আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, জুন ০৬, ২০২৩

কোভিড সহযোগিতা, কাশ্মীর নীতি: মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ

RTX70LEL

কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য পাকিস্তানকে ১০০টি মেডিকেল ভেন্টিলেটর দান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “মহামারী মোকাবেলায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছেন”।

২২০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ২২২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। চার মাস আগে এই রোগ চিহ্নিত করার পর থেকে প্রায় ৪,৬০০ জন এই রোগে মারা গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনলাইন ফোরামে বলেন, “বিশেষ করে কোভিড মোকাবেলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বদান্যতা দেখিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আসলে পাকিস্তানকে অগ্রাধিকার ১০টি দেশের মধ্যে রেখেছে”।

মহামারী মোকাবেলায় ইসলামাবাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ল্যাবরেটরি টেস্টিং, রোগ চিহ্নিতকরণ ও রোগির সেবার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ পর্যন্ত প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। 

মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য পাকিস্তান মেডিকেল সরঞ্জামাদি দিয়ে যে সাহায্য করেছে, সে জন্যেও আমরা কৃতজ্ঞ”।

দুর্লভ পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সরকার মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি পাঠায়। কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটনের সাথে বন্ধুত্ব ও সহমর্মীতার নিদর্শন হিসেবে এই উপহার পাঠানো হয়েছে। 

মার্কিন ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিকে দেয়া ওই উপহারের চালানের মধ্যে এক লক্ষ সুরক্ষা মাস্ক এবং ২৫,০০০ সুরক্ষা পোষাক ছিল। 

আরও পড়ুনঃ ৩ বিলিয়ন ডলারের আঞ্চলিক তহবিলে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন-পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে গত দুই বছরে তার দেশের যে অস্বস্তিকর ও অবিশ্বাসের সম্পর্ক চলে আসছিল, সেটার এখন যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। 

ওয়াশিংটনের সাথে ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুস্পষ্ট উন্নতির উৎস হলো প্রতিবেশী আফগানিস্তানে আমেরিকার দুই দশকের যুদ্ধের অবসানের জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা। 

২০১৯ সালের জুলাই মাসে হোয়াইট হাউজে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিনবার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এই বৈঠকগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলেছেন। একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাথে পাকিস্তানের কাশ্মীর বিবাদ মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। 

ওয়াশিংটন ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন আয়োজিত অনলাইন ফোরামে রাষ্ট্রদূত খান মঙ্গলবার বলেছেন যে, তার সরকার আশাবাদী যে, মার্কিন নির্বাচনের আগের মুহূর্তগুলো ট্রাম্প নিজেকে কাশ্মীরের কূটনীতির ব্যাপারে অন্তর্ভুক্ত করবেন। 

খান জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এখনও মনে করি যে, যদি কোন দেশ কোন পরিবর্তন আনতে পারে, ভারতকে হয়তো বোঝাতে পারে এবং তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে কিছুটা হলেও যৌক্তিকতা আনতে পারে, তাহলে সেটা হলো আমেরিকা এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট”।

ভারত অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নাকচ করে এসেছে। তারা বলেছে, কাশ্মীরের বিষয়টি পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয় এবং এখানে কোন তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। 

নিরাপত্তা লকডাউন

দুই পারমানবিক শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বি দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বিশেষ করে বেড়ে গেছে গত বছরের আগস্ট থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার এ সময় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলের সাংবিধানিক স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে এ অঞ্চলের উপর লকডাউন জারি করে। 

এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে একে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ। নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনায় কাশ্মীরকে বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং যে কোন দেশের জন্য একতরফাভাবে এর স্ট্যাটাস পরিবর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।