আমরা লাইভে English রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

বিতর্কিত এমসিসি কমপ্যাক্ট প্রশ্নে শ্রীলঙ্কার সাবেক পররাষ্ট্রসচিবের দৃষ্টিভঙ্গি

SAM SPECIAL-12-08-2020

ড. পালিথা কোহোনা ২০০৬-২০০৯ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রসচিব ছিলেন। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ছিলেন নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে শ্রীলঙ্কার স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি ২০১৩ সালে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ষষ্ট কমিটির (আইন) চেয়ারমান ছিলেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাতিসঙ্ঘ ট্রিটি সেকশনের প্রধান। 

গত ২৭ জুলাই মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন কমপ্যাক্ট (এমসিসি) নিয়ে শ্রীলঙ্কান প্রফেশনালস ন্যাশনাল ফ্রন্টনের আয়োজিত ‘এমসিসির ফলে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে হারাচ্ছি’ শীর্ষক সেমিনার উদ্বোধনের পর নিচের সাক্ষাতকারটি নেয়া হয়েছে। 

এসএএম: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রস্তাবিত এমসিসি কমপ্যাক্টের প্রকৃতি সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলবেন?

পিকে: মার্কিন কংগ্রেসের ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসি হলো দ্বিপক্ষীয় মার্কিন সহায়তার একটি ব্যবস্থা। বলা হয়ে থাকে, এটি পররাষ্ট্র দফতর ও ইউএসএইড থেকে আলাদা স্বাধীন একটি সংস্থা। তবে অনেক ভাষ্যকারই এই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করেছেন। বাস্তবে এমসিসি পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী (চেয়ার), অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, ইউএসএইড প্রশাসক, এমসিসির সিইও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেশে ও মার্কিন সিনেটের অনুমোদনক্রমে চারজন বেসরকারি খাতের সদস্য নিয়োগ লাভ করেন। মিলিনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেমনের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সিন কেয়ারনক্রস। ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি শপথ গ্রহণ করেন ২০১৯ সালের ২৪ জুন। তিনি একসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এস্টাবলিশমেন্টের পরামর্শ এমসিসির উপেক্ষা করা কঠিন। তারা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যই অনুসরণ করবে। অনেক ভাষ্যকার দ্ব্যর্থহীনভাবে এ কথাই বলছেন। 

এসএএম: কিন্তু দারিদ্র্য দূরিকরণই কি এমসিসির একমাত্র লক্ষ্য নয়?

পিকে: এটি এমসিসির দাবি করা মূল প্রতিশ্রুতি। অবশ্য অনেকেই বলে থাকেন যে এটা আসলে মার্কিন অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নীতির সাথে অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক, অবকাঠামো ও আর্থিক অবস্থাকে পুনর্গঠনের বিষয়। অনেকের মতে, এটা আসলে নব্যউদার পুঁজিবাদের অব্যাহত গভীর হওয়া ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার নতুন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। 

এসএএম: শ্রীলঙ্কায় এমসিসির প্রকল্পগুলো ছিল পরিবহন ও ভূমি জরিপ নিয়ে। এখানে কী বিপদ ছিল?

পিকে: পরিবহন প্রকল্পটিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স ও সংলগ্ন প্রদেশগুলোর মধ্যে আরো ভালো কানেকটিভিটির জন্য সেন্ট্রাল রিং রোডজুড়ে সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও পাবলিক বাস সিস্টেম আধুনিকায়নকেন্দ্রিক। ভূমি প্রকল্পটির লক্ষ্য একটি পারসেল ফ্যাব্রিক ম্যাপ তৈরী, রাষ্ট্রীয় ভূমির তালিকা প্রণয়ন, দলিল নিবন্ধন ডিজিটালকরণ, নির্দিষ্ট কিছু জেলায় সম্পত্তির মূল্যায়ন ডিজিটালকরণ, ভূমিনীতি ও আইনপ্রণয়ন প্রশ্নে সরকারি কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য ভূমি নীতি পরিষদ গঠন করা। এগুলো খুবই নিরীহ প্রকৃতির কাজ বলে মনে হয়। কিন্তু আসলে এগুলোর মাধ্যমে নানা ধরনের সার্বভৌম অধিকার একটি বিদেশী শক্তির কাছে প্রকাশ করে দেয়ার আশঙ্কা থাকে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের সাথে আপস করার শঙ্কা সৃষ্টি হয়। 

এসএএম: বর্তমান এমসিসি প্রস্তাব কখন চূড়ান্ত হয়েছিল?

পিকে: শ্রীলঙ্কার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে। শ্রীলঙ্কা কমপ্যাক্ট অনুমোদন করা হয়েছিল ২০১৯ সালের এপ্রিলে। আর তা করা হয়েছিল জাতির মনোজগতে ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টিকারী বিপর্যয়কর ইস্টার সানডে বোমা হামলার মাত্র কয়েক দিন পর। 

এসএএম: এটি কি প্রথম উপস্থাপন করা হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে?

পিকে: ওই সময় চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। কেবল ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল এমসিসি। তবে গত সরকারের আমলে তা আরো ব্যাপকভিত্তিকভাবে নতুন করে দাখিল করা হয়েছিল। 

এসএএম: এমসিসি চুক্তির প্রকৃতি কেমন?

পিকে: এমসিসি একটি চুক্তির মর্যাদাসম্পন্ন। আমি খসড়া কমপ্যাক্টের অনুচ্ছেদ ৬ এর ধারা ৬.৪-এর কথা বলছি। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মর্যাদা পায়, আন্তর্জাতিক আইনে এটি পরিচালিত হয়ে থাকে। এটি চুক্তি করার সক্ষমতাপূর্ণ দুই পক্ষের মধ্যকার চুক্তি। এর প্রস্তাবনায় বল হয়েছে যে এমসিসি কমপ্যাক্ট চুক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারি করপোরেশন এবং অর্থ ও গণযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যকার চুক্তি এটি। এতে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আইনগত অধিকার ও বাধ্যবাধকতার উল্লেখ রয়েছে। খসড়াতেই বলা হয়েছে যে এটি পরিচালিত হবে আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কমপ্যাক্ট ও এর সকল কার্যক্রম হবে শ্রীলঙ্কার আইনের ঊর্ধ্বে এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিকেরা কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির সময় তাদের দেশের আইন থেকে কোনো ধরনের সহায়তা কামনা করতে পারবে না। এমনকি এমসিসির মাধ্যমে কারো মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রেও তারা দেশীয় আইনের আশ্রয় নিতে পারবে না। অধিকন্তু, কমপ্যাক্ট যদি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তবে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। 

এসএএম: আপনি যে বিপদের কথা বললেন, তার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করবেন?

পিকে: যুক্তরাষ্ট্র ২০ বার চীনকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) নিয়ে গেছে এবং প্রতিবার জয়ী হয়েছে। বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে জয়ী হয়, বিশেষ করে ডব্লিউটিওতে চীনের বিরুদ্ধে। এটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পরিপন্থী: আমরা ডব্লিউটিওতে মামলায় হেরেছি, প্রায় সব মামলায় হেরে গেছি। 

মার্কিন কর্মকর্তারা ২০০৪ সালে প্রথম চীনের বিরুদ্ধে ডব্লিউটিওত মামলা করে। এরপর তারা ২০ বার জয়ী হয়েছে। একবারও হারেনি। তিনটি মামলা এখনো ঝুলছে। মূল কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অভিজ্ঞতা আছে এবং আমাদের বিপরীতে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের সামনে মামলায় লড়াই করার মতো ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

এসএএম: এমসিসি চুক্তি কত সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, কিভাবে তা বাতিল করা যাবে?

পিকে: মনে রাখতে হবে, এমসিসির বিধানগুলো খুবই সতর্কতার সাথে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সূর্যাস্ত ধারা (অনুচ্ছেদ ৭, ধারা ৭.৪) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োগ করার পর কমপ্যাক্ট ৫ বছরের জন্য বলবত থাকবে, যদি না তা ৫.১-এর বলে কোনো পক্ষ বাতিল না করে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করেই যেকোনো একটি পক্ষ কমপ্যাক্ট বাতিল করতে পারবে, এক মাসের নোটিশ দিয়ে। এমসিসিও কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করে কমপ্যাক্ট বা এমসিসি তহবিল বাতিল করে দিতে পারবে। তবে সরকারকে এর আগে ৩০ দিনের লিখিত নোটিশ দেবে। 

এসএএম: আসলেই কি কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করেই এটি বাতিল করা যাবে?

পিকে: মূলত যুক্তরাষ্ট্র তার ইচ্ছা অনুযায়ী এটি কোনো ব্যাখ্যা না করেই যেকোনো সময় বাতিল করে দিতে পারে। আর তারা যদি তা করে তবে আমরা মারত্মক বিপদে পড়ে যাব। 

এসএএম: কিন্তু শ্রীলঙ্কার তো একই অধিকার আছে। তাই না?

পিকে: তাত্ত্বিকভাবে শ্রীলঙ্কাও কমপ্যাক্ট বাতিল করতে পারে। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে বাস্তবতা। চুক্তি বাতিল করা মানে আমরা যুক্তরাষ্ট্র নামের একটি পরাশক্তিকে অসন্তুষ্ট করব। বৈশ্বিক শক্তির রাজনীতিতে বাস্তবতা হলো বাস্তব সীমাবদ্ধতা। বস্তুত যুক্তরাষ্ট্র ও এমসিসি কোনো কারণ না দেখিয়েই কমপ্যাক্ট বাতিল করে দিতে পারে। আর তারা দারিদ্র্য দূরিকরণ বা উন্নয়নের বর্ণিত লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কহীন কারণেও তা বাতিল করে দিতে পারে। 

এসএএম: আপনি কি কিছু উদাহরণ দিতে পারেন?

পিকে: মাদাগাস্কারে রাজনৈতিক কারণে চুক্তির তিন বছর পর তা বাতিল করা হয়েছে। ওই বিধান থাকার কারণে এমসিসি পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণে, সরকারের সাথে বনিবনা না হওয়াসহ, কমপ্যাক্ট বা এর তহবিল প্রদান বাতিল করে দিতে পারে। শ্রীলঙ্কাতেও এই ঝুঁকি আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এমসিসি তুচ্ছ রাজনৈতিক কারণেও সরে যেতে পারে। কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা না রেখেই তারা কাজটি করতে পারে। 

এসএএম: এই চুক্তি বা এ ধরনের চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে মিশে যায়?

পিকে: অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে রাজনৈতিক বিষয়গুলো কখনো খুব বেশি দূরে থাকে না। ২০০৭ সালে রাজনৈতিক কারণে তারা সরে গিয়েছিল। সুনামির পর ওই সময় প্রাথমিকভাবে এমসিসি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা সরকার ২ জানুয়ারি সিএফএ (সিসফায়ার এগ্রিমেন্ট) বাতিল করার পর ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত ব্ল্যাকের মাধ্যমে ডিপ্লোমেটিক ক্যাবল পাঠিয়ে বলেছিল যে শ্রীলঙ্কা এমসিসির জন্য উপযুক্ত নয়। শ্রীলঙ্কার ‘সহিংসতা বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার সমস্যার কারণে’ ওই সময় শ্রীলঙ্কার প্রতি সন্তুষ্ট ছিল না যুক্তরাষ্ট্র। আর শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেদন তৈরী করেছিল তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির আলোকে নয়। একটি খুবই সঙ্কটজনক সময়ে ঘরোয়া নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই শ্রীলঙ্কার ওপর ওই রাজনৈতিক চাপ দেয়া হচ্ছিল। উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে সামান্য কিছু অর্থের জন্য (বছরে ৯৫ মিলিয়ন ডলার) কোনো সরকারের পক্ষেই এ ধরনের বহিরাগত কোনো চাপ মেনে নেয়া সম্ভব নয়। 

এসএএম: এমসিসি কি যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো দায়মুক্তি দেয় এবং সব ধরনের দায়দায়িত্ব থেকে অব্যাহত দেয়?

পিকে: এমসিসি প্রকাশ্যভাবেই মার্কিন সরকারকে দায়মুক্তির ব্যবস্থা করে। এতে বলা হয়েছে, এমসিসি মার্কিন সরকারের করপোরেশন, তারা কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে কাজ করছে। এমসিসি, এর কর্মী ও ঠিকাদারদের কোনো কাজের জন্য দায়ী করা যায় না। কমপ্যাক্ট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোনো ক্ষতির মুখে পড়লে তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ আমেরিকান সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে না। 

এতে বলা হয়েছে, সরকার একমত হয়েছে যে এমসিসি ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা এমসিসির বর্তমান বা সাবেক সব কর্মকর্তা বা কর্মী বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার কমপ্যাক্টের আওতাভুক্ত কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট দাবি বা ক্ষতির জন্য শ্রীলঙ্কার সব আদালতের এখতিয়ার থেকে দায়মুক্তি সুবিধা পাবে। বস্তুত, এমসিসি এমন এক চুক্তি, যাতে কোনো ধরনের পরিতৃপ্তি পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এই চুক্তি অন্য সব চুক্তির চেয়ে ভিন্ন। এই চুক্তি পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক আইন দিয়ে। 

এসএএম: এই চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা কার আছে?

পিকে: কেবল রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান বা অর্থমন্ত্রী কিংবা ওই পর্যায়ের দায়িত্বশীল কেউ এটি বাতিল করতে পারেন। তবে যথার্থ ক্ষমতা নেই, এমন কোনো কর্মকর্তা বা মন্ত্রী তা বাতিল করতে পারেন না। অর্থাৎ যার হাতে ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ থাকবে কেবল তিনিই তা বাতিল করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম হলো, একবার চুক্তিবদ্ধ হলে পক্ষগুলোকে বিশ্বস্ততার সাথে তা পালন করতে হবে। দেশীয় আইনের সীমাবদ্ধতার কথা বলে বাস্তবায়নের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এ ব্যাপারে ভিয়েনা চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। 

এসএএম: এই চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হলে শ্রীলঙ্কার কী হবে?

পিকে: দেশীয় আইনের সীমাবদ্ধতা থাকলে প্রথম বিষয় হলো, চুক্তি না করা। আর যে কাজটি করা যেতে পারে তা হলো, দেশীয় আইনকে আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় আনা। সাধারণভাবে কাজটি করতে হবে চুক্তি সই করার আগেই। চুক্তি সই হওয়ার পর এমনকি সংবিধানের দোহাই দিয়েও তা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি লঙ্ঘন করা মানে আন্তর্জাতিক আইনের মুখোমুখি হওয়া। চুক্তি করার পরপরই তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। কোনো পক্ষ বাতিল না করা পর্যন্ত চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা থাকে। আর শ্রীলঙ্কা একবার চুক্তিতে সই করলে তা থেকে বের হয়ে যেতে পারে না। 

এসএএম: ভিয়েনা কনভেনশনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তাহলে কোথায় দাঁড়াচ্ছে?

পিকে: যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েনা কনভেনশন অন দি ল অব ট্রিটিজ (ভিসিএলটি) অনুমোদন করেনি বা এতে সই করেনি। শ্রীলঙ্কাও এতে সই করেনি। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ভিয়েনার বিধিবিধান প্রতিফলিত হয়। এমসিসি কমপ্যাক্ট হলে তা জাতিসঙ্ঘ সনদের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী জাতিসঙ্ঘে নিবন্ধিত হতে হয়। 

এসএএম: জাতিসঙ্ঘে নিবন্ধিত কোনো চুক্তি কি আইনগত দিক থেকে বেশি জোরদার হয়ে থাকে?

পিকে: ব্যাপকভাবে গৃহীত ধারণা হলো এই যে নিবন্ধিত হলে চুক্তির আইনি কাঠামো জোরদার হয় না। শ্রীলঙ্কা ৯০০-এর ওপর চুক্তি করেছে। ফলে এমসিসি জাতিসঙ্ঘে নিবন্ধিত কিনা তা দেখতে তেমন কোনো আগ্রহ নেই শ্রীলঙ্কার।