আমরা লাইভে English মঙ্গলবার, জুন ০৬, ২০২৩

ফেসবুক বনাম কাশ্মির

ফেসবুক প্রায়ই ব্যবহারকারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক এর নীতিমালা বনাম এর শক্তিশালী স্টেকহোল্ডারদের খুশি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালেন্সশিটের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হিমশিম খায়।

সোমবার বিষয়টি আবারো দেখা গেল। ওই দিন কোম্পানিটি অধিকৃত কাশ্মিরে ভারতীয় নৃশংসতাকে তুলে ধরা পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের নিউজ বুলেটিনের লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেয়।

রেডিও পাকিস্তানের খবর অনুযায়ী, ফেসবুক মে মাস থেকে পিবিসিকে সতর্ক করে বার্তা পাঠাচ্ছিল যে তারা বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংস্থার প্রশ্নে কমিউটিনি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করছে।

কোম্পানির মুখপাত্র পরে পরিষ্কার করে জানান যে পর্যালোচনা করার জন্য ফেসবুক সাময়িকভাবে ফেসবুক লাইভ প্রচার বন্ধ রেখেছে।

অবশ্য ২০১৬ বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকেই ফেসবুক পরিকল্পিতভাবে কাশ্মির সঙ্কটের সাথে সম্পর্কিত খবর ও মতামত সেন্সর করে আসছে।

তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বলা যায়, এর জন্য দায়ী ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারত। প্রশ্ন হলো, কে সন্ত্রাসী আর কে স্বাধীনতা যোদ্ধা, কার সংগ্রাম বৈধ আর কারটা নয়। এগুলো এখন উচ্চতর মূল্যবোধ দিয়ে বিচার না করে বাজারের আকার ও সম্ভাবনার আলোকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এটাও সত্য যে ফেসবুক একটি বিশাল কাজ করার চেষ্টা করছে বিলিয়ন বিলিয়ন ব্যবহারকারীর রাজনৈতিক কার্যক্রমকে ব্যবস্থাপনা করে। ইতিহাসে কোনো কালেই কোনো প্রতিষ্ঠান এত বিশাল কাজ সামাল দেয়নি। তবে ফেসবুক কাজটি করছে দুর্বল হাতে।

সামাজিক নেটওয়ার্কটি তার কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করবে- এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর টুইটারও সেন্সরশিপ প্রশ্নে একই পথ অনুসরণ করবে তাও মনে করা যায়। ফলে সার্বিকভাবে ইন্টারনেট তাদের হাতেই থাকছে যাদের হাতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা।

ফলে কাশ্মিরি ও যারা তাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে, তাদের জন্য বর্তমান অবয়বের সামাজিক মাধ্যমে আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সহযোগী ফিরদৌদ আশিক আওয়ানের পরামর্শ হলো এই যে এসব সামাজিক মাধ্যমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়া বন্ধ করার কথাটি যতটা বোকামিপূর্ণ শোনায়, আসলে তা নয়। ইন্টারনেট এখনো অনিশ্চয়তাপূর্ণ; কোম্পানিগুলোর উত্থান-পতন ঘটে, এবং ফেসবুজ, টুইটার ও ইউটিউব যদি তাদের ব্যবহারকারীরা যতটা চায় ততটা স্বাধীনতা না দেয়, তবে তারা অন্যত্র যাবে। প্লাটফর্মগুলোকে এই মৌলিক বিষয়টি দেরি হওয়ার আগেই বুঝতে হবে।