আমরা লাইভে English রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০

শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টকে আইনি বিমুক্তি দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব

REPORT-4-ENG-05-09-2020-SL

প্রেসিডেন্টকে পূর্ণ আইনি বিমুক্তি দিয়ে শ্রীলঙ্কা সংবিধানের ২০তম সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কথা ১৯তম সংশোধনীতে রয়েছে তাও বাতিল করা হবে।

২০তম সংশোধনীর খসড়ার গেজেট প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। নতুন সংশোধনী সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীকে বাতিল করবে, যা ২০১৫ সালের পার্লামেন্টে পাস হয়েছিলো। ওই সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।

১৯৭৮ সালে দেশটিতে সর্বক্ষমতাময় নির্বাহী প্রেসিডেন্সি পদ্ধতি চালুর পর ১৯তম সংশোধনীকে সবচেয়ে প্রগতিশীল ও গনতন্ত্রমুখি সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছিলো।

এই সংশোধনীতে বিচার বিভাগ, পাবলিক সার্ভিস ও নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সরকারি প্রশাসনকে অনেকটা রাজনীতিমুক্ত করেছিলো।

কিন্তু ২০তম সংশোধনীতে ১৯তম সংশোধনী বাতিল করে প্রেসিডেন্টকে পূর্ণ আইনি বিমুক্তি দেয়া হয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী উদয় গাম্মানপিলা বলেন, গেজেটে ২০তম সংশোধনী বিতর্ক ও অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পেশ করার আগে এর খসড়াটি পর্যালোচনার জন্য তিন সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে।

তবে কোন আগ্রহী পক্ষ যদি সুপ্রিম কোর্টে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয় তাহলে পার্লামেন্টে উত্থাপনের আগে ছয় সপ্তাহ অতিবাহিত হতে পারে। 

২০তম সংশোধনীতে আরো কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবিধানিক পরিষদ (সিসি) বাতিল করে তার জায়গা সংসদীয় পরিষদ (পিসি) গঠন করার কথা বলা হয়েছে। পিসি’তে শুধু এমপিরা থাকতে পারবেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা থাকতে পারবেন না।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনসহ তিনটি স্বাধীন কমিশন বিলোপ করা হবে।

২০তম সংশোধনী অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নিজে সব কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন। তবে সেক্ষেত্রে তিনি সংসদীয় কমিশনের মতামত চাইতে পারেন।

১৯তম সংশোধনীতে এ ধরনের নিয়োগ দিতো সাংবিধানিক পরিষদ। 

গত মাসে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা ১৯তম সংশোধনী বাতিলের অঙ্গীকার করেছিলেন।