আমরা লাইভে English শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

কে হচ্ছেন বরিস জনসনের উত্তরসূরি?

5901
উপর সাড়ি থেকে, বাম থেকে ডানে- বেন ওয়ালেস, ঋষি সুনাক, পেনি মরডন্ট, সাজিদ জাভিদ, লিজ ট্রুস, জেরেমি হান্ট, নাদিম জাহাভি, সুয়েলা ব্রেভারম্যান, টম টুগেনডাট, স্টিভ বেকার এবং প্রীতি প্যাটেল। ছবি: ইউকে পার্লামেন্ট/ ভায়া দ্য গার্ডিয়ান

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তাই কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য নতুন মুখ খুঁজতে হবে এখন।

জনসনের স্থলাভিষিক্ত যিনি হবেন, তাকে টোরি এমপিদের আস্থা অর্জন করতে হবে। এ তালিকায় কারা আছেন তা নিয়ে এখন সবার আগ্রহ।

বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্ভাবনাময় কয়েকজন প্রার্থীর নাম। যদিও এদের বেশিরভাগ এখনো টোরি দলনেতা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেননি, তবে এ প্রতিযোগিতার দৌড়ে এরাই এগিয়ে রয়েছেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ওই প্রার্থীদের নাম ও তাদের বিশেষত্ব।

ঋষি সুনাক, সাবেক অর্থমন্ত্রী

২০১৫ সালে রিচমন্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার থেকে মেম্বার অভ পার্লামেন্ট (এমপি) নির্বাচিত হন ঋষি সুনাক। ২০২০ সালে অর্থমন্ত্রীর পদ পান তিনি। একসময় ভাবা হয়েছিল তিনি কনজার্ভেটিভ নেতা হিসেবে বরিস জনসনের জায়গা নেবেন।

তবে সুনাকের খ্যাতিতে কালিমা লাগে তার স্ত্রী'র কর ফাঁকি দেওয়া সংক্রান্ত ঘটনা, ও লকডাউনের নিয়ম ভেঙে তার নিজের জরিমানা দেওয়ার পর থেকে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ব্রিটিশ অর্থনীতিকে সতেজ রাখতে প্রচুর ব্যয়ের নীতি গ্রহণ করেছিলেন ঋষি। জনসনের মন্ত্রীসভা থেকে গণপদত্যাগের শুরুটা করেছিলেন তিনি এবং তার আরেক বন্ধু ও মন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।

লিজ ট্রুস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লিজ ট্রুস কনজারভেটিভ নেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ২০১০ সালে সাউথ ওয়েস্ট নরফোক থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি পদে আসীন ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব হিসেবে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনা চালিয়েছিলেন।

লিজ ট্রুস ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় নারী। সুনাক ও জাভিদ পদত্যাগ করার পর বরিস জনসনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।

সাজিদ জাভিদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়া জাভিদের পূর্বপুরুষ পাকিস্তান থেকে ব্রিটেনে এসেছিল। ২০১৯ সালে একবার কনজারভেটিভ নেতা হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন তিনি।

সেবার শেষ চারজন অব্দি পৌঁছাতে পারেন জাভিদ। পরে বরিস জনসনকে সমর্থন জানান তিনি। প্রথমে অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালে পুনরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। জনসনের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়ে আবারও পদত্যাগ করেছেন তিনি।

মাইকেল গোভ, সাবেক লেভেলিং আপ সেক্রেটারি

২০০৫ সালে সারি হিথ থেকে এমপি নির্বাচিত হন মাইকেল গোভ। ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, ও বরিস জনসনের শাসনামলে বিভিন্ন মন্ত্রিসভায় একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

গোভ ব্রিটেনের পরীক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। থেরেসা মে'র ব্রেক্সিট চুক্তিতে তিনি অন্যতম সমর্থক ছিলেন।

২০১৯ সালে কনজারভেটিভ লিডারশিপ ক্যাম্পেইনে বরিস জনসনের কাছে হারেন গোভ। জনসনকে পদত্যাগ করতে আহ্বান করায় গোভকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করেন জনসন।

নাদিম জাহাভি, নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী

ইরাকে জন্মগ্রহণ করেন নাদিম জাহাভি। সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় এলে তার পরিবারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়।

২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। টিকামন্ত্রী হিসেবে করোনা মহামারির সময় সাফল্যের পরিচয় দেন জাহাভি। এরপর পদোন্নতি পেয়ে শিক্ষামন্ত্রী হন তিনি।

জেরেমি হান্ট, এমপি

২০০৫ সালে কমন্স-এর এমপি নির্বাচিত হন জেরেমি জান্ট। ২০১০ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে সরকারে আগমন ঘটে তার। স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে নেতা নির্বাচনে জনসনের কাছে পরাজিত হয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন হান্ট। কমন্স হেলথ কমিটির চেয়ার হিসেবে পুরো মহামারির সময় জনসন সরকারের নীতির ওপর বিশেষ নজর ছিল তার।

সুয়েলা ব্রেভারম্যান, অ্যাটর্নি জেনারেল

২০১৫ থেকে এমপি পদে আছেন ব্রেভারম্যান। থেরেসা মে'র সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়া বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু মে'র চুক্তি পছন্দ না হওয়ায় পদত্যাগ করেন।

২০২০ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জিওফ্রে কক্স-এর স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক এ ব্যারিস্টার। বর্তমানে এ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ব্রেভারম্যান নিশ্চিত করেছেন টোরি দলের নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় তাকে দেখা যাবে। ধারাবাহিকভাবে একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করার পর জনসনকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।

পেনি মরডন্ট, মিনিস্টার অভ স্টেইট

২০১০ সালে পোর্টসমাউথ নর্থ থেকে এমপি নির্বাচিত হন মরডন্ট। ২০১৯ সালে ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।

ডেভিড ক্যামেরনের সময় সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মরডন্ট। কনজারভেটিভ দলের যুবশাখার প্রধান তিনি।

বেন ওয়ালেস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সাবেক সেনাসদস্য বেন ওয়ালেস ২০০৫ সালে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে বরিস জনসনের ব্যর্থ লিডারশিপ ক্যাম্পেইন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার পদ পান ওয়ালেস। সৈনিকজীবনে জার্মানি, সাইপ্রাস, বেলিজ, ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন বেন ওয়ালেস। উত্তর আয়ারল্যান্ডে আইআরএ-এর একটি বোমা হামলার পরিকল্পনা সফলভাবে নস্যাৎ করেন তিনি।

প্যারিস থেকে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃতদেহ আনার দায়িত্বে যেসব সেনাসদস্য শীর্ষভাগে ছিলেন, ওয়ালেস তাদের একজন।

টম টুগেনডাট, এমপি

২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হন টুগেনডাট। ইনিও একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ কনজারভেটিভ নেতা হিসেবে অনেক আগে থেকেই টুগেনডাটকে নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কমন্স ফরেইন অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

স্টিভ বেকার, এমপি

রয়্যাল এয়ারফোর্সে ১০ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হন স্টিভ বেকার।

২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর অন্যদের সঙ্গে মিলে বেকার কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেন নামক একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন। এ দলে ৫০ জন টোরি এমপি ছিলেন যারা ব্রিটেনের ইইউ সদস্যপদ নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার জন্য ডেভিড ক্যামেরনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন।

নতুন কনজার্ভেটিভ নেতা হওয়ার জন্য প্রার্থী হতে সহকর্মীরা তাকে 'সনির্বদ্ধ অনুরোধ' করেছেন বলে জানিয়েছেন বেকার।

প্রীতি প্যাটেল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রীতি প্যাটেল কনজারভেটিভ দলের জনসংযোগে অনেক বছর কাজ করেছেন। এ ছাড়া তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের জন্য লবিংয়ের কাজও করেছেন তিনি। ২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

থেরেসা মে'র ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের সঙ্গে অননুমোদিত সাক্ষাৎকারের দায়ে তাকে সে পদ ছাড়তে হয়।

প্যাটেল একবার বলেছিলেন কেবল বরিস জনসনই ব্রেক্সিট ও টোরি দলকে রক্ষা করতে পারবে। তবে এখন জনসনের পদত্যাগ আহ্বানকারী মন্ত্রীদের সঙ্গেই সুর মিলিয়েছেন তিনি।

এদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ারলেসকেই এখন পর্যন্ত বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ইউগভ-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, কনজারভেটিভ দলের ৭১৬ জন সদস্য বেন ওয়ালেসকে পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখতে চান। তার পেছনে রয়েছেন পেনি মরডন্ট ও ঋষি সুনাক।