আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

করোনার টিকা নিয়ে রাশিয়া মিথ্যা ছড়াচ্ছে: ব্রিটিশ সেনাপ্রধান

Screenshot 2020-10-01 135818
ব্রিটিশ সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার।রয়টার্স ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে রাশিয়া সারা বিশ্বে গুজব ছড়াচ্ছে, এ অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার। গতকাল বুধবার দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

নিক কার্টার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়া টিকা নিয়ে নানা ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় রাশিয়া।

গতকাল যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক বক্তব্যে এ কথা বলেন জেনারেল কার্টার।

জেনারেল কার্টার শুধু রাশিয়াকেই নয়, করোনার টিকা নিয়ে প্রচারণার (প্রপাগান্ডা) জন্য চীনকেও অভিযুক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই দুই দেশ ‘রাজনৈতিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে করোনার টিকা নিয়ে এই আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে সংহতি নষ্ট করা।

ব্রিটিশ সেনাপ্রধান ‘একনায়ক’ প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তথ্যের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ করেন। সেনাপ্রধান বলেন, কোভিড-১৯ সংকট নিয়ে কৌশলগত জয়ের জন্যই টিকা নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

সেনাপ্রধান কার্টার বলেন, মিথ্যা তথ্যের এই প্রচারণার লক্ষ্য টিকাবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সক্রিয় করা। এ ক্ষেত্রে তিনি টিকা নিয়ে গত জুলাইয়ে ইউক্রেন থেকে প্রচারিত একটি ভুয়া খবরের কথা উল্লেখ করেন। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা এই তথ্য উন্মোচন করেন।

জুলাইয়ে রাশিয়াপন্থী স্বঘোষিত রাষ্ট্র লুহানস্কের একটি ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়। যেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে। আর এ সময় টিকা গ্রহণকারী কয়েক স্বেচ্ছাসেবী মারা গেছেন।

আদতে এ ধরনের টিকার ট্রায়াল হয়নি। কিন্তু বিশ্বের নানা ভাষায় এই উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়ে।

কার্টার বলেন, এ ঘটনা ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদের একটি উদাহরণ।

গতকাল কার্টার যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস।

কার্টার গতকাল চীনকেও ছাড় দেননি। তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি অনলাইনে নজরদারি বাড়াচ্ছে।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে প্রচারণা ও মিথ্যা তথ্য রোধ করতে ‘৭৭ ব্রিগেড’ নামে একটি ইউনিট করেছে।

কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য অভিযোগ করেছিল, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকাররা তাঁদের দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন পরীক্ষাগারের তথ্য চুরির চেষ্টা করছে। এসব পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরি হচ্ছিল।