আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

চীন সফরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, নজর স্বাস্থ্য ও কৃষি সহযোগিতায়

পাকিস্তানের প্রসিডেন্ট আরিফ আলভি সোম থেকে মঙ্গলবার চীন সফর করছেন। এটিই তার প্রথম চীন সফর। পাকিস্তানকে চীনের করোনাভাইরাস ও পঙ্গপাল মোকাবিলায় সহায়তা করা ও চায়না-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রেসিডেন্টর এই সফরের লক্ষ্য।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে হয় আলভির এই সফর। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিঙ সোমবার এ কথা জানান।

এই সফরের লক্ষ্য হলো কোভিড-১৯ বিস্তার প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করায় চীনা প্রয়াসের প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, এই সফরের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে সই হবে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সহযোগিতাসহ বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক নথিতেও সই হতে পারে। 

আলভির সফরসঙ্গী পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আসাদ উমর সোমবার এক টুইটবার্তায় বলেন, মঙ্গলবার যেসব সমঝোতা স্মারকে সই হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সিপিইসির আওতায় নতুন কয়েকটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা।

কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সিপিইসির সম্প্রসারণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক আরো গভীর হচ্ছে। এটি পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীনা সম্পর্কের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হবে। গ্লোবাল টাইমসের কাছে এমনটাই অভিমত প্রকাশ করেছেন সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক ঝাও গ্যাঙচেং।

ঝাও বলেন, সিপিইসির আওতা সম্প্রসারণ প্রমাণ করেছে যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত ও স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

সিপিইসির আওতায় এক্সপ্রেসওয়ে ও বিদ্যুৎশক্তিভিত্তিক অনেক অবকাঠামো প্রকল্প গত ৫ বছরে শেষ হয়েছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান কোভিড-১৯ মহামারীর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পঙ্গপালের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার দরকার হয়ে পড়েছে।

চীনের কৃষিবিজ্ঞান, বিশেষ করে রোগবালাই দমনে ড্রোনের ব্যবহার ও করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে চীনা প্রযুক্তি সম্ভবত নতুন দুটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

বিশ্বের ২০ ভাগ লোকের বাস হলেও পাকিস্তানের স্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। করোনাভাইরাস যদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তবে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানও খুবই নাজুক অবস্থায় পড়ে যাবে।

কোভিড-১৯ দমনে চীনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শ্রদ্ধা লাভ করেছে। 

ইয়াও বলেন, কোভিড-১৯ ঠেকাতে চীন তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চায়। তারা পাকিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরো বাড়াতে চায়।

চীন দেশে যখন কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছিল, তখন দেশটি ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তানে পেস্টিসাইড ও স্প্রে মেশিনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদেরও পাঠিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পঙ্গপাল আক্রমণের মুখে রয়েছে। পাকিস্তানে কয়েক ব্যাচ কোভিড-১৯ টেস্ট কিটও পাঠিয়েছে চীন।

সিপিইসি প্রকল্পগুলো গত ৫ বছরে প্রত্যক্ষভাবে ৭৫ হাজার চাকরি সৃষ্টি করেছে এবং পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ২ ভাগ অবদান রেখেছে।