আমরা লাইভে English শনিবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০২১

সাবমেরিন: উত্তর কোরিয়াা বলছে অকাস চুক্তি 'পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা'র সূচনা করবে

_120623898_gettyimages-842418008 (1)

আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি অকাসের নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলছে এই চুক্তি "পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা"র সূচনা করবে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন অকাস চুক্তি "এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট করবে"।

এই চুক্তির অধীনে আমেরিকা এবং ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়াকে পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন তৈরির প্রযুক্তি দেবে।

এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবেলার একটা প্রচেষ্টা হিসাবে।

'অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা'

অকাস চুক্তি ঘোষণা করা হয় গত সপ্তাহে এবং বলা হয় এই চুক্তিতে ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

"এটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং বিপদজনক একটা পদক্ষেপ, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কৌশলগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এর ফলে একটা ধারাবাহিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হবে," এই নিরপত্তা চুক্তি বিষয়ে মন্তব্য করেন গণ প্রজাতন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে, উত্তর কোরিয়া দুটি বড় ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এর একটি ছিল দূর-পাল্লার ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যটি ছিল একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

চীনও এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন এই জোট ওই এলাকায় "আঞ্চলিক শান্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার...এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করার" ঝুঁকি তৈরি করেছে।

'চীনের নিন্দা খুবই স্বাভাবিক'

পিয়ংইয়ং বলছে এটা "খুবই স্বাভাবিক যে চীনের মত প্রতিবেশি দেশগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে, কারণ এই পদক্ষেপ এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীন একটা সিদ্ধান্ত।"

এই চুক্তির মাধ্যমে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম বারের মত আমেরিকা তাদের ডুবোজাহাজ প্রযুক্তি অন্য দেশের সাথে শেয়ার করছে। এর আগে মাত্র একবার আমেরিকা এই প্রযুক্তি ব্রিটেনের সাথে শেয়ার করেছিল।

_120627085__120627349_nuclear_submarines_english_640-2x-nc-002

এই অকাস চুক্তির অর্থ হল অস্ট্রেলিয়া নিজেরা পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন তৈরি করতে পারবে যা হবে অনেক দ্রুত গতিসম্পন্ন। এছাড়াও সাবেকী ধরনের সাবমেরিনের মত এগুলোর উপস্থিতি সহজে নির্ণয় করা যাবে না। এধরনের ডুবোজাহজ বহু মাস ধরে পানির নিচে ডুবে থাকতে পারবে এবং দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে পারবে। তবে অস্ট্রেলিয়া বলছে এই সাবমেরিনে কোনরকম পারমাণবিক অস্ত্র বহন করার কোন আকাঙ্ক্ষা তাদের নেই।

এই নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণার সময় সরাসরি চীনের কোন উল্লেখ করা হয়নি। তবে চুক্তির অংশ তিনটি দেশের নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বারবার উল্লেখ করে বলেছেন এই উদ্বেগ "ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে"।

উত্তর কোরিয়া এর আগে ফ্রান্সের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ টানে যাতে ফ্রান্স এই চুক্তিকে "পিঠে ছুরি মারা' বলে উল্লেখ করে এবং বলে এই চুক্তি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে "একটা গুরুতর সঙ্কট" সৃষ্টি করবে।

ফ্রান্স অকাস চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেছে কারণ এর ফলে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, যে চুক্তি অনুযায়ী ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১২টি সাবেকী ধরনের সাবমেরিন তৈরির কথা ছিল।

ফ্রান্স বলছে এই চুক্তির প্রকাশ্য ঘোষণা দেবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়। ।