আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, জুন ০৬, ২০২৩

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে চীনা বিনিয়োগ ভারতের জন্য আরেকটি আঘাত

ISSUE-3-ENG-08-07-2020-Pak

ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে পাকিস্তান ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন বিরোধপূর্ণ কাশ্মিরের পাকিস্তান-শাসিত অংশে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি ড্যাম নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বুধবার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও ইসলামাবাদে নিযুক্ত চীনা দূতকে নিয়ে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে একে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

দিয়ামের ভাষা মাল্টিপারপাস ড্যামটি ২০২৮ সালে শেষ হবে বলে আশা করা যায়। এতে মোট ব্যয় হবে ৮ বিলিয়ন ডলার। এতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট স্বল্পব্যয়ের ও দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ তৈরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইমরান খান বলেন, এটা হবে পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম ড্যাম। আর চীন এ পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি ড্যাম নির্মাণ করেছে, এগুলোর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হলো বড় ড্যাম।

উত্তর গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের ২৭২ মিটার উঁচু ড্যামটি প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন একর-ফুট পানি ধরে রাখতে পারবে। এটি চীন-পাকিস্তান সীমান্তের মাত্র ৪০০ কিলো মিটার দূরে।

আরও পড়ুনঃ চীনের সঙ্গে চুক্তি: নবজীবন পেলো পাকিস্তানে  ‘বেল্ট অ্যাণ্ড রোড’ প্রকল্প

কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের ফলে ১.২ একর জমিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, ১৬ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি করবে।

চীনের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত একটি কনসোর্টিয়াম ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বাণিজ্যিক শাখা প্রকল্পটি যথাক্রমে ৭০:৩০ ভাগ মালিকানার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করবে।

কাশ্মিরের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী ভারত বলছে, এটি তার ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

তবে পাকিস্তান ও চীনা সরকার ভারতীয় দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

সিপিইসির সহযোগিতা

ড্যামটি চলমান চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) অংশ নয়। অবশ্য সিপিইসি-তেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প আছে। 

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে দিয়ামের ভাসা ড্যামের নির্মাণকাজ শুরু

এদিকে গত দুই মাসে সিপিইসির আওতায় কাশ্মিরে দুটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বেইজিং ও ইসলামাবাদ ৪ বিলিয়ন ডলারের দুটি চুক্তিতে সই করেছে। এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১,৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়া প্রগ্রামের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি হলো ভারতের জন্য বড় একটি আঘাত।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে ভারত-চীন সম্পর্কে সৃষ্ট উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেবে।

কুগেলম্যান গত মাসে সীমান্তে চীনের সাথে সঙ্ঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। যেসব প্রকল্পে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ প্লান্ট, রাস্তা, রেললাইন, গোয়াদার বন্দর। চীনা ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রকল্পের ফলে স্থানীয়দের জন্য ৭৫ হাজার চাকরি সৃষ্টি হবে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।