আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

সহিংস বিক্ষোভের জেরে টিএলপিকে নিষিদ্ধ করছে পাকিস্তান

xcf

পাকিস্তানে ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে ইসলামি দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)। এ সপ্তাহে দেশটির প্রধান কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে টিএলপি–সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর দিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ আহমেদ বলেন, ‘টিএলপিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। অনুমোদনের জন্য এ সিদ্ধান্তের খসড়া পার্লামেন্টে যাচ্ছে।’

গত সোমবার লাহোর থেকে টিএলপি–প্রধান আল্লামা সাদ হুসাইন রিজভিকে গ্রেপ্তারের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সে ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের ঘটনার জেরে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানান আল্লামা রিজভি। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ফ্রান্সে গত বছর ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পর থেকে বিক্ষোভ করে আসছে টিএলপি। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠানো ও দেশটি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে দলটি।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিএলপির এ দাবি ঝুঁকিপূর্ণ, যা বাইরের বিশ্বে পাকিস্তানকে ‘উগ্রবাদী জাতি’ হিসেবে তুলে ধরছে।

তবে টিএলপি জানায়, সরকার এবং দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিক্ষোভের ইতি টেনেছে তারা। তাদের দাবি, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারে সম্মত হয়েছে ইসলামাবাদ। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘৯/১১’–এর হামলার পর পাকিস্তান বেশ কিছু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। সে সময় দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল এবং উগ্রবাদ দমনে নানা অভিযান ও পদক্ষেপ নেয়। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন নির্বাচনে অংশ নেওয়া, অর্থ সংগ্রহ ও দলীয় কার্যালয় রাখার অধিকার হারায়।

গত ১৬ নভেম্বর টিএলপির সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের চুক্তি হয়। তাদের দাবি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য তিন মাস সময় নেয় সরকার। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সরকার জানায়, এ মুহূর্তে টিএলপির দাবি মানা সম্ভব নয় এবং এর জন্য আরও সময় দরকার। ফলে, টিএলপি তাদের দাবি মানার জন্য আরও আড়াই মাস সময় দেয় সরকারকে। ২০ এপ্রিল এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

গত রোববার সমর্থকদের উদ্দেশে একটি ভিডিওবার্তা দেন আল্লামা রিজভি। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে টিএলপি কর্মীদের লংমার্চের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন তিনি। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরকার। আলোচিত ধর্মীয় নেতা খাদিম হুসাইন রিজভির মৃত্যুর পর টিএলটির দায়িত্ব নেন আল্লামা রিজভি। ফ্রান্সবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভের পর মারা যান খাদিম রিজভি।