আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

ফাঁস হওয়া সেই গোপন সাক্ষাৎকার নিয়ে মুখ খুললেন জাভেদ জারিফ

image-417907-1620030465

ফাঁস হয়ে যাওয়া গোপন সাক্ষাৎকার নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। ওই সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতার ভাষণকে মাথা পেতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে দেওয়া এক পোস্টে জাভেদ জারিফ লেখেন— সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য অতীতের যে কোনো সময়ের মতো আমার ও আমার সহকর্মীদের জন্য শেষ কথা। এই ভাষণের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত সব বিতর্কের অবসান হয়েছে।

ফাঁস হয়ে যাওয়া অডিও টেপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে হতাশা প্রকাশ করে বলতে শোনা গেছে যে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে দেশটির রেভলিউশনারি গার্ডস বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এবং রাশিয়ার নির্দেশে এই বাহিনীই ইরানকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছে।

ফাঁস হওয়ার পর এই টেপ নিয়ে তুমুল হইচই চলছে। সামাজিকমাধ্যমে এই বক্তব্য ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি করার পাশাপাশি অনেককে হতভম্বও করেছে।

জারিফ বলেন, দেশের শত্রুরা আমার এমন একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে, তার বিন্দুবিসর্গও প্রকাশ করার কথা ছিল না এবং প্রকাশ করার লক্ষ্যে সাক্ষাৎকারটি রেকর্ডও করা হয়নি। তার পরও আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত ওই সাক্ষাৎকার সর্বোচ্চ নেতাকে মনোক্ষুণ্ন করেছে বলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ এখন থেকে আমি নিজে ও আমার সহকর্মীরা ইরানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিটি দিকনির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।

তিন ঘণ্টার এই অডিও টেপটি বিবিসি এবং বিদেশে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাত ঘণ্টা লম্বা একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে এই অডিও নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রুহানির ক্ষমতার দুই মেয়াদকালের একটি মৌখিক ইতিহাস ধরে রাখার একটি প্রকল্পের অংশ হিসাবে দুই মাসেরও বেশি সময় আগে ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল।

টেপটিতে জারিফকে দুবার বলতে শোনা যায় যে, তার মন্তব্য বহু বছর পর্যন্ত কেউ শুনতে পাবে না বা কেউ তা ছাপাবেও না।

তাকে বারবার অভিযোগ করতে শোনা যায় যে, রেভলিউশনারি গার্ডস কূটনীতি এবং ইরানের পররাষ্ট্রনীতিকে সিরিয়ার রণাঙ্গনে তাদের প্রয়োজনীয়তার একটা অংশ করে তুলেছে।

রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। 

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি ওই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে না। প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের জন্য একটি উচ্চতর কর্তৃপক্ষ থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে নীতি বাস্তবায়ন করে মাত্র। আমাদের দেশে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই নীতিনির্ধারণ করে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নিজস্ব পদ্ধতিতে তা বাস্তবায়ন করে।