আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

কানাডার পুরনো আদিবাসী স্কুলে মিলেছে ৭৫১টি কবর

Screenshot 2021-06-25 092131

কানাডার সাসকাচেওয়ান প্রদেশের পুরনো একটি আদিবাসী আবাসিক স্কুলে ৭৫১টি কোনও চিহ্ন না থাকা কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাওয়েসসেস ফার্স্ট নেশন নামে একটি আদিবাসী গ্রুপ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বুধবার গ্রুপটি বিপুল পরিমাণ কবর পাওয়ার কথা জানায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত মাসে কানাডার একটি পুরনো আবাসিক স্কুলের ভবন থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কামলুপস এলাকায় এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এসব শিশু আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান বলে জানা যায়। ওই স্কুলটি ১৯৭৮ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাসকাচেওয়ান প্রদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কাওয়েসসেস এলাকায় যেখানে এসব কবর পাওয়া গেছে সেখানে মেরিয়েভাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ছিলো। ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত স্কুলটি চালু ছিলো। কবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার কাওয়েসসেস ফার্স্ট নেশনের প্রধান ক্যাডমাস ডেলোরমি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সহানুভূতি চাইছি না, কিন্তু বোঝাপড়া করতে বলছি।’

১৯ ও ২০তম শতাব্দীতে আদিবাসী শিশুদের সভ্য করে তোলার নামে পরিচালিত হতো ১৩০টিরও বেশি আবাসিক স্কুল। কানাডার সরকার ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এসব স্কুল পরিচালনা করতো। এসব স্কুলে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ছিলো। গত মাসে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় আদিবাসী শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার পর সাসকাচেওয়ান প্রদেশের পুরনো এসব স্কুলের কবর শনাক্তের উদ্যোগ নেয় কাওয়েসসেস ফার্স্ট নেশন।

ধারণা করা হয়ে থাকে এসব স্কুলে থাকার সময়ে প্রায় ছয় হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। এর বড় কারণ আবাসিক স্কুলগুলোর অব্যবস্থাপনা। স্কুল কর্তৃপক্ষের শারিরীক এবং যৌন নিপীড়নের কথাও জানা যায়। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পালিয়েও যায়।

এসব স্কুলের এক পুরনো শিক্ষার্থী ফ্লোরেন্স স্পারভিয়ার বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করিয়ে ছাড়তো আমাদের আত্মা বলে কিছু নেই। তারা আমাদের মানুষের চেয়ে খাটো করে দেখাতো, ফলে আমরা শিখেছিলাম আমরা যেমন আছি সেটা মানুষের জীবন নয়।’

উল্লেখ্য, ১৮৬৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক আদিবাসী শিশুকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে এসব আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়। এসব শিশুদের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি চর্চার অনুমতি ছিলো না। অনেক শিশুই নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়।

এসব স্কুলের প্রভাব খতিয়ে দেখতে ২০০৮ সালে গঠন করা একটি কমিশনের প্রতিবেদনে জানা যায়, আবাসিক স্কুলে যাওয়া লাখ লাখ শিশু আর কখনওই নিজ বাড়িতে ফেরেনি। ওই প্রতিবেদনের পর এই ব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করে কানাডা।