আমরা লাইভে English শনিবার, মার্চ ০৬, ২০২১

আফগান শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে হামলার মাত্রা বেড়েছে

REPORT-3-ENG-19-09-2020-Pak

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর বিদ্রোহীদের হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। ফলে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, তাদের কর্মকাণ্ড আবার মাথাচাড়া দিতে পারে এবং আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তারা আবার তাদের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের মধ্যে ফিরে যেতে পারে। 

২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় যে সব বিদ্রোহীরা পালিয়ে এসেছিল, দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভয়ারণ্য ছিল এই জাতিগত পশতুনদের সীমান্ত অঞ্চল। কিন্তু ২০১৪ সালে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে তাদের শক্ত অবস্থান ভেঙ্গে দেয় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। অধিকাংশ গেরিলাদের এ সময় আফগানিস্তানে ভাগিয়ে দেয়া হয়। 

কিন্তু মার্চ মাস থেকে আল কায়েদার সাথে সম্পর্কিত পাকিস্তান তালেবানরা ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে। আফগান তালেবানরা যদি শান্তি চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে তাহলে আফগানিস্তানের ভেতরে তারা তাদের আশ্রয় হারাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের। সে কারণে তারা পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। 

সীমান্ত এলাকায় নিজেদের অবস্থানকে জোরদার করার জন্য পাকিস্তান তালেবান, বা তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান জুলাই মাসে আধা ডজন বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে জোট গড়ে। 

ইসলামাবাদ-ভিত্তিক এফএটিএ রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মনসুর খুন মাসুদ বলেন, “এই গ্রুপের সক্ষমতা ও সামরিক শক্তি বেড়েছে, এবং তাদের যোগাযোগও বেড়েছে”।

পুরো সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার পাশে বোমা পাতা থেকে শুরু করে স্নাইপারদের হামলা, অ্যামবুশ এবং সরকারকে সহযোগিতাকারী স্থানীয় অধিবাসীদের হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। 

মার্চ মাস থেকে বিদ্রোহীরা অন্তত ৪০ সেনাকে হত্যা করেছে। রয়টার্সের হিসেব ও সরকারী তথ্য মতে এটা জানা গেছে। 

এফএটিএ রিসার্চ সেন্টারের মতো, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ৬৭টি হামলা হয়েছে এবং হামলায় অন্তত ১০৯ জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৯ সালের সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ।

অপ্রত্যাশিত পরিণতি

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর পাকিস্তান অনেকটা বাধ্য হয়েই মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘সন্ত্রাসী বিরোধী যুদ্ধে’র সাথে সম্পৃক্ত হয়। তখন থেকেই পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলার মাত্রা বেড়ে যায়, যদিও বহু বছর ধরে আফগান তালেবানদের সমর্থন করে এসেছে পাকিস্তান। 

শিগগিরই পাকিস্তান সরকার দেখতে পায় যে, দেশের ভেতরের তালেবানদের হামলার শিকার হচ্ছে তারা। তবে ২০১৪ সালে সামরিক বাহিনী তাদেরকে আফগানিস্তানে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। 

লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে বহু মিলিয়ন মানুষ ঘরবাড়িহারা হয়েছে, এবং পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের সহিংসতা অনেকখানি কমে এসেছে। 

কিন্তু এখন একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পাকিস্তান তালেবানদের সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেলে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ার উপর তার একটা অপ্রত্যাশিত প্রভাব পড়তে পারে। 

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সহিংসতার নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি। তবে বাহিনীর মুখপাত্র টুইটারে সম্প্রতি বলেছেন যে, “আফগানিস্তান শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্যই এই হামলা করা হচ্ছে”।