আমরা লাইভে English বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

বাংলাদেশে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রস্তুত সৌদি আরব

সৌদি আরবের শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকাতে জয়েন্ট ইকোনমিক কাউন্সিলের যে দুই দিনের বৈঠক হয়েছে, সেটার প্রথম দিনে সৌদি আরবের ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক ডেপুটি মন্ত্রী মাহির আল-গাসিনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় সাতটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সৌদি আরামকো, এসিডাব্লিউএ পাওয়ার, হানি অ্যাণ্ড হেলথ, ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশান কম, আলজোমাই এনার্জি অ্যান্ড ওয়াটার কোম্পানি, আলবোয়ানি ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার, এবং রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ।

ইআরডি’র মধ্যপ্রাচ্য শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান ফয়সাল জাহুর অ্যারাব নিউজকে বলেন যে, সৌদি প্রতিনিধি দল একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করেছে, যেটা বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

তিনি বলেন, “জেইসি বৈঠকে বিনিয়োগ ইস্যুটি বিশেষ করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা একটা খসড়া চুক্তি তৈরি করেছি, যেটা বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করবে”। তিনি আরও বলেন যে, সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জনকল্যাণসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

জাহুর বলেন, “সৌদি আরবে যে সব বাংলাদেশী অভিবাসী মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন করা হয়”।

তিনি আরও বলেন যে, তালিকায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেটা আরও বেশি হতে পারে।

জাহুর বলেন, “সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে যে কোন অঙ্কের বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত কিন্তু সেটা নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা গ্রহণ করতে পারবে তার উপর”।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম অ্যারাব নিউজকে বলেন যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের আদর্শ অংশীদার।

তার মতে, “আমরা বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী কারণ তাদের বিপুল বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বড় বিনিয়োগকারীদেরকে এখানে নিয়ে আসা যারা কয়েকশ মিলিয়ন বা বিলিয়ন (ডলার) বিনিয়োগ করতে পারবে”।

ইসলাম আরও বলেন যে, বুধবার সরকার থেকে ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসায়ী উভয় ধরনের বিনিয়োগ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। প্রাইভেট খাতের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী যৌথ বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী।