আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

বিশ্ব থেকে প্রতিবেশীদের নিঃসঙ্গ করার চেষ্টা করছে দিল্লি, বললেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা

REPORT-1-ENG-11-08-2020-BD

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ঘরোয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যবহারের জন্য একটি ছিটমহল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈশ্বিকব্যবস্থা থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিঃসঙ্গ করার চেষ্টা করে তার দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। বেশ কয়েকজন ভারতীয় পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনল পিসের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিনিয়র ফেলো অ্যাশলে জে তেলিস শনিবার ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বলেন, ভারত তার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রকল্পগুলো বাধাহীনভাবে এগুতে দেয়ার জন্য একটি ছিটমহল সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উপমহাদেশকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। 

অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কূটনীতিক সুরেন্দ্র কুমারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার আয়োজন করে ইন্দো-আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশন।

ভারতীয় বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা শশী থারুর বলেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ঔদ্ধত্য ও অদক্ষতার সমন্বয়ে প্রতিবেশী এলাকায় বৈরিতা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ বিপর্যস্ত করে ফেলেছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতার মারাত্মক অভাব রয়েছে। সরকার অভ্যন্তরীণ বিভক্তিসূচক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তার পররাষ্ট্রনীতিকে ব্যবহার করছে। এতে করে বহুত্ববাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সেক্যুলারবাদের মতো মূল জাতীয় মূল্যবোধগুলো থেকে দেশ সরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ভারতের এমন খারাপ অবস্থা আগে কখনোই ছিল না। বিশ্ব এখন ক্রমবর্ধমান হারে আমাদেরকে অসহিষ্ণু সংকীর্ণমনা জাতি হিসেবে দেখছে।

ভারতীয় শিক্ষাবিদ ও অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রতাপ ভানু মেহতা বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একক বৃহত্তম পরীক্ষা হলো কিভাবে সে তার প্রতিবেশীদের ব্যবস্থাপনা করছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের সাথে ক্ষমতাসীন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মোকাবেলা নিয়ে তিনি বলেন, সরকার সরল সত্যটাও বুঝতে পারছে না যে ভারত যদি স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের এলাকা না হয়, তবে এই উপমহাদেশের কোনো ভবিষ্যত থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা সার্বিকভাবে উপমহাদেশে প্রতিটি অযৌক্তিক মৌলবাদী প্রবণতাকে বৈধতা দিচ্ছি। এর চেয়ে বিপর্যয়কর পররাষ্ট্রনীতি আর হতে পারে না।

তিনি বলেন, ভারত সরকার তার ঘরোয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পররাষ্ট্রনীতির ব্যবস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে। আর তা অর্জন করা হচ্ছে প্রপাগান্ডা আর মিথ্যার মাধ্যমে। দেশের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, এতে করে দেশে সরকারের সমালোচনা করার জনগণের স্বাধীনতা হ্রাস পাচ্ছে।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সিএএ গ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের অস্বস্তির কথা উল্লেখ করে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শিবশঙ্কর মেনন জোর দিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ দলীয় উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পররাষ্ট্রনীতিকে ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত।