আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

‘আমরা মানুষের বিবেকের কড়া ধরে নাড়া দিচ্ছি, ইস্যুটাকে জাগিয়ে রাখছি এই আশায় যে একদিন পরিবর্তন হবে’

Interview- 2020-07-10 065951

আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ তাইওয়ানভিত্তিক ট্যাংগ ফাউন্ডেশন পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি(বেলা)। বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতে আইনী লড়াইয়ের ঝুঁকি, বাস্তবতা এবং অর্জন নিয়ে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান মনিটর’র সঙ্গে কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সাক্ষাকার নিয়েছেন শফিক রহমান। 

স্যাম: বেলা এবং আপনি এর আগে ম্যাগসাইসাইসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। বিশেষ কোন কাজের অবদান হিসেবে বা কোন ক্যাটাগরিতে এবারের পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে?  

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (রিজওয়ানা): বিশেষ কোন একটি কাজের জন্য নয়, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আমরা যেসব গবেষণা এবং জনস্বার্থমূলক মামলাগুলো করে থাকি সেগুলোর স্বীকৃতি হিসেবে বেলা’কে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

স্যাম: আইনের শাসন বলতে যা বুঝায় বাংলাদেশে সেটা কতটুকু প্রতিষ্ঠিত বলে আপনি মনে করেন?

রিজওয়ানা: একটি পুরস্কার যখন দেয়া হয় তখন এই জন্য দেয়া হয় যে- আপনি একটি চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে থেকে একটি বিষয়ে কিছু একটা অর্জন করতে পেরেছেন। ট্যাংগ ফাউন্ডেশনের মনে হয়েছে- বাংলাদেশে আইনের শাসনের ভিত্তিটা বেশ নড়বড়ে এবং সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের ব্যাপারেই জনগণের আস্থা নেই। আর্থা, বাংলাদেশে আইনের শাসনের অবস্থা ভালো সে জন্য পুরস্কারটা আসেনি। বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নিরলস ও ঐকান্তিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সে জন্য এই পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে।

স্যাম: বেলা কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে?

রিজওয়ানা: যেটুকুন কাজ করি সেটুকু স্বাধীনভাবে করতে পারছি। তবে দেশে যদি প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র থাকতো, কার্যকর একটি বিরোধী দল থাকতো, ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতো, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতো তাহলে আমি মনে করি কাজের সংখ্যা, ব্যাপ্তি, পরিধি ও গভীরতা আরও বিস্তৃত হতো। 

আমাদের কাজে অনেক ক্ষেত্রেই কায়েমী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় বা সরকারের কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। এখন দিন যতো যাচ্ছে সরকার যেটাকে উন্নয়ন বলছে সেই উন্নয়ন ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মত ব্যক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

lifts-Interview-Bangla-10 July 2020-1

একটা প্রতিকারহীনতা আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাস করেছে। যেমন: রামপাল বিদ্যু কেন্দ্র। সেখানে আমাদের মতামতকে দমিয়ে রাখাতে বল প্রয়োগ করা হয়েছে। বিতর্কিত ওই প্রকল্পটির বিরুদ্ধে মানুষ যখন মিছিল করে। তখন পুলিশ লাঠিপেটা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের পা ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে স্বাধীনতা উপভোগ করার এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আমার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব সেখানে অবশ্যই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। আমি বলবো- রাষ্ট্র অনেকাংশেই নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে না।

স্যাম: বেলা ১৯৯২ সাল থেকে কাজ করছে। অধিকার-সংবিধান থেকে শুরু করে দখল-দূষণের বিরুদ্ধে কাজের ব্যাপ্তি সংস্থাটির। বাংলাদেশে দীর্ঘ এই আইনী লড়াইয়ের প্রভাব কতটা পরেছে? 

রিজওয়ানা: এটা আসলে সময়-অসময়ের ওপর নির্ভর করছে। দেশের জেনারেল পলিটিক্যাল অর্ডার থেকে পরিবেশ আন্দোলকে আলাদা করে দেখতে পারবেন না। আমরা যখন কাজটা শুরু করেছিলাম সেই দশকটা অনেক বেশি উসাহব্যঞ্জক ছিল। তখন কোর্টে যেতাম খুব ভালো ভালো আদেশ পেতাম। আমরা একজন হয়তো বিচারপতি, একজন হয়তো আইজীবী কিন্তু উভয়েরই চেষ্টা ছিল ভালো একটা কিছু করার।

তার পরের ফেইসটাতে গণতন্ত্র সুসংহত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গণতন্ত্র সুসংহত না হয়ে তখনকার যাত্রা ছিল টু/থার্ড আর থ্রী/ফোর্থ মেজরিটির যাত্রা। ফলে যে দলগুলো ক্ষমতায় ছিল তারা সকল সেক্টরের ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করে। বিচার বিভাগের ওপর, পুলিশের ওপর, যে কমিশনগুলো আছে তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে দ্বিতীয় ফেইসটা দুটো কারণে চ্যালেঞ্জিং ছিল: একটা হচ্ছে গণতন্ত্রের আবহ বদলে যাচ্ছিলো। আরেকটা হচ্ছে- প্রথম ফেইসে দূষণকারীদের যতো সহজে মোকাবেলা করতে পেরেছেন, এই ফেইসে এসে তারা সংগঠিত হয়ে গেছে। তারা সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারও অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তখন তাদের সঙ্গে আমাদের যে লড়াইটা সেটা আইনের শাসনের লড়াইয়ের মতোন একটা লড়াইয়ে থাকেনি। আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার ওপর এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি এসেছে।

lift Bela_1-2

আর তৃতীয় ফেইসে এসে দেখতে পাচ্ছি, সরকার আর করপোরেশন একাকার হয়ে গেছে, আমরা কাউকে আলাদা করতে পারিনা। অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওপর। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতা, স্বকীয়তা বজায় রেখে কাজ করতে পারছেনা। এই ফেইসটা আমাদের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। আমরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। সেটা ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রে। দেখা যায়-প্রতিপক্ষ কোন একটি এজেন্সির সঙ্গে মিলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। আবার এনজিওদের নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারও এমন সব আইন করছে যেগুলো প্রয়োগ করে লাইসেন্স বাতিল, বোর্ড ক্যানসেলসহ সবকিছুই করতে পারে। তো ভিন্ন ভিন্ন ফেইসে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা আমাদের।

স্যাম: বেলা’র কাজের সাকসেসটা কোথায়? জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের বিরুদ্ধে আপনারা লড়াই করেছেন সেটি এখনও আছে। এখনও বুড়িগঙ্গা নদীর দখল-দূষণ দুটোই চলছে। অর্থা আপনাদের আন্দোলন চলছে, পাশাপাশি দখল-দূষণও চলছে। এগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন? 

রিজওয়ানা: আমি প্রশ্নটা যদি এভাবে করি- আমরা যে আন্দোলনটা করছি সেটা বন্ধ করে দেই এই যুক্তিতে যে সর্বোচ্চ আদালতের রায় নিয়ে এসেও সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না, কালকে থেকে আর কাজ করবো না। তাহলে পরিস্থিতি এখন যা আছে তার চেয়েও খারাপ হবে। কারণ কি জানেন? আমরা অব্যাহতভাবে মানুষের বিবেকের কড়া ধরে নাড়া দিচ্ছি, ইস্যুটাকে জাগিয়ে রাখছি এই আশায় যে একদিন পরিবর্তন হবে। এত বৈরী পরিবেশের মধ্যেও আমরা বেশ কয়েকটা হাউজিং প্রকল্প বাতিল করাতে পেরেছি, শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপুরণ আনতে পেরেছি। 

বিজিএমইএ ভবন আদালত ভাঙ্গতে বলেছে, ভবনটি ভাঙ্গার ক্ষমতা আমার নেই, ওটা আমার কাজও নয়। আমার কাজ হচ্ছে একজন ল’ইয়ার হিসেবে দেখানো যে- এই ভবনটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দেশের আইন ভেঙ্গে করা হয়েছে, এটাকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আদালত তাঁর ভূমিকা পালন করেছেন, এটাকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়ে। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার যদি বিজিএমইএ’র সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করে এটাকে ডিলে করে তাহলে আমাদের করার কি থাকে।

আমাদের সাফল্য হচ্ছে চরম বৈরী পরিবেশেও টিকে থাকা, আদালত ব্যবস্থার কাছে মানুষের ইন্টারেস্টগুলোকে রিপ্রেজেন্ট করার যে শক্তি ও সাহস আমরা রাখি সেটা এবং আমাদের কাজের ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট অনেক পরিবেশ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আমরা যদি আদালতে না যেতাম সেই আস্থা হয়তো একেবারেই শেষ হয়ে যেত। আর মানুষ বুঝেছে- পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ, এর সঙ্গে আমাদের অস্থিত্বের প্রশ্ন জড়িত। এটাওতো আমাদের একটা সাফল্য।

lifts-Interview-Bangla-10 July 2020-2

স্যাম: ট্যাংগ ফাউন্ডেশন এবার বেলার সঙ্গে লেবাননের প্রতিষ্ঠান ‘দ্য লিগ্যাল এজেন্ডা’ এবং কলম্বিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘দি জাস্টিসিয়া’কেও পুরস্কার দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আইনী আন্দোলনের আবেদন কতটা জোরালো বলে মনে করেন? বিশেষ করে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির বিষয়টি যেখানে এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

রিজওয়ানা: আমি মনেকরি অনেক জোড়ালো। সাউথ এশিয়ার এনভায়োরেনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স দেখেন সেখানে এই অঞ্চলের প্রত্যেকটা দেশ নিচের দিকে। করাপশন ইনডেক্স এবং প্রেস ফ্রীডম ইনডেক্সেও প্রত্যেকটা দেশ নিচের দিকে। সেক্ষেত্রে আইনের শাসনতো খুবই জরুরি। 

দক্ষিণ এশিয়াতে এই মুহূর্তে যে সমস্যাগুলো আপনি দেখেন ভারতের সঙ্গে নেপালের, ভারতের সঙ্গে চীনের, এখানেতো মারাত্মক গভর্নেন্স সমস্যা এবং বিশ্বাসহীনতা কাজ করছে। যেগুলো ওভার দ্যা ইয়ার ডেভলপ করেছে। আমরা সবসময়ই বলি- সিভিল সোসাইটির ভয়েস সরকারগুলো যদি শুনতো তাহলে এই পর্যায়ে যেতনা। ভারত এবং পাকিস্তানের সরকার একজন একজনের সঙ্গে কথা না বললেও ভারতের একজন সিভিল সোসাইটির মেম্বর আরেকজন পাকিস্তানের সিভিল সোসাইটির মেম্বরের সঙ্গে ঠিকই কথা বলেন। তাদের ভয়েসগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা যদি শুনতেন তাহলে আজকে ভারতের নদী মরতো না। বাংলাদেশের নদীও মরতো না। 

Lifts_bela_2-2

ফারাক্কা ব্যারেজের বিরোধিতা আমরা করেছিলাম বাংলাদেশের নদী মরে যাবে বলে, এখন ভারতেরও নদী মরে যাচ্ছে, ভারতও বন্যার মধ্যে পড়ছে। ফলে সব দেশের নদী বাঁচুক এটা আমরা চাই। আমরা ইকোসিস্টেম রক্ষার জন্য কথা বলি, যে আন্দোলনটা করি ইনহেরিটেন্টলী বিশ্বব্যাপী এর একটা আপিল আছে। 

টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি প্রতিবাদ শুরু করে। পরে ভারতের সিভিল সোসাইটিও আন্দোলন শুরু করে এবং বলতে শুরু করে- বাঁধ হলে ওই অঞ্চলের বন এলাকার ক্ষতি হবে। তাতে ভারত সরকার বাঁধ প্রকল্প থেকে ব্যাক ট্রাক করেছে। সো উই স্পিক দ্যা কমন ল্যাংগোয়েজ। উই ফলো দ্যা ল্যাংগোয়েজ অব দ্যা নেচার। 

আবার জাহাজ ভাঙ্গা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা, পাকিস্তানিরা এবং ভারতীয়রা এক সঙ্গেই আন্দোলন করে যাচ্ছি। কারণ- দক্ষিণ এশিয়া উন্নত দেশের বর্জ্যের ভাগার হতে পারেনা। 

তবে কিছু কিছু বিষয় যেমন, রামপাল বিদ্যু প্রকল্প খুবই রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ওই টুকুন একটা প্রকল্পে ভারতের জন্য এমন কিছু বিনিয়োগ না, বা এমন কিছু বিদ্যু এখানে উপাদিত হবে না যে এটা ছাড়া বাংলাদেশও চলবে না, ভারতের বিদ্যু সেক্টরও ভেঙ্গে পরবে। আমার কাছে মনে হয়েছে পুরো বিষয়টি পলিটিক্যাল হয়ে গেছে।

স্যাম: এ ধরনে আইনী আন্দোলনের দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক কোন আম্ব্রেলা বা মঞ্চ আছে কি? বা এর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা? 

রিজওয়ানা: কথাটা এভাবেই শুরু করা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল ইন্টিগ্রেশন এর সাথে দক্ষিণ এশিয়ার পলিটিক্যাল ইন্টিগ্রেশন চিন্তা করা যায় না। এখানে যদি পানি নিয়েও কথা বলেন, দেয়ার ইজ নো সাউথ এশিয়ান রিভার। যেমন, কোন নদী নেপাল, ভারত আমরা শেয়ার করি। কোনটা আমরা, ভারত, চীন শেয়ার করি। আবার কোনটা ভারত-পাকিস্তান শেয়ার করে। যখন এই ইস্যুগুলোকে মাল্টিলেটারাল করতে চাই বা ত্রিপাক্ষিক করতে চাই তখনই ভারত এর বিরোধিতা করে এই বলে যে- এগুলো হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। এগুলো সাউথ এশিয়ান ইস্যু নয়।

lifts-Interview-Bangla-10 July 2020-4

সাউথ এশিয়ান প্লাটফর্ম তো আছে, তারা মানবাধিকার, মানবপাচারসহ ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে কাজ করছে। কিন্তু পলিটিক্যাল ইন্টিগ্রেশনটা যেহেতু নেই, প্রায় সব দেশেই গণতন্ত্রের ভিত নড়বড়ে, ভারতে যাও গণতন্ত্র ছিল, সেটাও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। আমি মনে করিনা এটার ফিউচার খুব ব্রাইট হবে। তারপরও প্লাটফর্মের দরকার আছে। বাট দি স্ট্রেন্থ অব ইট অনলি দি ইউটিলাইজ দেয়ার ইস এ পলিটিক্যাল ইন্ট্রিগ্রেশন ফার্সট। অর অল্টানেটিভলি দিস অর্গানাইজেশন আস্ক ফর পলিটিক্যাল ইন্টিগ্রেশন।  

স্যাম: করোনার কারণে বিশ্বের অনেক কিছুই হয়তো পরিবর্তন হয়ে যাবে। পরিবর্তিত এই বিশ্ব বাস্তবতায় পরিবেশ বিষয়ক পলিসি রিফের্মের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে কি?  

রিজওয়ানা: কোভিডের ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল চেইঞ্জ আসাই উচিত মানুষের। এইবার আমরা প্রথম শুনেছি বলা হয়েছে- এক ইঞ্চি জমিও অনবাদি থাকবে না। আর কোভিড আসার আগে শুধু গল্প শুনেছি- আমাদের অনেক বেশি অর্থনৈতিক জোন লাগবে। বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করবে শিল্প প্রতিষ্ঠান চালাবে। অর্থা দূষণের একটা আখড়া দেশটাকে করার জন্য আমরা মোটামুটি প্রস্তুত ছিলাম এবং সমস্ত তিন ফসলী উন্নত জমিতে অর্থনৈতিক জোনগুলো করা হচ্ছে। কোভিড আসার পরে প্রথম মাথায় ঢুকছে- মানুষকে আমি খাওয়াবো কি? সেখান থেকেইতো নির্দেশনা আসছে যে-যতটুকু পারো চাষ করো। এখন ডিসিরা ধান কাটে, মন্ত্রীরা, এমপিরা ধান কাটে এমনতো হওয়ার কথা ছিলনা। 

এখনকার অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হবে- আমাদের প্রাইমারি ইনভেস্টমেন্ট যেতে হবে কৃষিতে, স্বাস্থ্যে এবং শিক্ষায়। প্রাইমারি ইনভেস্টমেন্ট আমাদের মেট্রোরেলে যাওয়ার কোন দরকার ছিলনা। বাস সার্ভিস উন্নত করলেই পারতাম। ওই যে চাপিয়ে দেয়া উন্নয়ন সেখান থেকে সরকার যদি সরে না আসে তাহলে বলতে হবে- সরকার কোভিডের থেকে কোন শিক্ষা নেয়নি। 

আমি মনে করি, কোভিড আমাদের শিক্ষা দিতে এসেছে। শিখবো কি শিখবোনা তা নির্ভর করে কোন দেশের পলিটিক্যাল এডুকেশন কতটুকু তার ওপরে। তবে রাষ্ট্রগুলো যদি নীতি পরিবর্তন করতে নাও চায়, উন্নয়নের মডেল পরিবর্তন করতে নাও চায় আমাদের মতো সামাজিক আন্দোলনগুলো কোভিডের যৌক্তিকতা থেকে অনেক বেশি শক্তি খুঁজে পাবে সরকারের সঙ্গে নেগোসিয়েশনে যাওয়ার।