮১৬ সিকিউবি কারবাইন কেনার বিষয়টি ২০১৮ সালেই চুড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় বাদ পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার থেলস। রিকোয়েস্ট ফর প্রস্তাব বা আরএফপি দেয়ার ১৭-১৮ মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ছিল, কারণ এটা ইস্যু করা হয়েছিল ২০১৮ সালের মার্চে। সেই অনুসারে ২০১৯ সালের আগস্টের মধ্যে কারবাইনগুলো সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সরবরাহের সময়ের পর ১৩ মাস পার হওয়ার পরে অজানা কারণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তি বাতিল করলো। 

সিএ ৮১৬ সিকিউবি কারবাইনগুলো দিয়ে সেনাবাহিনীর ৯মিমি স্টার্লিং ১এ১ সাবমেশিনগানগুলো বদলে ফেলার কথা, যেগুলো চল্লিশের দশকের অস্ত্র। সেই অনুসারে রাষ্ট্রায়ত্ব অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড এগুলো তৈরি করতে শুরু করেছিল, কিন্তু প্রায় দুই দশক আগে তাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। 

এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৫,০০০ সিকিউবি কারবাইন কেনার জন্য আরেকটি আরএফপি প্রস্তুত করছে। সম্ভাবনা রয়েছে যে, নতুন প্রণীত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশান প্রসিডিউর-২০২০ এর অধীনে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, এই অন্তর্বতীকালীণ সময়ে ৩৫,০০০ কারবাইনের জন্য সেনাবাহিনীর জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও সেটা শেষ হতে ২০২২ সাল হয়ে যাবে। এর কারণ হলো আগের সিএআর ৮১৬ ক্রয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে সিকিউবি কারবাইনের জন্য আরএফপি ইস্যু করা যাচ্ছে না। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষ হতেও কয়েক মাস লেগে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিএসি এটা চুড়ান্তভাবে বাতিল করবে, যারা আসলে এটার টেন্ডারের অনুমতি দিয়েছিল। 

সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কারবাইনের ঘাটতি বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। কারণ, কাশ্মীরে সেনা সদস্যদের মোতায়েনের মাত্রা অনেক গুন বেড়ে গেছে, যেখানে শীতের আগে পাকিস্তানের সামরিক অনুপ্রবেশের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। 

তাছাড়া বিতর্কিত পূর্ব লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল এলাকাতেও চীনের পিপলস লিবারেশান আর্মির বিপরীতে সেনা মোতায়েন অনেক বেড়ে গেছে। সেখানে কারবাইনের অভাবটা বোঝা গেছে, যেটা অভিযানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

এই মুহূর্তে কারবাইনের বিকল্প হিসেবে অ্যাসল্ট রাইফেলসহ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। অনেক সেনাই দাবি করেছেন যে, এতে অভিযানের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কাছাকাছি অবস্থানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অ্যাসল্ট রাইফেলের তুলনায় হালকা কারবাইন মোতায়েন করা সহজ। 

কারবাইনের ব্যারেলগুলো তুলনামূলক ছোট, এবং সীমিত জায়গার মধ্যে এটা ব্যবহার করা হলে অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো সেটা পাল্টা চাপ সৃষ্টি করে না। কাছাকাছি দূরত্ব থেকে এটা ব্যবহার করা যায় কারবাইনগুলো বর্ম এবং হেলমেটকে পর্যন্ত ভেদ করার সক্ষমতা রাখে। সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, এলএসি এলাকায় ভারতের ২০ সেনা নিহত হওয়ার পর সেখানে সামরিক বিনিময়ের যে নতুন নিয়ম করা হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে কারবাইন অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় কমান্ডারদের এই অধিকার দেয়া হয়েছে যে, পিএলএ’র যে কোন শত্রুতামূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে তারা পর্যাপ্ত ও আনুপাতিক জবাব দিতে পারবে, যে পরিস্থিতিতে কারবাইন যথেষ্ট কার্যকর হবে বলে সেনা সূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন।