আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, মে ০৬, ২০২১

খাসোগি হত্যার প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাইডেন-সালমান ফোনালাপ হতে পারে

prothomalo-bangla_2021-02_9dbf66d0-9a7f-4d5a-96f9-9dea64cb4ef8_Untitled_11

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আজ বুধবার সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানকে ফোন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, সৌদির বাদশাহকে ফোন করার পরিকল্পনা আছে বাইডেনের। আজ বুধবার এই ফোনালাপ হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আগে দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ হতে যাচ্ছে।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ফোনকলটি যদি হয়, তবে তা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের সঙ্গে সৌদির বাদশাহ সালমানের প্রথম ফোনালাপ।

গত ২০ জানুয়ারি বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে বাইডেন এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলেননি।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জানান, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে সৌদি আরবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমমর্যাদার ব্যক্তি দেশটির বাদশাহ সালমান। তাঁর সঙ্গে যথাসময়ে বাইডেনের কথা হবে। তবে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করার কোনো পরিকল্পনা বাইডেনের নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদির বাদশাহর মধ্যে ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিকসহ বিভিন্ন ইস্যু আলোচিত হতে পারে। তবে তাঁদের মধ্যকার ফোনালাপে যা-ই উঠে আসুক না কেন, তাতে ছায়া ফেলতে পারে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিতব্য মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের দপ্তর। প্রতিবেদনটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হতে পারে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তিনি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হয়। হত্যার পর পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নেও এই বিষয়টি উঠে আসে। সৌদির যুবরাজ এই হত্যায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে সৌদির শাসক হিসেবে তিনি এই হত্যার দায় এড়াতে পারেন না বলে স্বীকার করেন।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচার চলাকালে বাইডেন অভিযোগ করেছিলেন, সৌদির যুবরাজের নির্দেশেই খাসোগি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পূর্বসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যেমনটা ছিল, বাইডেনের সময় ঠিক তেমনটা থাকছে না। এই সম্পর্কে পরিবর্তন আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।