আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের সংবিধান পরিবর্তন চেষ্টা আদালতে চ্যালেঞ্জ

REOPORT-3-ENG-01-10-2020-SL (1)

শ্রীলংকার বর্তমান সরকার প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের যে চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনের শুনানী মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি ও সংগঠন এই পিটিশন দায়ের করে।

সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের বদলে প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা পুঞ্জিভুত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এতে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়। 

সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পিটিশন দাখিল করেছে প্রধান বিরোধী দল সামাগি জন বালাবেগায়া। এই দলের এমপি হর্ষ ডি সিলভা বলেন, প্রেসিডেন্টের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যখন তিনি নির্বাচিত হন তখন এটা ছিলো না। ক্ষমতা যদি কেন্দ্রিভুত করতে হয় তাহলে জনগণের অনুমতি চাইতে হবে।

গত মাসের গোড়ার দিকে রাজাপাকসা সরকার সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করে। এতে নির্বাচনের এক বছর পর যেকোন সময় পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষমতা লাভ করবেন প্রেসিডেন্ট। আগের সংবিধানে এই মেয়াদ ছিলো সাড়ে চার বছর।

আরো যাচাই-বাছাই

সংশোধনীতে সাংবিধানিক কাউন্সিলের জায়গায় সংসদীয় কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে, যা শুধু এমপিদের নিয়ে গঠিত হবে, সুশীল সমাজের কোন সদস্য থাকবে না। প্রেসিডেন্ট দেশের নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও অন্য পাঁচটি সাংবিধানিক সংস্থার সদস্যদের নির্বাচন করতে পারবেন। 

আপিলের একটি পক্ষ সেন্টার ফর পলিসি অলটারনেটিভ এক বিবৃতিতে বলে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে অধিকতর যাচাই-বাছাই ও আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ শ্রীলঙ্কার সাংবিধানিক গণতন্ত্রের উপর এর প্রভাব হবে গুরুতর। এটা আইনের শাসন মুছে ফেলবে. এবং নাগরিকদের সার্বভৌম অধিকার খর্ব করবে। 

গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা একটি সংখ্যালঘু সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং নিজের বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। ৫ আগস্ট পার্লামেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দার দল ব্যাপক জয় লাভ করে। 

পার্লামেন্টে সুপার মেজরিটি লাভের জন্য শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন ভাইদের ছোট কয়েকটি দল ও অন্যদের উপর নির্ভর করতে হবে।

নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের জন্য শ্রীলঙ্কার নতুন সরকার ইতোমধ্যে কমিটিও নিয়োগ করেছে।

সিপিএ’র বিবৃতিতে বলা হয়, আগস্টের নির্বাচনে সরকার যে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট পেয়েছে তা স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এই ম্যান্ডেটকে যা খুশি করার ব্যাঙ্ক চেক ভাবা ঠিক হবে না।