আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০

ভারতীয় ‘বিশেষ বাহিনীর’ নির্বাসিত তিব্বতীরা আসলে ঢাল মাত্র

REPORT-3-ENG-05-09-2020-SP (2)

চীন ও ভারতের সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট নজরে এসেছে, যে ইউনিটের সদস্যরা মূলত প্রবাসী তিব্বতীরা। কিছু ভারতীয় মিডিয়ার বিশ্বাস, এই ইউনিটটি একটি ‘অভিজাত ইউনিট’ এবং ভারতের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে এই ইউনিটটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রেখেছে। 

তবে চীনা বিশ্লেষকদের মতে, তথাকথিত এই স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সে (এসএফএফ) সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ এক হাজার জন এবং কোনভাবেই এটা ‘অভিজাত’ নয় এবং সীমান্ত সঙ্ঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদেরকে অনেকটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। 

সোমবার পাংগোং সো লেক এবং রেকিন মাউন্ডেট পাস এলাকায় চীনা সেনাদের সাথে নতুন করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর ভারতীয় মিডিয়া তিব্বতী সশস্ত্র ইউনিটের তিব্বতী সদস্যদের হতাহতের খবরটি অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে তাদের সেনারা আগ বাড়িয়ে চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়েছিল। 

এরপরও আরও পশ্চিমা মিডিয়ায় এসএফএফের ব্যাপারে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয় জাতিগত নির্বাসিত তিব্বতীরা চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহায্য করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। 

কিন্তু সিংগুয়া ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইন্সটিটিউটের গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর কিয়ান ফেং শুক্রবার গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, আগ বাড়িয়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সেখানে নির্বাসিত তিব্বতীদের ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ার ভাষ্য মতে, এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে এবং আরেক কমান্ডার আহত হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর অপ্রস্তুতির বিষয়টিও সেখানে বোঝা গেছে। 

কিয়ান বলেন, “একটা যুদ্ধ বহির্ভূত সামরিক অভিযানে একজনের মৃত্যু এবং আরও আহত হওয়ার বিষয়টি দিয়েই বোঝা যায় এসএফএফ ‘বিশেষ’ কিছু নয়, অভিজাত হওয়া তো দূরে থাক। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদেরকে শুধু অগ্রবর্তী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে”। 

ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রথম এসএফএফ গঠন করা হয়, কারণ নির্বাসিত তিব্বতীদের উচ্চ এলাকায় যুদ্ধের সক্ষমতা রয়েছে। কিয়ান বলেন, তাদেরকে পরে চীনা সামরিক বাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দাবৃত্তির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। 

বর্তমানে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এসএফএফের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে এবং তারা আর কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না। ইউনিটির সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। ইউনিটে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ এক হাজার জনের মতো নির্বাসিত তিব্বতী রয়েছে। 

কিয়ান বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী বিদেশী সেনাদের বিশ্বাস করে না। সে কারণে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে অধিকাংশ জাতিগত তিব্বতীদের অবস্থান নিম্ন পর্যায়ে। শুধুমাত্র জীবিকার প্রয়োজনেই তারা এই ইউনিটের সদস্য হয়ে থাকে।