আমরা লাইভে English রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

করোনাভাইরাস রহস্য: দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এত কম কেন?

sa-brief-eng-04-05-2020-1
ত্রাণ গ্রহণের জন্য কলকাতার একটি বস্তির মানুষের লাইন

সাপ্তাহিক সাউথ এশিয়ান ব্রিফে স্বাগতম। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কেন এত কম, তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো আমরা। এর সাথে থাকবে আফগানিস্তানে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলা, শ্রীলঙ্কায় বাড়তে থাকা সাংবিধানিক সঙ্কট এবং বলিউডের দুই কিংবদন্তির মৃত্যু।

দক্ষিণ এশিয়ায় কেন করোনাভাইরাসে আরো বেশি সংক্রমণ হলো না?

আসুন আমরা বিষয়টি দেখি: প্রত্যেকেই আরো খারাপ কিছুর শঙ্কা করেছি। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ হাজারের মতো নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ছিল ১০ লাখের বেশি, স্পেন ও ইতালিতে দুই লাখের বেশি। আরেকভাবেই হিসাবটি করা যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলাতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ বাস করে। কিন্তু এখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মাত্র ২ ভাগ। কেন?

সংখ্যাটি বিশ্লেষণ করা যাক। দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যাটি কম হওয়াটা একটি ধাঁধা, বিশেষ করে যদি এখানকার লোকসংখ্যার ঘনত্ব ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করি। তাছাড়া পরীক্ষা করার সক্ষমতাই কতটুকু আছে? ভারত মাত্র ৮৩০,২০১টি পরীক্ষা করতে পেরেছে, অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখে ৬১৪টি। এটি হলো বিশ্বে সবচেয়ে কম পরীক্ষার হার। কম পরীক্ষার জন্য যদি ব্যাপক বিস্তারের চিত্র গোপন করে থাকে, তবে তা অন্যান্য উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে। ভারতে মাত্র চার ভাগ করোনাভাইরাস টেস্ট পজেটিভ এসেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে তা প্রায় ১৭ ভাগ। এতে বোঝা যায়, ভারতে ভাইরাসটি কম ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতে কেন বড় বাজি ধরছে ফেসবুক?

ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়াটা আরেকভাবে প্রকাশ পেতে পারত। তা হলো মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু এখানেও দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক কম লোক মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ৬০ হাজারের বেশি, অথচ ভারতে মাত্র ১,০৭৯ জন। তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারত। ভারতে মোট মৃত্যুর মাত্র এক পঞ্চমাংশের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সব মিলিয়েও যদি ধরি, তবুও সংখ্যাটি খুব বড় হয় না।

ভারতের ডাটাই যদি এই অঞ্চলের উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বলতে হবে যে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল ভাইরাসটি সংক্রমণ রোধ করতে পেরেছে কিংবা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে তা। দ্বিতীয়টির বেলায় বলা যায়, বর্তমান লকডাউন ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার হতে দেয়নি।

সফল পদক্ষেপ? দক্ষিণ এশিয়া সফল হয়েছে, আর পাশ্চাত্যের দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে? পাশ্চাত্যের চেয়ে কঠোর লকডাউন প্রয়োগ করেছে ভারত ও বাংলাদেশ। অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার দেশগুলো অনেক আগেই লকডাউন করেছে। পাকিস্তান ছাড়া এই অঞ্চলের অন্য সব দেশ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ফ্লাইটও বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান চীনের সাথে ফ্লাইট চালু রাখে।

কিন্তু তাও সংক্রমণের হার কম হওয়ার পুরো ব্যাখ্যা দেয় না। কারণ এমনকি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পরও অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ বেড়েছে। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বেশ কিছু ভুল করেছে। ভারত দেশব্যাপী লকডাউন জারি করেছিল কোনো নোটিশ না দিয়েই। এর ফলে লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক বাস্তুচ্যুত ও অসহায় হয়ে পড়ে। পুরো অঞ্চলেই ধর্মীয় গ্রুপগুলো মার্চ মাসের প্রথম দিকে সভা সমাবেশ করায় করোনাভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা দেয়।

তবে কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পেতে পারে এ জন্য যে তারা তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিন করতে সক্ষম হয়। আরেকটি তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে যে এই অঞ্চল অপেক্ষাকৃত তরুণ জনসংখ্যার কারণে সুবিধা পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের লোকদের গড় বয়স ২৮, অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যথাক্রমে ১৮, ২৬, ২৪। সেটা না হয় মানা গেল, কিন্তু এখানকার বয়স্ক লোকদের মধ্যে কেন সংক্রমণের হার কম?

অন্যান্য যুক্তিও ধোপে টেকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যক্ষ্মায় ব্যবহৃত ব্যাসিলিয়াস কামেটি গুইরিন ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের ব্যাপারে অব্যর্থ ওষুধ ভাবা যায় না। তাছাড়া উষ্ণতর আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস কম ছড়ায়, তাও প্রমাণিত নয়।

বিশ্বে যতক্ষণ পর্যন্ত না ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মহামারীটির অবসান হবে না। ফলে কোন দেশের কৌশল সফল, তা বলার সময় এখনো আসেনি। আর এখানেই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আসল সমস্যা নিহিত রয়েছে। এখানকার দেশগুলো ইতোমধ্যেই কিছু কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। ভারত সরকার দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে, এমনকি নির্মাণ, কৃষি, ম্যানুফেকচারিং কাজের অনুমতিও দিয়েছে। বাংলাদেশ কিছু পোশাক কারখানা খুলেছে। এসব কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।

শ্রীলঙ্কার সাংবিধানিক সঙ্কট। শ্রীলঙ্কার বিরোধী দল বলছে, সরকার যদি জরুরিভিত্তিতে পার্লামেন্টের সভা আয়োজন না করে তবে শুক্রবার থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় অবৈধ হয়ে যাবে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। এর আগে আইনপ্রণেতারা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের কারণে দেশব্যাপী নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দক্ষিণ এশিয়া

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলা। মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকা ও রমজান মাসের মধ্যেও আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলা চলছে। বুধবার কাবুলের কাছে এমন একটি হামলায় তিনজন নিহত হয়।

ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভারতকে বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি ভারতের আচরণ বিরূপ। ভারত সরকার অবশ্য একে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে অভিহিত করেছে।

অদ্ভুত ও সমাপ্তি

sa-brief-eng-04-05-2020-2
২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইরফান খান

বলিউডে মৃত্যু। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বলিউডে দুই খ্যাতিমান তারকার মারা যায়। তবে তাদের কেউই কোভিড-১৯-এ নয়। লাইফ অব পাই, স্লামডগ মিলিয়নিয়ার, দি লাঞ্চবক্সসহ বেশ কিছু ছবির জন্য খ্যাতিমান হয়ে আছেন ইরফান খান। তিনি মঙ্গলবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর লিউকেমিয়ার শিকার হয়ে ঋষি কাপুর পরলোকগমন করেন। ববি, ওম শান্তি ওম ইত্যাদি ছবির নায়কের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।