আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

চীন-ভারত সংঘাতের মূলে মোদির টানেল

SAM SPECIAL-ENG-17-10-2020

বছরের পর বছর চীন তার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও জোরদার করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের (বিআরআই) অনেক আগেই বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকনমিক করিডোরের প্রস্তাব করা হয়। ভারত আগাগোড়াই নিস্পৃহ থাকায় এই করিডোর নির্মাণের কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি। 

পূর্ব এশিয়ায় সহযোগিতায় বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ভারতকে সঙ্গে নিতে জাপানকে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত এখন বাণিজ্য সংরক্ষণবাদে নিয়োজিত। ‘আসিয়ান+চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া’ সম্প্রসারিত হয়ে ‘আসিয়ান+চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারত’ হচ্ছিল। কিন্তু যখনই চুক্তি সইয়ের সময় ঘনিয়ে আসে, শেষ মুহূর্তে ভারত নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

চীন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকে বাণিজ্যিক বন্দর ও জাহাজ-ঘাট নির্মাণে সহযোগিতা করছে। ভারত বলছে এটা তাকে ঘিরে ফেলার জন্য চীনের ‘মুক্তার মালা’ কৌশল। চীন ‘বিআরআই’ প্রস্তাব করে এবং এতে ভারতের অংশগ্রহণ উপেক্ষা করতে পারতো। কিন্তু ভারতের সন্দেহ দূর করার জন্য তাকে এতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে ভারত বলে যে এটা হলো ‘সম্প্রসারণবাদ’।

বিআরআই উন্নয়ন আসলে বাণিজ্যিক আন্ত:বিনিময়ের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ। ‘বিআরআই’ কি? এই ধারণাটি এসেছে প্রাচীন ‘সিল্ক রুটের’ ধারণা থেকে, যার মানে ‘বাণিজ্য ও বন্ধুত্ব’, বাণিজ্য পথ নির্মাণের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু তৈরি। ‘আন্ত:সংযোগ’ মানে বাণিজ্যিক ‘চ্যানেলে’ সব দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা।

ভারতের অবকাঠামো সমস্যা গুরুতর। তারা যদি চীনের সঙ্গে সহযোগিতা করে তাহলে সুফল ছাড়া কুফল নেই। কিন্তু তারা কথিত ‘কৌশলগত স্বার্থে’ জাপানের কথিত ‘উচ্চমানের’ অবকাঠামোতে সহযোগিতা করছে এবং উচ্চগতির রেল প্রকল্প জাপানকে দিয়েছে উচ্চমূল্যে। তবে এটা খারাপ নয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত সবসময় অন্যের ক্ষতি করে এসেছে। এবার জাপান শিক্ষা পাবে। 

সম্প্রতি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ করেই ভারত ও চীনের মধ্যে একটি ‘হিমালয়ান সুরঙ্গ পথ’ উদ্বোধন করে এক ধরনের ‘জলঘোলা করার’ তৎপরতা শুরু করছেন। এই পথ ভারতের মূল ভূখণ্ড ও লাদাখের মধ্যে দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার বা ৪ ঘন্টা কমিয়ে দেবে। ৩,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় এই সুরঙ্গ অবস্থিত এবং এটা ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে। সীমান্ত এলাকায় যেতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এটা অন্যতম প্রধান রুট। ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘে্যর এই সুরঙ্গপথ নির্মাণে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং ১০ বছর লেগেছে। একে সবচেয়ে ‘দু:সাহসী ইঞ্জিনিয়ারিং কীর্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। 

ভারতীয় মিডিয়া এই সুরঙ্গপথ নিয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেক কথা বলছে। আমরা জানি, কিছুদিন আগেই সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতি হাতাহাতি সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘাত কি দুর্ঘটনাবশত? এই সুরঙ্গপথের কথা বিবেচনায় নিলে মনে হয় না সেটা দুর্ঘটনাবশত।

গত ১০ বছর চীন ও ভারত কি করেছে সেটা বিবেচনায় নেয়া যাক। এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণের পেছনে আমরা আমাদের সব প্রচেষ্টা নিয়োজিত করেছি। সীমান্ত অঞ্চলে এত সংখ্যক সড়ক, সেতু ও সুরঙ্গপথ নির্মাণ করা হচ্ছে যা আমি জীবনে কখনো দেখিনি। 

এখানে আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যে বার্তাটি দিতে চাই: চীনের বিআরআই উদ্যোগ হলো অভিন্ন সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য এবং এগুলো হলো বাণিজ্যিক পথ। অন্যদিকে আপনারা সামরিক রুট তৈরি করছেন বলে বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। যদিও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ভারতের সামরিক রুটগুলো শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক পথে পরিণত হবে। 


চেং শিঝোং সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্সের ভিজিটিং প্রফেসর, চারহার ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো, দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে, জাতিসংঘের সাবেক সিনিয়র সামরিক পর্যবেক্ষক