আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, মে ০৬, ২০২১

ন্যাটোকে শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে রাশিয়া

putin-4

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোকে নিজের শক্তির জোর দেখাতে চাইছে রাশিয়া। তাই এবার নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে রাশিয়া ক্রিমিয়া উপত্যকায়  সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে চলেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিমিয়া উপত্যকার ‘উপুক’ অঞ্চলে এক সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ওই মহড়াতে এয়ারবোর্ন, প্যারাট্রুপার এবং আর্টিলারি বাহিনি অংশ নেবে। এতে রাশিয়ার ছত্রীসেনারা অপরিচিত স্থানে কেমন ভাবে অবতরণ করেন সেই কসরত দেখাবেন। এর পাশাপাশি তারা কল্পিত শত্রুসেনাদের অস্ত্রসস্ত্র কেমন করে দখল করে নিজেদের  জায়গায় ফিরে যাবেন সেটাও তুলে ধরা হবে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়াতে তিন হাজারের বেশি ছত্রীসেনা ও সামরিক বাহিনির প্রায় ২০০ ইউনিট অংশ গ্রহণ করবে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগো কয়েকদিন আগেই অভিযোগ করে ছিলেন, লক্ষ্য করা গিয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির বিমান সেনারা সম্প্রতি রুশ আকাশসীমার আশপাশে তাদের গতিবিধি বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা রাশিয়ার বিভিন্ন অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মহড়া চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যে আবার ক্রিমিয়া উপত্যকায় সামরিক মহড়া করার কথা ঘোষণা করল মস্কো।

রাশিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকবার এমন অভিযোগ করেছে , করোনাভাইরাসের প্রকোপ সত্ত্বেও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি তাদের সামরিক মহড়া বৃদ্ধি করেছে আর যেটার মূল লক্ষ্য হল রাশিয়া। রাশিয়ার উপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ন্যাটো সম্প্রতি নরওয়েতে অবস্থিতি ‘গ্লোবস-৩’ রাডার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে বলেও পশ্চিমা গণমাধ্যমে সংবাদে উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে রাশিয়া ও ইরানে মধ্যে যৌথ নৌ-মহড়া শুরু হতে দেখা গিয়েছিল। ওই মহড়ার নাম রাখা হয়েছিল ‘দ্যা মেরিন সিকিউরিটি বেল্ট এক্সারসাইজ’।মহড়ায় যোগ দিতে এসেছিল  রাশিয়া থেকে একটি ধ্বংসকারী, একটি রসদবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং হেলিকপ্টার । তখন ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গোলাম রেজা তাহানি  জানিয়েছিলেন, ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে ১৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে এবং শান্তি এবং বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে ইরান ও রাশিয়া উভয় দেশ ওই নৌ মহড়া শুরু করছে।