আমরা লাইভে English রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

আজও ‘স্বাধীনতার’ স্বপ্ন দেখে সিকিমের জাতীয়তাবাদীরা

লিপুলেখ সীমান্ত বিরোধ-পর্ব ২

TOP NEWS-ENG-19-05-2020
সিকিমের সম্রাট চোগিয়াল পালদেন থুনদুপ নামগিয়াল (বাঁয়ে) ও রানী হোপ কুক, ছবি: এসসিএমপি

নেপালের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিরোধ এমন এক সময় হাজির হলো যখন উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমের সীমান্তে চীনা টহল বাহিনীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ভারতীয় সেনারা। 

এর জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘উভয় পক্ষের আগ্রাসী মনোভাবকে’ দায়ি করলেও সিকিমের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এই রাজ্যে স্বাধীনতাপন্থী মনোভাবকে উষ্কে দিতে চায়।

এট ঠিক যে, সাবেক স্বাধীন রাজ্যটির অভিজাত ও ভদ্র শ্রেনীর লোকজন তাদের মনে এখনো এই ক্ষুদ্র হিমালয়ান রাজ্যের ইতিহাস লালন করেন। নামগিয়াল রাজবংশের চোগিয়ালরা তিনশ বছরের বেশি সময় দেশটি শাসন করেছেন। এখনো সিকিমের বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ১৯৭৫ সালে রাজ্যটিকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে তাদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ নেপাল-ভারত সম্পর্কের অবনতি, চীনের ভূমিকা কী?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিমের এক সাবেক আমলা বলেন, রাজতন্ত্রীরা এখনো একান্তে তাদের যুগের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি সাউথ এশিয়ান মনিটরকে বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেন এমন অনেকে আছেন সিকিমে। ভারতের সঙ্গে মিশে যাওয়াকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন। 

Lifts_Lead_19 May_ban_1

সিকিমের অভিজাত সম্প্রদ্রায় অত্যন্ত ধার্মিক এবং তারা সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতি লালন করেন। তাদের মুষ্টিমেয় কিছু সদস্য এই লেখককে একান্তে বলেছেন কীভাবে তারা এখনো চোগিয়ালের শাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছেন।

তাদের কেউ কেউ বলেন যে, ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর চোগিয়ালের শাসনের বিলুপ্তি ঘটতে পারে কিন্তু রাজতন্ত্রীরা মনে করেন এখনো চোগিয়ালের অস্তিত্ব রয়েছে। 

বিগত রাজার আমলে কর্মরত সিকিমের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সিকিমের স্বাধীনতার ব্যাপারে মানুষ এখনো গভীর আশা নিয়ে আছে। তারা মনে করে সিকিম সীমান্তের ওপারে তিব্বতের চুম্বি উপত্যকায় বসবাসরত তাদের আত্মীয়-স্বজনরা এ ব্যাপারে সোচ্চার হবে। চুম্বি উপত্যকার সঙ্গে সিকিমবাসীর বৈবাহিক ও অন্যান্য সূত্রে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় হিমালয়ের রাষ্ট্র নেপাল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিমের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক বলেন, সিকিমের জনগণের একটি অংশের মধ্যে সিকিমি জাতীয়তাবাদী মনোভাব প্রবল।

Lifts_Lead_19 May_ban_2

সাউথ এশিয়ান মনিটরকে তিনি বলেন, ভারত সরকার গত ৪৫ বছরে এই রাজ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে সিকিমি জাতীয়তাবাদের ভূতকে বোতলভর্তি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তলে  জাতীয়তাবাদী গ্রুপগুলো সক্রিয়। তারা শুধু অর্থসঙ্কটে পড়লে প্রকাশ্যে আসে। সাবেক জমিদার ভদ্রশ্রেনীর জন্য অর্থ একটি বড় সমস্যা। ভারতের সঙ্গে সিকিম মিশে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা ভারত সরকারের ঔদার্য্যে বিপুলভাবে লাভবান হয়েছে।

ওই সম্পাদক বলেন, সিকিমের জাতীয়তাবাদীরা চীনের অধীনে যেতে চায় না। তারা তাদের স্বাধীন দেশটি ফিরে পেতে চায়।